সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বেণিয়াটোলা দুর্গোৎসব সমিতির ৮২ তম বর্ষে অকাল বোধন ‌উৎসব সম্পন্ন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত ‘মিস্টার বাদল’, সেরা পরিচালকের স্বীকৃতি আশরাফুজ্জামানের ইয়াবা সেবন অবস্থায় মোবাইল কোর্টের হাতে ‎আটক ১, অর্থদন্ড ও কারাদন্ড ক্যান্সারের বিরুদ্ধে লড়াই করে অতুন বাঁচতে চাই আপনাদের সহযোগিতায় দক্ষিণ নালাপাড়া সর্বজনীন দুর্গাপূজা উদযাপন পরিষদ গঠিত অলকেশ পাল সভাপতি, গৌতম দে সম্পাদক চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পাইপ দিয়ে খালে ফেলা হচ্ছিল বর্জ্য ও বিষাক্ত গ্যাস, অর্ধলক্ষ টাকা জরিমানা পটিয়ার চক্রশালা লোকনাথ সেবাশ্রমে মহাযোগী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬ তম আবির্ভাব দিবস পালিত চন্দনাইশে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালিত নবাবগঞ্জ থানা বার্ষিক পরিদর্শন করলেন এসপি জেদান আল মুসা পিপিএম ডিজিটাল সেবায় তরুণদের নিয়ে নতুন সম্ভাবনা, উদ্যোক্তা তানবীন ফারুক

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত ‘মিস্টার বাদল’, সেরা পরিচালকের স্বীকৃতি আশরাফুজ্জামানের

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে

মো আবদুল করিম সোহাগ -ঢাকা

একটি গল্পকে শুধু বলা নয়, সেটিকে নিজের নির্মাণভাষায় দর্শকের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন নির্মাতা আশরাফুজ্জামান। তাঁর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ‘মিস্টার বাদল’ এবার জায়গা করে নিয়েছে আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে। সুইডেনের সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল স্টকহোম ২০২৬-এ ‘বেস্ট ডিরেক্টর’ বিভাগে বিজয়ী হয়েছেন আশরাফুজ্জামান। একই সঙ্গে কানাডার ১১তম কানাডা ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল-এ অফিসিয়াল সিলেকশন পেয়েছে চলচ্চিত্রটি।

‘মিস্টার বাদল’-এর অন্যতম শক্তিশালী দিক এর চিত্রনাট্য। গল্পটি সরল পথে এগিয়ে না গিয়ে বিভিন্ন সময়, সম্পর্ক ও আবেগের স্তর অতিক্রম করে সামনে এগিয়েছে। কমেডি, প্রেম, স্মৃতি, বিচ্ছেদ এবং নস্টালজিয়াকে একসঙ্গে ধরে রাখার চেষ্টা করেছেন আশরাফুজ্জামান। গল্পের একাধিক ক্লাইম্যাক্স এবং চরিত্রের পরিবর্তন দর্শককে কাহিনির পরবর্তী মোড় সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলে।

চিত্রনাট্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্রটির নির্মাণশৈলীতেও আশরাফুজ্জামানের নিজস্বতার ছাপ রয়েছে। দৃশ্যের আবহ, চরিত্রের মানসিক পরিবর্তন এবং গল্পের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে ক্যামেরা, সম্পাদনা, আলো ও রঙের ব্যবহারের মাধ্যমে আলাদা মাত্রা দেওয়ার চেষ্টা দেখা যায়। বিশেষ করে গল্পের আবেগের সঙ্গে ভিজ্যুয়াল ভাষাকে মিলিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নির্মাণে গুরুত্ব পেয়েছে।

‘মিস্টার বাদল’-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রে জিয়াউল হক পলাশের অভিনয় চলচ্চিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ। ‘বাদল’ চরিত্রটি একমাত্রিক নয়—কখনো হাস্যরসাত্মক, কখনো আবেগপ্রবণ, আবার কখনো সম্পর্ক ও জীবনের জটিলতায় আটকে পড়া একজন মানুষ হিসেবে তাকে দেখা যায়। পলাশ চরিত্রটির এই পরিবর্তনগুলো স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়ের মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন। বিশেষ করে কমেডি ও আবেগঘন দৃশ্যের মধ্যে তাঁর অভিনয়ের ভারসাম্য দর্শকের নজর কেড়েছে।

অন্যদিকে পারসা ইভানার ‘রিতা’ চরিত্রের উপস্থিতি গল্পে নতুন গতি তৈরি করেছে। চলচ্চিত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে তাঁর আগমন কাহিনির আবেগ ও সম্পর্কের সমীকরণে পরিবর্তন আনে। ইভানার অভিনয়ে চরিত্রটির আবেগ, ব্যক্তিত্ব ও সংলাপ বলার ধরন আলাদা করে দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। তাঁর একটি সংলাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকে ছড়িয়ে পড়াও চরিত্রটির জনপ্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।

জিয়াউল হক পলাশ ও পারসা ইভানার অভিনয়ের পাশাপাশি সৈয়দ জামান শাওনের চরিত্রটিও গল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ভাই হিসেবে তাঁর উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বাদলের জীবনের অতীত, স্মৃতি ও সম্পর্কের অনেক অধ্যায় উন্মোচিত হয়। ফলে ব্যক্তিগত সম্পর্কের গল্পটি ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে স্মৃতি ও সময়েরও গল্প।

সুলতান এন্টারটেইনমেন্টের ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পাওয়া ‘মিস্টার বাদল’-এ আরও অভিনয় করেছেন নিকিতা সাহা, আবু হেনা রনি, খায়রুল আলম টিপুসহ অনেকে।

চলচ্চিত্রটির কারিগরি দিকেও নির্মাতার পরিকল্পনার প্রতিফলন রয়েছে। সিনেমাটোগ্রাফি, এডিটিং ও কালার গ্রেডিংয়ের মাধ্যমে গল্পের বিভিন্ন সময় ও আবেগকে আলাদা করে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। আর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সজিব দাশের ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক গল্পের আবহকে আরও জোরালো করেছে।

সব মিলিয়ে ‘মিস্টার বাদল’ শুধু একটি কমেডি-রোম্যান্টিক গল্প নয়; বরং সম্পর্ক, স্মৃতি, সময় এবং মানুষের পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে নির্মিত একটি আবেগঘন চলচ্চিত্র। আশরাফুজ্জামানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনা এবং জিয়াউল হক পলাশ ও পারসা ইভানার অভিনয় চলচ্চিত্রটির প্রধান শক্তিগুলোর একটি হিসেবে সামনে এসেছে।

আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পাওয়া স্বীকৃতি সেই নির্মাণ প্রচেষ্টাকেই আরও দৃশ্যমান করেছে। সুইডেনে ‘বেস্ট ডিরেক্টর’ পুরস্কার এবং কানাডায় অফিসিয়াল সিলেকশন—দুটি অর্জনই ‘মিস্টার বাদল’-কে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাণের আন্তর্জাতিক পরিসরে নতুন করে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করেছে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সাফল্যের আলোয় নেপথ্যে এ আর পিয়াস মো আবদুল করিম সোহাগ একটি বিজ্ঞাপনে কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিই কখনো একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে পারে। কারও চোখের অভিব্যক্তি, কারও কথার ধরন কিংবা পর্দায় উপস্থিতির স্বাভাবিকতাই বদলে দিতে পারে পুরো বিজ্ঞাপনের আবহ। কিন্তু সেই চরিত্রের জন্য ঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করার কাজটি শুরু হয় ক্যামেরা চালুর অনেক আগেই। সেই নেপথ্যের কাজটিই করেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর। আর বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন এ আর পিয়াস। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে ফটোশুট, ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে উপযুক্ত শিল্পী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মাতা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ভাবনাকে পর্দায় বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছেন তিনি। একটি চরিত্রের জন্য কাকে নেওয়া হবে, সেটি শুধুই চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। চরিত্রটির বয়স, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক উপস্থিতি, অভিব্যক্তি, অভিনয়ের দক্ষতা, কথাবলার ধরন থেকে শুরু করে গল্পের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সামঞ্জস্য, সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়। কখনো পরিচিত একজন অভিনয়শিল্পীর বদলে একেবারে নতুন কাউকে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত। এ আর পিয়াসের কাজের দর্শনও অনেকটা সেখানেই। তার কাছে কাস্টিং মানে পরিচিত মুখের তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেওয়া নয়। বরং গল্পের প্রয়োজন বুঝে এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে চরিত্রটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। কারণ তার মতে, অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রের মধ্যে মিল তৈরি না হলে ভালো গল্প কিংবা বড় বাজেটের নির্মাণও দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে না। কাজটি তাই শুরু হয় স্ক্রিপ্ট পড়া কিংবা নির্মাতার ব্রিফ বোঝার মধ্য দিয়ে। চরিত্রটির প্রয়োজন কী, তাকে পর্দায় কেমন দেখাতে হবে, তার বয়স বা ব্যক্তিত্ব কেমন হওয়া উচিত, অভিনয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য শিল্পীদের খুঁজে বের করেন কাস্টিং ডিরেক্টর। এরপর অডিশন, স্ক্রিন টেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের যাচাই করে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট টিমের সামনে উপযুক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞাপনের জগতে এ আর পিয়াসের কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। সাম্প্রতিক সময়ে তার কাস্টিং করা উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, সেভয় আইসক্রিম, সখী স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, বিকাশ, ইনফিনিক্স মোবাইল, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, ক্লোজআপ, লাইফবয়, সার্ফ এক্সেল, রিয়েলমি ফোন, ভ্যাসলিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, অপো মোবাইল, মার্ক্স পাউডার মিল্ক ও আকিজ ড্রিংকিং ওয়াটারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাজ। তবে বিজ্ঞাপনের পরিসর এখন আর শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিক নেই। ওভিসি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কনটেন্ট, ফটোশুট, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল ও ওটিটি প্রজেক্টেও চরিত্র ও ট্যালেন্টের প্রয়োজন বাড়ছে। একই সঙ্গে বদলেছে শিল্পী খোঁজার মাধ্যমও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন অনেক নতুন মুখ সহজেই নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কাস্টিং ডিরেক্টরের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্মাতা ও নতুন ট্যালেন্টের মধ্যে এই জায়গাটিই অনেকটা সেতুর মতো কাজ করে। এ আর পিয়াস মনে করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আলাদা কোনো না কোনো সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সঠিক চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়াই একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের বড় দায়িত্ব। ফলে তার কাজের লক্ষ্য শুধু পরিচিত শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা নয়, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রতিভাকেও সামনে নিয়ে আসা। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি গল্প, আবেগ কিংবা ব্র্যান্ডের বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। সেই অল্প সময়ের মধ্যে চরিত্রটি যদি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তাহলে বিজ্ঞাপনের প্রভাবও অনেক বেড়ে যায়। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতার শুরুটা হয় সঠিক মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ কারণেই বিজ্ঞাপনের পর্দায় একজন অভিনয়শিল্পীকে যতটা দেখা যায়, তার পেছনে থাকা কাস্টিং প্রক্রিয়াটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এ আর পিয়াস সেই নেপথ্যের কাজটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংকে আরও পেশাদার ও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নতুন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের সমন্বয়ে নির্মাতা ও ব্র্যান্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ট্যালেন্ট খুঁজে দেওয়ার কাজটিকেই আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চান তিনি। কারণ একটি বিজ্ঞাপনের সাফল্যের গল্পে ক্যামেরার সামনে থাকা মুখগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই মুখগুলোকে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগরও কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সেই নেপথ্যের কারিগরদের একজন হিসেবেই নিজের জায়গা তৈরি করছেন কাস্টিং ডিরেক্টর এ আর পিয়াস

©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102