
মো আবদুল করিম সোহাগ – ঢাকা
দীর্ঘ সাত বছরের স্থবিরতা কাটিয়ে অবশেষে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন। আগামী ৮ই আগস্ট এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচন ঘিরে প্রযোজকদের মধ্যে ফিরেছে উৎসবের আমেজ। তবে অনেকের অজানা, নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন চলচ্চিত্র প্রযোজক ও ব্যবসায়ী সামসুল আলম।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত কমিটি না থাকায় প্রযোজকদের বিভিন্ন সমস্যা ও বঞ্চনার বিষয়টি সামনে এনে গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির তৎকালীন প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত আবেদন করেন সামসুল আলম। মেসার্স উইনার ফিল্মসের স্বত্বাধিকারী ও সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তিনি ওই আবেদনে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের দাবি জানান।
আবেদনপত্রে শামসুল আলম উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত কমিটি না থাকায় সাধারণ সদস্যদের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছে। প্রযোজকরা যথাযথ মূল্যায়ন পাচ্ছেন না, চলচ্চিত্র নির্মাণ কার্যক্রমও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে সদস্যরা বঞ্চিত হচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে চলচ্চিত্র শিল্প আরও সংকটের মুখে পড়বে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, লিখিত আবেদন জমা দেওয়ার পর শামসুল আলম ব্যক্তিগতভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিটিও (ডেপুটি ট্রেড অর্গানাইজেশন) কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তিনি কর্মকর্তাকে জানান, দীর্ঘদিন নির্বাচন না হওয়ায় প্রযোজকরা নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় রয়েছেন এবং নির্বাচিত কমিটি না থাকায় তাদের অনেক দাবিদাওয়া ও সমস্যা উপেক্ষিত হচ্ছে।
বিষয়টির গুরুত্ব অনুধাবন করে ডিটিও মৌখিকভাবে প্রশাসককে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথ সুগম হয়।
এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আরশাদ আদনান ও আশরাফ উদ্দিন আহমেদ (নায়ক উজ্জ্বল)। প্রযোজকদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে সমিতির কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং চলচ্চিত্র শিল্পের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিনের অচলাবস্থা কাটিয়ে নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সামসুল আলমের উদ্যোগ ও তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে, যা প্রযোজক সমাজের মধ্যেও ইতিবাচকভাবে আলোচিত হচ্ছে।