বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৬ তম রাজ্য সম্মেলন সম্পন্ন পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা রবীন্দ্র ভবনে রুরাল মেডিকেল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষপূর্তি উদযাপন র‍্যাম্প থেকে পর্দায়, নিজের মতোই সাবরিনা সাবরিন বরমা ত্রাহি মেনকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক সমাবেশ সম্পন্ন বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চন্দনাইশে প্রস্তুতি সভা সিলেট মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা মন্ত্রীর

স্বপ্নপূরণের সিঁড়ি বেয়ে সূচী

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ৮২ বার পড়া হয়েছে

মো আবদুল করিম সোহাগ  -ঢাকা

কানিজ ফাতেমা সূচী, সংস্কৃতি অঙ্গনে সংগীতশিল্পী হিসেবে পরিচিত । তবে গানেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি তিনি। অভিনয়, আবৃত্তি, উপস্থাপনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থেকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন বহুমাত্রিক এক শিল্পীসত্তা। বর্তমানে অভিনয়জগতে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন এই শিল্পী।
সূচী জানান সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার যাত্রার শুরু ছোটবেলা থেকেই। বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে কবিতা আবৃত্তি, গান, মঞ্চনাটক ও পথনাটকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। সেই অভিজ্ঞতাই অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহকে আরও গভীর করে তোলে। ছোটবেলার স্বপ্নের কথা স্মরণ করে সূচী বলেন, তিনি সবসময়ই নিজেকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে কল্পনা করতেন এবং সেই স্বপ্ন নিয়েই বড় হয়েছেন।
অভিনয়ে তার প্রথম বড় সুযোগ আসে নির্মাতা তৌকীর আহমেদের চলচ্চিত্র ‘ফাগুন হাওয়ায়’-এ। এরপর ‘সংসার আমার ভাল্লাগেনা’, ‘ভাবির সংসার’, ‘বেইমান বৌয়ের শেষ পরিণতি’ ও ‘ভাইয়ের শত্রু ভাই’-সহ অর্ধশতাধিক নাটকে অভিনয় করেন। গত এক বছরে নয়টি সিনেমায় কাজের সুযোগ পেয়েছেন তিনি। বর্তমানে মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে ‘সোলজার’, ‘ইব্রাহিম’, ‘দ্য লাস্ট নাইট কনফেশন’, ‘সোনালী সৈকতে’, ‘সঙ্গী’ ও ‘সাঁওতাল’-সহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র।
গান ও অভিনয়ের মধ্যে কোনটিকে বেশি ভালোবাসেন সূচী ? এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গান আমার আবেগ থেকে আসে, আর অভিনয় আমার জীবনগাথা। দুটোই ভালো লাগে, তবে অভিনয়ে আমি বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
তবে সংগীতশিল্পী থেকে অভিনেত্রী হয়ে ওঠার পথ মোটেও সহজ ছিল না। অনেকেই তাকে পরামর্শ দিয়েছেন একটি পরিচয় বেছে নেওয়ার জন্য। কিন্তু তিনি বিশ্বাস করেন, একজন মানুষের ভেতরে একাধিক প্রতিভা থাকলে তা চর্চা করা উচিত। তাই কোনো ক্ষেত্রই তিনি ছেড়ে দেননি।
সম্প্রতি সাইফ চন্দন পরিচালিত আলোচিত চলচ্চিত্র ‘মালিক’-এ অভিনয় করে নতুনভাবে আলোচনায় এসেছেন সূচী। অডিশনের মাধ্যমে ছবিটিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পান তিনি। তার ভাষ্য, শুরু থেকেই বুঝতে পেরেছিলেন এটি বড় পরিসরের একটি কাজ। পুরো টিমের কাছ থেকে সহযোগিতা পেয়েছেন এবং পরিচালক সাইফ চন্দনের কাছ থেকেও অনেক কিছু শিখেছেন।
‘মালিক’ সিনেমায় আরেফিন শুভর মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন সূচী। এ বিষয়ে তিনি বলেন, এই বয়সে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাওয়া তার জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। শুধু শুভর মায়ের চরিত্র নয়, পুরো গল্পের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশের দায়িত্ব তার ওপর ছিল বলেও মনে করেন তিনি। দর্শক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াকে নিজের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে দেখছেন এই অভিনেত্রী।
শুটিংয়ের স্মরণীয় অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সূচী জানান, সাঁতার না জানলেও একটি দৃশ্যের প্রয়োজনে তাকে নদীতে নেমে শুটিং করতে হয়েছিল। সেই মুহূর্তটি তার অভিনয়জীবনের অন্যতম চ্যালেঞ্জিং অভিজ্ঞতা।
অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীত নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। বর্তমানে ২৫টির বেশি নতুন গান প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে রয়েছে গীতিকার কাব্যিক পলাশের সঙ্গে পাঁচটি দ্বৈত ও পাঁচটি একক গান, কবি আবদুর রহিমের লেখা ১০টি একক গান এবং শরিফুল ইসলাম শামীমের লেখা পাঁচটি একক গান। পাশাপাশি কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানও শিগগিরই প্রকাশ পাবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে সূচী বলেন, একজন ভালো অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে ধারণ করে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন।
শিল্পী পরিচয়ের বাইরেও নিজেকে একজন মানবিক মানুষ হিসেবে দেখতে চান কানিজ ফাতেমা সূচী। তার বিশ্বাস, মূল্যবোধ, মানবিকতা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য নিহিত। সাংস্কৃতিক চর্চার অনুপ্রেরণা পরিবার থেকেই পেয়েছেন বলে জানান তিনি। বিশেষ করে তার বাবার সাংস্কৃতিক অনুরাগ এবং পারিবারিক পরিবেশই আজকের সূচীকে গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। নিজের মেধা এবং সাংস্কৃতিক প্রজ্ঞার মাধ্যমে সূচী এগিয়ে যাবেন তার অভিষ্ট লক্ষে, তার জন্য অনেক অনেক শুভকামনা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সাফল্যের আলোয় নেপথ্যে এ আর পিয়াস মো আবদুল করিম সোহাগ একটি বিজ্ঞাপনে কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিই কখনো একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে পারে। কারও চোখের অভিব্যক্তি, কারও কথার ধরন কিংবা পর্দায় উপস্থিতির স্বাভাবিকতাই বদলে দিতে পারে পুরো বিজ্ঞাপনের আবহ। কিন্তু সেই চরিত্রের জন্য ঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করার কাজটি শুরু হয় ক্যামেরা চালুর অনেক আগেই। সেই নেপথ্যের কাজটিই করেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর। আর বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন এ আর পিয়াস। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে ফটোশুট, ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে উপযুক্ত শিল্পী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মাতা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ভাবনাকে পর্দায় বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছেন তিনি। একটি চরিত্রের জন্য কাকে নেওয়া হবে, সেটি শুধুই চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। চরিত্রটির বয়স, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক উপস্থিতি, অভিব্যক্তি, অভিনয়ের দক্ষতা, কথাবলার ধরন থেকে শুরু করে গল্পের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সামঞ্জস্য, সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়। কখনো পরিচিত একজন অভিনয়শিল্পীর বদলে একেবারে নতুন কাউকে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত। এ আর পিয়াসের কাজের দর্শনও অনেকটা সেখানেই। তার কাছে কাস্টিং মানে পরিচিত মুখের তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেওয়া নয়। বরং গল্পের প্রয়োজন বুঝে এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে চরিত্রটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। কারণ তার মতে, অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রের মধ্যে মিল তৈরি না হলে ভালো গল্প কিংবা বড় বাজেটের নির্মাণও দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে না। কাজটি তাই শুরু হয় স্ক্রিপ্ট পড়া কিংবা নির্মাতার ব্রিফ বোঝার মধ্য দিয়ে। চরিত্রটির প্রয়োজন কী, তাকে পর্দায় কেমন দেখাতে হবে, তার বয়স বা ব্যক্তিত্ব কেমন হওয়া উচিত, অভিনয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য শিল্পীদের খুঁজে বের করেন কাস্টিং ডিরেক্টর। এরপর অডিশন, স্ক্রিন টেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের যাচাই করে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট টিমের সামনে উপযুক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞাপনের জগতে এ আর পিয়াসের কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। সাম্প্রতিক সময়ে তার কাস্টিং করা উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, সেভয় আইসক্রিম, সখী স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, বিকাশ, ইনফিনিক্স মোবাইল, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, ক্লোজআপ, লাইফবয়, সার্ফ এক্সেল, রিয়েলমি ফোন, ভ্যাসলিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, অপো মোবাইল, মার্ক্স পাউডার মিল্ক ও আকিজ ড্রিংকিং ওয়াটারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাজ। তবে বিজ্ঞাপনের পরিসর এখন আর শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিক নেই। ওভিসি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কনটেন্ট, ফটোশুট, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল ও ওটিটি প্রজেক্টেও চরিত্র ও ট্যালেন্টের প্রয়োজন বাড়ছে। একই সঙ্গে বদলেছে শিল্পী খোঁজার মাধ্যমও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন অনেক নতুন মুখ সহজেই নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কাস্টিং ডিরেক্টরের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্মাতা ও নতুন ট্যালেন্টের মধ্যে এই জায়গাটিই অনেকটা সেতুর মতো কাজ করে। এ আর পিয়াস মনে করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আলাদা কোনো না কোনো সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সঠিক চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়াই একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের বড় দায়িত্ব। ফলে তার কাজের লক্ষ্য শুধু পরিচিত শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা নয়, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রতিভাকেও সামনে নিয়ে আসা। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি গল্প, আবেগ কিংবা ব্র্যান্ডের বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। সেই অল্প সময়ের মধ্যে চরিত্রটি যদি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তাহলে বিজ্ঞাপনের প্রভাবও অনেক বেড়ে যায়। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতার শুরুটা হয় সঠিক মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ কারণেই বিজ্ঞাপনের পর্দায় একজন অভিনয়শিল্পীকে যতটা দেখা যায়, তার পেছনে থাকা কাস্টিং প্রক্রিয়াটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এ আর পিয়াস সেই নেপথ্যের কাজটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংকে আরও পেশাদার ও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নতুন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের সমন্বয়ে নির্মাতা ও ব্র্যান্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ট্যালেন্ট খুঁজে দেওয়ার কাজটিকেই আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চান তিনি। কারণ একটি বিজ্ঞাপনের সাফল্যের গল্পে ক্যামেরার সামনে থাকা মুখগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই মুখগুলোকে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগরও কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সেই নেপথ্যের কারিগরদের একজন হিসেবেই নিজের জায়গা তৈরি করছেন কাস্টিং ডিরেক্টর এ আর পিয়াস

©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102