
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালী থানা এলাকায় পারিবারিক কলহের জেরে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে ডেকে নিয়ে জয় দে (২৭) নামের এক এনজিও কর্মীকে লোহার রড ও লাঠিসোটা দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে শাশুড়ি পম্পি সেনসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেছেন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতার সহায়তায় ১নং আসামি এনাম ওরফে আকাশ (৩০)-কে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী জয় দে ৯ মাস পূর্বে ২নং আসামি পম্পি সেনের মেয়ে শ্রাবন্তী সেন তূবাকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি পম্পি সেনের উস্কানিতে দাম্পত্য জীবনে কলহ শুরু হয়। শাশুড়ি বিভিন্ন সময় মেয়েকে বাদীর সংসার থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য নানামুখী হুমকি দিয়ে আসছিলেন।
গত ২৮শে জুন ২০২৬ তারিখ রাতে পারিবারিক বিষয়াদি আপোষ-মীমাংসার কথা বলে আসামিরা বাদীকে ডেকে নেয়। রাত আনুমানিক ০৭.৪৫ ঘটিকার সময় কোতোয়ালী থানাধীন আন্দরকিল্লা মেটারনিটি ক্লিনিকের সামনের পাকা রাস্তায় পৌঁছামাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জয়ের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগ উঠেছে, জয়ের শাশুড়ি পম্পি সেন এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী। তাকে এই কাজে সহযোগিতা করেছেন তার কথিত পরকীয়া প্রেমিক নোবেল দে। হামলার সময় লোহার রড দিয়ে জয়ের ডান হাতের কব্জিতে গুরুতর আঘাত করা হয় এবং ২ ও ৩নং আসামির নির্দেশে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালানো হয়। এছাড়া জয়ের পকেট থেকে নগদ ৪,০০০/- টাকা ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে এজাহারে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে আসামিরা হুমকি দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ভাড়াটে গুন্ডা হিসেবে পরিচিত এনামকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়। মামলার আসামিরা হলেন, এনাম ওরফে আকাশ (৩০) – ভাড়াটে গুন্ডা (ঘটনাস্থলে আটক), পম্পি সেন (৩৪) – শাশুড়ি ও মূল পরিকল্পনাকারী, নোবেল দে (২৫) – পরকীয়া প্রেমিক ও সহযোগী, প্রান্ত দে (২২) – সহযোগী এছাড়াও অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।
আহত জয় দে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এজাহারভুক্ত ১ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে এবং বাকি আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।