তরুন বিশ্বাস,কলকাতা—
মানব জীবনের প্রতিটি শিল্পীর বেড়ে ওঠার আড়ালে থাকে এক নিজস্ব যাপন প্রথম রেখা,প্রথম কল্পনা,আর শিল্পের প্রতি জন্ম নেওয়া এক গভীর ভালোবাসা। দক্ষিণ কলকাতার বেহেলা শীলপাড়া সংলগ্ন বড়িশা শান্তি সংঘের উদ্যোগে ৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ২০২৬ ঠিক সন্ধ্যায় তন্ময় মহারাজ, বিধায়ক শংকর সিকদার,শিল্পী মানস দাস,সৈকত বসু ,ক্লাব সম্পাদক গৌরব সেনগুপ্ত সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দের ছোঁয়ায় মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে শুভ লগ্নে সময়ের সঙ্গে সেই ভালোবাসাই রূপ নেয় শিল্পীসত্তায়। ভিন্ন ভিন্ন মানুষের এই বেড়ে ওঠার গল্পে কোথাও যেন মিশে থাকে এক অভিন্ন প্রবাহ।একটি সাদা কাগজ থেকে শুরু হয় যে যাত্রা,তা ক্রমে মিশে যায় কলকাতার পুজো শিল্পের দীর্ঘ ঐতিহ্যে। পূর্বসূরিদের সৃষ্টি, তাঁদের শিল্পভাবনা এবং আমাদের নিজস্ব অভিজ্ঞতা সব মিলিয়ে তৈরি হয় এক বহমান শিল্পভাষা,যেখানে অতীতের অনুরণন নতুন সৃষ্টির পথ দেখায়। কালী পুজোর প্রাঙ্গণে সেই প্রবাহই খুঁজে নেয় নতুন অভিব্যক্তি। দেবী কালী আমাদের বিশ্বাস,স্মৃতি ও যাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। দশমীর ঘণ্টা ধ্বনি যখন বেজে ওঠে,বিষাদের এক অদৃশ্য ছায়া নেমে আসে বাঙালির মনে। বিসর্জনের সুরে মিশে থাকে বিদায়ের ব্যথা, আবার একটি বছরের অপেক্ষায় প্রিয় মাতৃরূপকে ছেড়ে থাকার হাহাকার।
কিন্তু সেই বিষাদ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। সময়ের স্রোতে হঠাৎই মনে পড়ে যায় আর তো মাত্র কয়েকটা দিন! মা আবার আসবেন,তবে অন্য এক রূপে,অন্য এক আবাহনে। দুর্গার বিদায়ের শূন্যতা পূর্ণ হতে থাকে কালীর আগমনী আনন্দে। যে মাতৃসত্তাকে এক রূপে বিদায় জানিয়েছিলাম, তাঁকেই আবার খুঁজে পাই অন্য রূপে,অন্য অনুভবে। দুর্গাপুজোর শিল্পঐতিহ্য আর কালীপুজোর নিজস্ব অনুভবের সংযোগে তৈরি হয় এক সৃজন শীল বুনন যেখানে ঐতিহ্য থেমে থাকে না,বরং সময়ের সঙ্গে বদলে যায়,নতুন রূপে প্রকাশিত হয়। যাপন প্রবাহ’আসলে সেই পথচলারই গল্প যেখানে ব্যক্তিগত বেড়ে ওঠা মিশে যায় সমষ্টির শিল্পীসত্তায়, আর উত্তরাধিকারকে সঙ্গে নিয়ে জন্ম নেয় আগামীর সৃষ্টি।