–
—তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা—
সারাদেশে মতো উত্তর ২৪ পরগনার হাবড়ায় ভক্তি, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে পাঁচ দিন ধরে শারদোৎসবে মাতল হাবড়ার গণদীপায়ন। শ্রীকৃষ্ণ দেবনাথের বাড়িতে দেবনাথ পরিবারের দুর্গাপুজো ঘিরে ছিল নানা ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠান,কুমারী পুজো, প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও নরনারায়ণ সেবা। উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ ছিল ১৯তম বর্ষের গীতি আলেখ্য ‘আলোময়ীর আলো’। কুমারী পুজোয় উমারূপে পূজিতা হয় আংশিকা বিশ্বাস।
আলোময়ীর আলো’য় স্তোত্রপাঠ করেন পুরোহিত অনন্ত চক্রবর্তী। দুর্গার ভূমিকায় তমালিকা ব্যানার্জী, মহিষাসুরের ভূমিকায় হরিপদ চক্রবর্তী, কার্তিকের ভূমিকায় সুরজ রায় এবং সরস্বতীর ভূমিকায় দীপা রায়ের পরিবেশনা দর্শকদের আকৃষ্ট করে। রিংকি দেবনাথ, মেঘা দেবনাথ,কনক চক্রবর্তী, জুঁই দেবনাথ, মৌমিতা, তন্বী, পৃথা,নিকিতা, মৃণালী, রাধিকা,আংশিকা ও বর্ণালী-সহ অন্যান্য শিল্পীর নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠানকে বর্ণময় করে তোলে। প্রখ্যাত কি-বোর্ড শিল্পী সনৎ নট্টের যন্ত্রসংগীত পরিবেশনায় গীতি আলেখ্য আরও সুরমণ্ডিত হয়ে ওঠে। শেষে শ্রীকৃষ্ণ দেবনাথের ম্যাজিক শো দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দেয়। পুজোর দিনগুলিতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশ নেন এলাকার বাসিন্দারা। পাশাপাশি নরনারায়ণ সেবার আয়োজন উৎসবে যোগ করে মানবিকতার বার্তা। গন্ধ, পুষ্প, ধুপ, দীপ নৈবেদ্যর মতো বিবিধ উপচারে মাতৃপুজোয় তন্ত্রধারকের ভূমিকায় ছিলেন অনন্ত চক্রবর্তী ও পূজক হিসেবে ছিলেন নন্দদুলাল চক্রবর্তী। পুজো শেষে দেবীর বিদায় ক্ষণে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন মহিলারা। সিঁদুর বিনিময় ও বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের উৎসবের পরিসমাপ্তি ঘটে। শ্রীকৃষ্ণ দেবনাথ বলেন,এলাকায় সুস্থ সংস্কৃতিচর্চার পাশা পাশি বিভিন্ন ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকি। পড়শিদের আন্তরিক সহযোগিতায় পাঁচ দিনের এই অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।”
ধর্মীয় ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক চর্চা ও সামাজিক সেবার সমন্বয়ে দেবনাথ পরিবারের শারদোৎসব হয়ে ওঠে এলাকার মানুষের মিলনমেলা। ১৯ বছরের ধারাবাহিকতায় আলোময়ীর আলো’ও কুমারী পুজো গণদীপায়নের পুজোর অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রেখেছে। নিখিল রায়,প্রীতম দেবনাথ,অলোক দেবনাথ, প্রদীপ দেবনাথ, দেবেশ দেবনাথ,রীতম দেবনাথ, পাপ্পু দেবনাথ, সমীর দেবনাথ ও নেপাল দেবনাথ- এর মত মাতৃ সেবকদের আন্তরিক সহযোগিতা অনুষ্ঠানে মাত্রাদান করে।