
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার উপকূলীয় ৩নং রায়পুর ইউনিয়নে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবির মধ্যেই চলমান উন্নয়নকাজে ব্যবহারের জন্য বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে অনুমতি ছাড়া বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন রায়পুর ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জোয়ার-জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে সংগ্রাম করে আসছেন। জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পেলে অনেক সময় বেড়িবাঁধ উপচে বা ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে পানি ঢুকে বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়। এ কারণে উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি টেকসই ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, উপকূলীয় মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় ৩১৯ কোটি টাকার ব্লক ও বেড়িবাঁধ নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। প্রকল্পটির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে।
তবে সম্প্রতি রায়পুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বালু উত্তোলনের চেষ্টা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়। স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ আব্দুল হান্নান এক ফেসবুক ভিডিওতে অভিযোগ করে বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হলেও সংশ্লিষ্টরা তা মানেননি।
তিনি জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি রাত পর্যন্ত ঘটনাস্থলে অবস্থান করেন। পরে আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে বিষয়টি অবহিত করলে তিনি সংশ্লিষ্ট তহসিল কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠান। তহসিল কর্মকর্তা গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্দেশনা অমান্য করে পুনরায় বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হয়।
পরে বিষয়টি আবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে জানানো হলে তিনি পুলিশের সহযোগিতায় ঘটনাস্থলে ব্যবস্থা নেন এবং বালু উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত মালামাল জব্দ করা হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি, উপকূলীয় বেড়িবাঁধ নির্মাণের স্বার্থে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, অবৈধ বালু উত্তোলন ও প্রকল্পের ক্ষতি হয়—এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের কাজে ব্যবহারের জন্য বালু উত্তোলন করা হলেও তা যেন পরিবেশ ও স্থানীয় জননিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, এলাকায় প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বালু উত্তোলনের চেষ্টা করা হচ্ছে। তারা এ ঘটনায় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির নাম উল্লেখ করেন স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে একটি মহল বালু উত্তোলনের চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে শিপু, নাছির, জাহেদ চৌধুরী, শাহেদ ও সবুর নামে কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উপকূলবাসীর দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হবে এবং প্রকল্পের কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে প্রশাসন তা কঠোরভাবে বন্ধ করবে।
উপকূলবাসীর দাবি—স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি প্রকল্পের প্রতিটি কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়।