—তরুন বিশ্বাস,কলকাতা—
শব্দের মায়া,কবিতার আবেগ আর কণ্ঠের শৈল্পিক প্রকাশ এই ত্রিবেণি সঙ্গমে বাংলা আবৃত্তির এক মনোগ্রাহী আসর হয়ে উঠল ‘আবৃত্তিদ্বীপ’-এর নবম নিবেদন। একক,দ্বৈত ও সমবেত আবৃত্তির বৈচিত্র্যময় পরিবেশনায় কবিতাপ্রেমীদের কাছে বাংলা সাহিত্যের নানা অনুভব ও অনুষঙ্গ তুলে ধরলেন শিল্পীরা। ৩০ অক্টোবর শুক্রবার ২০২৬ মানিকতলা রামমোহন লাইব্রেরির তৃতীয় তলায় রায়া দেবনাথ হলে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের মূল সুর ছিল—বাংলা কাব্যসমুদ্রে একটি ছোট ভূখণ্ড’। শরৎ ও হেমন্তের প্রকৃতি,শিউলির স্নিগ্ধতা,কাশফুলের দোলা আর ঋতুবদলের মায়াময় আবেশ যেন মিশে গিয়েছিল সমগ্র আয়োজনের ভাবনায়। কবিতার পঙ্ক্তিতে পঙ্ক্তিতে ধরা পড়ে অনুভূতির নানা রং, আর শিল্পীদের কণ্ঠে তা পায় স্বতন্ত্র মাত্রা। প্রিয়াংকা, নীলেশ,পারভিন,প্রণব,রাখী ও ঋতুপর্ণার পরিবেশনা অনুষ্ঠানে এনে দেয় বৈচিত্র্য। কখনও একক কণ্ঠে নিবিড় আবেগের প্রকাশ,কখনও দুই কণ্ঠের মেলবন্ধন,আবার কখনও সমবেত উচ্চারণে কবিতার অন্তর্নিহিত সুর সব মিলিয়ে শ্রোতাদের সামনে উন্মোচিত হয় আবৃত্তিশিল্পের নানা দিক। আয়োজকদের অন্যতম প্রণব সরকার জানান আবৃত্তি শুধু কবিতার পঙ্ক্তি উচ্চারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় শব্দের অন্তর্নিহিত ভাব এবং আবৃত্তিকারের নিজস্ব উপলব্ধিকে কণ্ঠের মাধ্যমে শ্রোতার হৃদয়ে পৌঁছে দেওয়াই এই শিল্পের প্রকৃত সার্থকতা। বাংলা কবিতার বিপুল ঐশ্বর্যকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা এবং কবিতার সঙ্গে মানুষের আত্মিক সংযোগ আরও নিবিড় করাই‘আবৃত্তিদ্বীপ ’এর অন্যতম লক্ষ্য।
বিনোদনের চেনা পরিসর ছাড়িয়ে কবিতা ও উচ্চারণের শিল্পকে কেন্দ্র করে এমন উদ্যোগ বাংলা সংস্কৃতিচর্চায় নতুন আগ্রহ সঞ্চার করে। ‘আবৃত্তিদ্বীপ’-এর নবম নিবেদনও সেই ধারাকে আরও সমৃদ্ধ করার বার্তা দিল কবিতা শুধু পাঠের বিষয় নয়,অনুভবেরও এক অনন্য ভাষা।