শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিদ্যালয়েই নাটকের হাতেখড়ি,মৃদঙ্গমের কর্মশালায় বিকশিত পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা কোটচাঁদপুরে নিখোঁজের ৪ দিন পর দিনমজুরের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার চবি ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভি সি ড. মোহাম্মদ আল ফোরখান শিশু তাসপিয়াকে নদীতে ফেলে হত্যা, সৎ বাবা গ্রেফতার আনোয়ারায় গাঁজা সেবন অবস্থায় এসিল্যান্ডের হাতে আটক যুবক,এক বছরের কারাদণ্ড আনোয়ারায় ডাকাত মোঃ আলীর স্ত্রী আটক,ইয়াবা ও নগদ টাকা উদ্ধার *পানি ন্যায়বিচারের দাবিতে যুবদের আন্দোলনে চট্টগ্রাম ওয়াসার প্রতিশ্রুতি* আনোয়ারায় ৪০ বছরেও উন্নয়নের ছোঁয়া নেই বেলচুড়া আদর্শ গ্রাম সড়কে ফের আলোচনায় অভিনেত্রী নওরিন আজাদ ভারত কনক্লেভ ২.০-তে উন্নত বাংলা থেকে উন্নত ভারতের লক্ষ্যে সুশাসনের বার্তা

বিদ্যালয়েই নাটকের হাতেখড়ি,মৃদঙ্গমের কর্মশালায় বিকশিত পড়ুয়াদের সৃজনশীলতা

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা—

নাটকের মঞ্চ যেন হয়ে উঠল পড়ুয়াদের মনন ও সৃজন শীলতা বিকাশের পাঠশালা। প্রতিবারের মতো এবারও গোবরডাঙা মৃদঙ্গমের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হল বিদ্যালয়ভিত্তিক নাট্য কর্মশালা। ১২ থেকে ১৯ আগস্ট পর্যন্ত মণ্ডলপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই আট দিনের কর্মশালাটি ছিল ২০২৬-’২৭ শিক্ষাবর্ষে মৃদঙ্গমের প্রথম বিদ্যালয় ভিত্তিক নাট্য কর্মশালা। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ২৬ জন পড়ুয়া এই কর্মশালায় অংশ নেয়। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন নাট্যখেলা ও সৃজনশীল অনুশীলনের মাধ্যমে পড়ুয়াদের মনোবিকাশ,আত্ম বিশ্বাস, দলগত কাজ এবং উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। কর্মশালার মধ্য দিয়ে পড়ুয়ারা নিজেদের ভাবনা, অনুভূতি ও সৃজন শীলতাকে নতুনভাবে প্রকাশের সুযোগ পায়। কর্মশালার শেষ দিন,১৯ আগস্ট,অংশ গ্রহণকারী পড়ুয়াদের নিজেদের ভাবনা ও পরিশ্রমে নির্মিত দেশাত্মবোধক নাটক স্বদেশ’ মঞ্চস্থ হয়। বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের সামনে নাটকটি পরিবেশিত হয়। পড়ুয়াদের অভিনয় দেখে অনেক অভিভাবকই তাঁদের সন্তানদের এক নতুন প্রতিভার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পান।
শিবির পরিচালক ছিলেন গোবরডাঙা মৃদঙ্গমের কর্ণধার ও নাট্যপরিচালক বরুণ কর। প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন সংস্থার সদস্য মণি মোহন মণ্ডল,গোপাল বিশ্বাস,সৌমিতা দত্ত বণিক, বর্ণালী সেন-সহ অন্যান্যরা।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি নীরেশ ভৌমিক এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক- শিক্ষিকারা অংশ গ্রহণকারী পড়ুয়াদের হাতে কর্মশালার শংসাপত্র তুলে দেন। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবাশিস ঘোষ জানান, আগামী দিনেও এই ধরনের নাট্যকর্মশালা আয়োজন করা হবে। বিশেষত বিদ্যালয়মুখী হতে অনাগ্রহী পড়ুয়াদের নাট্যচর্চার মাধ্যমে বিদ্যালয়ের সঙ্গে আরও নিবিড় ভাবে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শেষে মৃদঙ্গমের কর্ণধার বরুণ কর সকলকে ধন্যবাদ জানান। আগামী দিনেও আরও বেশি বিদ্যালয়ে এই ধরনের কর্মশালা আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সাফল্যের আলোয় নেপথ্যে এ আর পিয়াস মো আবদুল করিম সোহাগ একটি বিজ্ঞাপনে কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিই কখনো একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে পারে। কারও চোখের অভিব্যক্তি, কারও কথার ধরন কিংবা পর্দায় উপস্থিতির স্বাভাবিকতাই বদলে দিতে পারে পুরো বিজ্ঞাপনের আবহ। কিন্তু সেই চরিত্রের জন্য ঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করার কাজটি শুরু হয় ক্যামেরা চালুর অনেক আগেই। সেই নেপথ্যের কাজটিই করেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর। আর বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন এ আর পিয়াস। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে ফটোশুট, ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে উপযুক্ত শিল্পী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মাতা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ভাবনাকে পর্দায় বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছেন তিনি। একটি চরিত্রের জন্য কাকে নেওয়া হবে, সেটি শুধুই চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। চরিত্রটির বয়স, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক উপস্থিতি, অভিব্যক্তি, অভিনয়ের দক্ষতা, কথাবলার ধরন থেকে শুরু করে গল্পের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সামঞ্জস্য, সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়। কখনো পরিচিত একজন অভিনয়শিল্পীর বদলে একেবারে নতুন কাউকে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত। এ আর পিয়াসের কাজের দর্শনও অনেকটা সেখানেই। তার কাছে কাস্টিং মানে পরিচিত মুখের তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেওয়া নয়। বরং গল্পের প্রয়োজন বুঝে এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে চরিত্রটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। কারণ তার মতে, অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রের মধ্যে মিল তৈরি না হলে ভালো গল্প কিংবা বড় বাজেটের নির্মাণও দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে না। কাজটি তাই শুরু হয় স্ক্রিপ্ট পড়া কিংবা নির্মাতার ব্রিফ বোঝার মধ্য দিয়ে। চরিত্রটির প্রয়োজন কী, তাকে পর্দায় কেমন দেখাতে হবে, তার বয়স বা ব্যক্তিত্ব কেমন হওয়া উচিত, অভিনয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য শিল্পীদের খুঁজে বের করেন কাস্টিং ডিরেক্টর। এরপর অডিশন, স্ক্রিন টেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের যাচাই করে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট টিমের সামনে উপযুক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞাপনের জগতে এ আর পিয়াসের কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। সাম্প্রতিক সময়ে তার কাস্টিং করা উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, সেভয় আইসক্রিম, সখী স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, বিকাশ, ইনফিনিক্স মোবাইল, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, ক্লোজআপ, লাইফবয়, সার্ফ এক্সেল, রিয়েলমি ফোন, ভ্যাসলিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, অপো মোবাইল, মার্ক্স পাউডার মিল্ক ও আকিজ ড্রিংকিং ওয়াটারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাজ। তবে বিজ্ঞাপনের পরিসর এখন আর শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিক নেই। ওভিসি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কনটেন্ট, ফটোশুট, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল ও ওটিটি প্রজেক্টেও চরিত্র ও ট্যালেন্টের প্রয়োজন বাড়ছে। একই সঙ্গে বদলেছে শিল্পী খোঁজার মাধ্যমও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন অনেক নতুন মুখ সহজেই নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কাস্টিং ডিরেক্টরের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্মাতা ও নতুন ট্যালেন্টের মধ্যে এই জায়গাটিই অনেকটা সেতুর মতো কাজ করে। এ আর পিয়াস মনে করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আলাদা কোনো না কোনো সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সঠিক চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়াই একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের বড় দায়িত্ব। ফলে তার কাজের লক্ষ্য শুধু পরিচিত শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা নয়, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রতিভাকেও সামনে নিয়ে আসা। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি গল্প, আবেগ কিংবা ব্র্যান্ডের বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। সেই অল্প সময়ের মধ্যে চরিত্রটি যদি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তাহলে বিজ্ঞাপনের প্রভাবও অনেক বেড়ে যায়। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতার শুরুটা হয় সঠিক মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ কারণেই বিজ্ঞাপনের পর্দায় একজন অভিনয়শিল্পীকে যতটা দেখা যায়, তার পেছনে থাকা কাস্টিং প্রক্রিয়াটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এ আর পিয়াস সেই নেপথ্যের কাজটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংকে আরও পেশাদার ও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নতুন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের সমন্বয়ে নির্মাতা ও ব্র্যান্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ট্যালেন্ট খুঁজে দেওয়ার কাজটিকেই আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চান তিনি। কারণ একটি বিজ্ঞাপনের সাফল্যের গল্পে ক্যামেরার সামনে থাকা মুখগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই মুখগুলোকে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগরও কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সেই নেপথ্যের কারিগরদের একজন হিসেবেই নিজের জায়গা তৈরি করছেন কাস্টিং ডিরেক্টর এ আর পিয়াস

©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102