প্রথম ডেক্স
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারি প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং নাগরিকদের তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার চর্চায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম শিশু একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে RTI Fair 2026। মেলায় বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, মানবাধিকার সুরক্ষা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সচেতন নাগরিক, দায়িত্বশীল গণমাধ্যম, সক্রিয় নাগরিক সমাজ এবং জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকা অপরিহার্য।
Bright Bangladesh Forum ও বিটনেকের উদ্যোগে এবং European Union in Bangladesh অর্থায়নে, ActionAid Bangladesh -এর সহায়তায় বাস্তবায়িত ‘Supporting the Unity and Sustainability of Civil Society Organizations (CSOs) to Uphold Human Rights, National Integrity and Rule of Law in Bangladesh (SUSHIL)’ প্রকল্পের আওতায় এ আয়োজন সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের পরিচালক নাসরিন সুলতানা খানম । প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আঞ্চলিক তথ্য অফিস, চট্টগ্রামের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) বাপ্পী চক্রবর্তী। গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, গবেষক, লেখক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ড. আনোয়ারা আলম। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের ম্যানেজার রিদুয়ানুল হাকীম রিয়াদ।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক পূর্বকোণের সহকারী সম্পাদক আবসার মাহফুজ; চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম; লেখক ও সংগঠক যিকরুল হাবিবীল ওয়াহেদ; TESOL-সনদপ্রাপ্ত শিক্ষক ও গবেষক সাফায়াত সুলতানা; চট্টগ্রাম টিভির বিশেষ প্রতিনিধি মো. আমাজাদ হোসেন; এবং নারী উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী মালা চৌধুরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাপ্পী চক্রবর্তী তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর যথাযথ প্রয়োগ এবং সরকারি দপ্তর থেকে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া সম্পর্কে নাগরিকদের সুস্পষ্ট ধারণা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তথ্যপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, নির্ধারিত আবেদনপদ্ধতি ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পর্কে সচেতন হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, তথ্য অধিকার সম্পর্কে নাগরিকদের জ্ঞান বৃদ্ধি পেলে সরকারি কার্যক্রম সম্পর্কে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠা এবং জবাবদিহি জোরদারের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে।
গেস্ট অব অনার ড. আনোয়ারা আলম বলেন, তথ্যভিত্তিক জ্ঞানচর্চা ও সচেতনতা নাগরিকদের দায়িত্বশীল করে তোলে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবেষক, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে তথ্য অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বিকাশে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব। তিনি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তথ্য যাচাই, যুক্তিনির্ভর চিন্তা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
সভাপতির বক্তব্যে ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের পরিচালক নাসরিন সুলতানা খানম বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন। তিনি নাগরিকদের অধিকার চর্চা, অংশগ্রহণমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানবাধিকার রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
আলোচনায় গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট তথ্য সংগ্রহ, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্যপ্রাপ্তি এবং তথ্য যাচাইয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন। দৈনিক পূর্বকোণের সহকারী সম্পাদক আবসার মাহফুজ এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের সিনিয়র রিপোর্টার মোহাম্মদ শামসুল ইসলাম তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থ রক্ষায় নির্ভরযোগ্য তথ্যের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। চট্টগ্রাম টিভির বিশেষ প্রতিনিধি মো. আমাজাদ হোসেনও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
লেখক ও সংগঠক যিকরুল হাবিবীল ওয়াহেদ নাগরিক সচেতনতা, সামাজিক অংশগ্রহণ এবং অধিকার প্রতিষ্ঠায় সম্মিলিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন। TESOL-সনদপ্রাপ্ত শিক্ষক ও গবেষক সাফায়াত সুলতানা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তথ্য অধিকার, জ্ঞানচর্চা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন। কবি ও মানবাধিকারকর্মী সীমা কুন্ডু মানবাধিকার সুরক্ষা এবং নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তথ্যপ্রাপ্তির গুরুত্ব তুলে ধরেন। অন্যদিকে, নারী উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী মালা চৌধুরী নারী উদ্যোক্তাদের জন্য সরকারি সহায়তা, প্রাসঙ্গিক সুযোগ-সুবিধা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন।
মেলায় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা পরিবেশ সুরক্ষা, নগর উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি সরবরাহ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সেবার মান উন্নয়নে তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। একই সঙ্গে নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সরকারি সেবা এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির তথ্য সহজলভ্য করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। আলোচনায় বলা হয়, জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যপ্রাপ্তি নাগরিকদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণ, সরকারি সেবার মান পর্যবেক্ষণ এবং প্রশাসনিক জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনাকালে ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের ম্যানেজার সুশীল প্রকল্পের চট্টগ্রাম জেলা সমন্বয়কারী রিদুয়ানুল হাকীম রিয়াদ আলোচনাকে তথ্য অধিকার আইনের বাস্তব প্রয়োগ, নাগরিকদের করণীয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্য উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করেন। তিনি তথ্য চাওয়ার সঠিক পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা অর্জন, আইন অনুযায়ী তথ্য না পাওয়া গেলে প্রযোজ্য প্রতিকার গ্রহণ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্য দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেন। আলোচনায় তথ্য অধিকারকে কেবল তথ্য সংগ্রহের আইনি প্রক্রিয়া হিসেবে নয়, বরং নাগরিক ক্ষমতায়ন, জনসেবার মান উন্নয়ন এবং অংশগ্রহণমূলক সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
RTI Fair 2026-এর মাধ্যমে তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, সরকারি তথ্যপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সম্পর্কে ধারণা প্রদান এবং বিভিন্ন অংশীজনের মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের উদ্যোগের ধারাবাহিকতা নাগরিকদের আইনসম্মতভাবে তথ্য অধিকার চর্চায় উৎসাহিত করবে এবং চট্টগ্রামে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, মানবাধিকার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করবে।