
অরুন নাথ,পটিয়া(চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী ছিলেন অষ্টাদশ ও উনিশ শতকের একজন বিখ্যাত বাঙালি হিন্দু সিদ্ধপুরুষ ও আধ্যাত্মিক সাধক।
তিনি ১৭৩০ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ আগস্ট (১৮ ভাদ্র, জন্মাষ্টমীর দিন) পশ্চিমবঙ্গের চব্বিশ পরগনা জেলার কচুয়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। পিতা রামনারায়ণ ঘোষাল এবং মাতা কমলা দেবীর পরিবারে গর্ভজাত সন্তান হিসেবে চার ভাইয়ের মধ্যে লোকনাথ ছিলেন তৃতীয়।তাঁর পিতা তাকে ধর্ম সাধনার জন্য আচার্য ভগবান চন্দ্র গাঙ্গুলীর (গঙ্গোপাধ্যায়) হাতে তুলে দেন।
সাধনা ও সিদ্ধিলাভ গৃহত্যাগে মাত্র ১১ বছর বয়সে বন্ধু বেনীমাধবসহ তিনি গৃহত্যাগ করেন এবং গুরুর সঙ্গে কালীঘাট ও বনাঞ্চলে কঠোর ব্রহ্মচর্য ও যোগসাধনা শুরু করেন।তপস্যায় গুরুর নির্দেশ অনুযায়ী তিনি দীর্ঘ সময় কঠোর সংযম, অনাহার ও হিমালয়ের বরফাবৃত অঞ্চলে চরম আবহাওয়ায় ধ্যান করেন।জ্ঞানলাভে প্রায় ৯০ বছর বয়সে তিনি নির্বিকল্প সমাধি ও পরম তত্ত্ব লাভ করেন (পূর্ণ সিদ্ধিলাভ)।এই লোকনাথ ভ্রমণে বারদীতে আগমনসিদ্ধিলাভের পর তিনি পদব্রজে মক্কা, মদিনা,আফগানিস্তান, পারস্যসহ বিভিন্ন দেশ ও হিমালয়ের বিভিন্ন অঞ্চল ভ্রমণ করেন।পরবর্তীতে তিনি বর্তমান বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার বারদী গ্রামে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।বারদীতেই তাঁর বিখ্যাত আশ্রম গড়ে ওটে। মহাপ্রয়াণপ্রয়াণে ১৮৯০ সালের ১ জুন (১২৯৭ বঙ্গাব্দের ১৯ জ্যৈষ্ঠ) ১১টা ৪৫ মিনিটে বারদী আশ্রমে তিনি সশরীরে মহাজাগতিক সমাধিমগ্ন হয়ে মহাসমাধি লাভ করেন।তাঁর বয়স হয়েছিল ১৬০ বয়স।
দেহত্যাগের আগে তিনি ভক্তদের অভয় দিয়ে বলে গেছেন—“আমি নিত্য, আমি অক্ষয়,আমি অমর। এই নশ্বর দেহ পতনের পর মনে করো না যে আমার সব শেষ হয়ে গেল।আমি রইলাম ভক্তদের হৃদয়ে।
মহাযোগী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর এই অভয় বানী ঘিরে বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিমন্ডলে হাজার হাজার মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে শ্রদ্ধাভক্তি নিবেদন এবং তার আরাধনায় পরমকৃপা সান্নিধ্যলাভে প্রতিষ্টিত হয়েছে মঠ-মন্দির যোগাশ্রম।
তারই ধারাবাহিকতায় পটিয়া উপজেলার চক্রশালা গ্রামে প্রতিষ্টিত হয়েছে শ্রী শ্রী বাবা লোকনাথ বহ্মচারী সেবাশ্রম।
শনিবার ৫ই সেপ্টম্বর(১৮ই ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ) ত্রিকালদর্শী অর্ন্তযামী শিবকল্পতরু মহাযোগী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর ২৯৬ তম আবির্ভাব দিবস।এই দিবসটি ঘিরে চক্রশালা লোকনাথ বহ্মচারী সেবাশ্রমে দিনব্যাপী ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়েছে।
চক্রশালা লোকনাথ সেবাশ্রমের অধ্যক্ষ ও মহাযোগী লোকনাথ ব্রহ্মচারীর আর্শীবাদপুষ্ট শ্রীমৎ রননাথ ব্রহ্মচারীর পুরোহিত্যে দিনব্যাপী অনুষ্টানের মধ্যে ভোর উষাগ্নে নামকীর্তন সহকারে শঙ্খধ্বনী,জাগ্রত ঊলুধ্বনীর মাধ্যমে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন,দুপুরে লোকনাথ ব্রহ্মচারীর পূজা,রাজভোগ নিবেদন ভোগারতী,এক বর্ণাঢ্য মহতী শ্রীমদ্ভগবদগীতা পুস্পযজ্ঞ অনুষ্টিত।
এ মহতী অনুষ্টানে অংশগ্রহন করেন বিভিন্ন মঠ ও মন্দিরের সাধুসন্তসহ হাজারো স্বধর্ম পিপাসু ধর্মপ্রান নর-নারী ভক্তমন্ডলীর উপস্হিতিতে অনুষ্টানস্হল পরিণত হয় মহামিলনমেলা।
উল্লেখ্য দুপুরে ভোগারতী শেষে গীতাযজ্ঞের মাঝ সময়ে ভক্তদের মাঝে আনন্দবাজারে মহাপ্রসাদ বিতরন করা হয়েছে।
এরপরবর্তী সময় বিকেল ৪টায় বেদমন্ত্রপাটে মহতী গীতযজ্ঞের পূর্ণাহুতির মধ্য দিয়ে সমগ্র অনুষ্টানের সমাপ্তি ঘটে।