
—তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা—
পরগনার গোবরডাঙ্গা থানার গণদীপায়ন এলাকায় সরকারি জমির মূল্যবান গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রির অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগের তিরে রয়েছেন এলাকার বাসিন্দা আশিস ব্যানার্জী ও তাঁর পুত্র সায়ণ ব্যানার্জী (২৪)। স্থানীয়দের একাংশের দাবি,যশোর রোড সম্প্রসারণ প্রকল্পের আগে পিডব্লিউডি-র জমিতে থাকা মেহগনি-সহ একাধিক মূল্যবান গাছ গোপনে কেটে বিক্রি করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যক্তিগত জমি ও পিডব্লিউডি-র সরকারি জমির সীমানা কংক্রিট পিলারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট করা রয়েছে। সেই সরকারি জমির গাছ বিক্রির অভিযোগ সামনে আসতেই ক্ষোভ ছড়ায় এলাকায়। সরকারি এই গাছগুলো সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ক্রয় করেন বেলঘরিয়ার বাসিন্দা সৌরভ দত্ত। এ বিষয়ে তাঁকে একাধিকবার ফোন করা হলে কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায় নি। বাসিন্দাদের বক্তব্য,সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
এদিকে,আরও অভিযোগ,আশিস ব্যানার্জী ও তাঁর পুত্র সায়ণ ব্যানার্জী সদলবলে প্রতিবেশী প্রবীণ পুরোহিত হরিপদ চক্রবর্তীর বাড়ির বৈধ প্রাচীরের একাংশ ভেঙে দেন। এই জমি নিয়ে বর্তমানে একটি মামলাও বর্তমান। বাধা দিতে গেলে হরিপদ বাবুর উপর হামলারও অভিযোগ ওঠে। হরিপদবাবুর পুত্র, সাংবাদিক অনন্ত চক্রবর্তী দাবি করেছেন,সম্প্রতি তাঁকেও পেট্রোল ঢেলে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেওয়া হয়েছে আশিসের পক্ষথেকে।
সরকারি গাছ কাটার অভিযোগের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে বারাসাত প্রেস ক্লাবের কর্তব্যরত সাংবাদিক প্রসেনজিৎ নস্করও নিগ্রহের শিকার হন বলে অভিযোগ। তাঁর ওপরে সায়ণ শারীরিক হামলা চালায় বলে অভিযোগ। ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী সাংবাদিক উদয় শঙ্কর দাস ও সাংবাদিক সমর বিশ্বাস। এই ঘটনায় সাংবাদিক মহলেও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের একাংশের আরও অভিযোগ, সায়ণ ব্যানার্জীর বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন ফৌজদারি অভিযোগ উঠেছিল। নাবালিকাকে ধর্ষণ, শীলতাহানি, মস্তানি,দেশি মদ বিক্রি,চুরি,একাধিক মানুষকে কামড়ানো, হুমকি-সহ রকমারি অভিযোগ রয়েছে । এলাকাবাসী জানান, এ বিষয়ে বাহুবলি সায়ণকে মদত যুগিয়ে চলেছেন তৃণমূল নেতা মনোজ রায় ও সায়ণের পরম আত্মীয় মসলন্দপুরের সঞ্জয় ঘোষাল(বাচ্চু) বলে অভিযোগ।
বারাসাত প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে বন দপ্তর, পিডব্লিউডি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। অভিযোগকারী পক্ষ জানিয়েছে,বিষয়টি পুলিশকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।