অরুন নাথ,পটিয়া(চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা:
শ্রী শ্রী চন্ডীতীর্থ মেধস মুনির আশ্রম বাংলাদেশের অন্যতম একটি প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক হিন্দু তীর্থস্থান।
বোয়ালখালীর করলডেঙ্গা পাহাড় উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।সেখানে স্হিত মেধস মুনির আশ্রম।
প্রায় ৬৮ একর পাহাড়ি জায়গা জুড়ে এই আশ্রম বিস্তৃত।
দুর্গাপূজার উৎপওিস্হল হিসেবে খ্যাত স্হান সনাতন ধর্মীয় আখ্যান ও পুরাণ অনুযায়ী,রাজা সুরথ এবং বৈশ্য সমাধি এখানে প্রথম দুর্গাপূজার আয়োজন করেছিলেন।দেবীর মর্ত্যে অবতীর্ণ হওয়ার প্রথম স্থান হিসেবে এটি পরিচিত।
প্রায় ১৩৩ বছর আগে বেদানন্দ স্বামী তাঁর দৈবক্ষমতা ও শাস্ত্র অধ্যয়নের মাধ্যমে করলডেঙ্গা পাহাড়ে এই আশ্রমকে শনাক্ত করেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী গানপাউডার ও কামানের গোলা নিক্ষেপ করে আশ্রমটি ধ্বংস করে দেয়।পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে পাথরের মূর্তি স্থাপনের মাধ্যমে এটি পুনর্নির্মাণ করা হয়।
আশ্রমের সিঁড়ি ও পথ প্রধান ফটক থেকে প্রায় ১৪০টির বেশি সিঁড়ির ধাপ বেয়ে উপরে উঠতে হয়।
সেখানে চণ্ডী মন্দির,শিব মন্দির,সীতা মন্দির, কামাখ্যা মন্দির ও তারা কালী মন্দিরসহ মোট ১০টি মন্দির রয়েছে।
এছাড়া পবিত্র সীতার পুকুর,ঝরনা এবং সাধু-সন্ত ও পুণ্যার্থীদের থাকার জন্য দোতলা বিশ্রামাগার বা ভবন রয়েছে।
প্রতিবছর শুভ মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমে দেবীপক্ষের সূচনা হয় এবং হাজার হাজার ভক্ত সমবেত হন।
শনিবার(১০ অক্টোবর) প্রতিবছরের ন্যায় এবারো হাজারো ধর্মপ্রান ভক্তদের উপস্হিতে দিনব্যাপী অনুষ্টান পূজা,অর্চনা ও মহতী শ্রীশ্রী চন্ডীযজ্ঞ অনুষ্টিত হয়েছে।
আশ্রমের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ দীপানন্দ ব্রহ্মচারীর পুরোহিত্যে অনুষ্টানে উপস্হিত ছিলেন শ্রীমৎ স্বামী বিবেকানন্দ পুরী মহারাজ,স্বামী রামানন্দ পুরী,স্বামী পরিতোষান্দ গিরি,স্বামী প্রসিদ্ধানন্দ সরস্বতী,স্বামী কৃৃষ্ণানন্দ পুরী,শ্রীমৎ দিব চৈতন্য,শ্রীমৎ উমেশ্বরানন্দ,শ্রীমৎ প্রকাশ চৈতন্য,বোয়াখালী থানা প্রসাসনের ওসি তদন্ত নুরুল আলম,আহল্লা করলডেঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান হামিদুল হক মান্নান,প্যানেল চেয়ারম্যান যথাক্রমে মুহাম্মদ হাসান চৌধুরী,সাদিয়া এমদাদ,সমাজসেবক নিপুল দে,দক্ষিন জেলা পূজা উদযাপন পরিষদ সাধারন সম্পাদক রুবেল দে,যুগ্ম সাধারন সম্পাদক আশীষ দে,চট্টগ্রাম মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদ সাধারন সম্পাদক সুগ্রীব মজুমদার,পটিয়া উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান ঐক্য পরিষদ সাধারন সম্পাদক তাপস দেসহ বোয়াখালী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদ নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য অনুষ্টান শেষে আনন্দবাজারে মহাপ্রসাদ বিতরন হয়েছে।