আনোয়ারা ( চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি
আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক রঘুপতি সেনের পারিবারিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে চট্টগ্রাম ১৩ আসনের সাংসদ আলহাজ্ব সরওয়ার জামাল নিজাম এমপির। যেটি আগামীকাল শুক্রবার ১৬ ই অক্টোবর বিকেল ৫ টায় রঘুপতি সেনের নিজ বাড়ি চাতরী ইউনিয়নের কৈনপুরা গ্রামে অনুষ্ঠিত হবে। নেপাল মন্জু ফাউন্ডেশনের আলোকায়ন প্রকল্পের শুভ উদ্ভোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠান। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহিন উদ্দিন, সহকারী কমিশনার ভূমি আবু জাফর মজুমদার, থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ জুনায়েত চৌধুরী সহ আরো অনেকের।
আর এটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ২০২৩ সালে ঘোষিত আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামীলীগের পূর্নাঙ্গ কমিটিতে রঘুপতি সেনকে তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সাবেক ভূমি মন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের অনুসারী হিসেবে তিনি পরিচিত ছিলেন। এছাড়া সাবেক ভূমি মন্ত্রীর এপিএস রিদুয়ানুল করিম সায়েমের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা ও জমি জমি ক্রয়ের তথ্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে এসেছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর আনোয়ারা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। পরে অনেক নেতা গ্রেফতার হয়। রঘুপতি সেনও গ্রেফতার হয় এবং পরে জামিনে বের হয়ে আসে।
আওয়ামী লীগ নেতা রঘুপতি সেনের পারিবারিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সাংসদ আলহাজ্ব সরওয়ার জামাল নিজাম উপস্থিত থাকার খবর প্রচারিত হওয়ার পরপরই এটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকে এটা নিয়ে রসাত্মক আলোচনাও করছে। তাদের প্রশ্ন, পদধারী আওয়ামীলীগের নেতার পারিবারিক অনুষ্ঠানে যদি স্থানীয় সাংসদ উপস্থিত থাকতে পারে তাহলে সাধারণ নিরীহ কর্মীরা কেন এলাকা ছেড়ে পলাতক জীবনযাপন করবে? এটা যদি সম্প্রতির রাজনৈতিক কোন কাজ হয়ে থাকে তাহলে আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনের সাধারণ নেতাকর্মীরা তাদের পরিবারের কাছে ফিরে এসে তারা তাদের স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে অসুবিধা কি? অনেকের প্রশ্ন, এটি যদি সম্প্রতির কোন রাজনৈতিক সৌন্দর্য বা চর্চা না হয়ে থাকে তাহলে এই সমঝোতার পিছনে কি লুকিয়ে থাকতে পারে।