
—তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা—
আসন্ন দুর্গাপুজোর ঢাকে কাঠি পড়তে এখনও কিছুটা সময় বাকি। তার আগেই উৎসবের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা নিয়ে পুজো কমিটি গুলিকে সতর্ক করল প্রশাসন। পুজোর দিনগুলিতে আইন শৃঙ্খলা বজায় রাখা,যানজট নিয়ন্ত্রণ,অগ্নিনিরাপত্তা এবং বিসর্জন পর্ব নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ১৭ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার ২০২৬ সন্ধ্যায় নিউ বারাকপুরের কৃষ্টি অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হল প্রশাসনিক সমন্বয় সভা। নিউ বারাকপুর থানার অধীন শহর ও গ্রামাঞ্চলের প্রায় ১০০টি পুজো কমিটির প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। সভায় পুজো কমিটি গুলির উদ্দেশে সরকারি নির্দেশিকা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন থানার এসআই সন্দীপ মণ্ডল। জানানো হয়, মহালয়ার আগে কোনও পুজোর উদ্বোধন করা যাবে না। মণ্ডপ নির্মাণের সময় রাস্তা দখল করে বা সাধারণ মানুষের যাতায়াতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না। পুজো মণ্ডপে এবং প্রতিমা বিসর্জনের সময় ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে বিতর্কিত কোনও থিম বা প্রতিমা ব্যবহার না করার জন্য উদ্যোক্তাদের সতর্ক করা হয়। নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা রাখা বাধ্যতামূলক। দর্শনার্থীদের জন্য পৃথক প্রবেশ ও বাহিরের গেট রাখতে হবে। রাতের দিকে ভিড় বাড়লে পরিস্থিতি সামাল দিতে পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক মোতায়েন রাখতে হবে। অষ্টমীর দিন সমস্ত মদের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশও রয়েছে। অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলা হয়। মণ্ডপে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপক সরঞ্জাম রাখতে হবে। বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ ও লিকেজের বিষয়েও উদ্যোক্তাদের বাড়তি নজর দিতে বলা হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মণ্ডপে আপৎকালীন জরুরি পরিষেবার প্রয়োজনীয় নম্বরের তালিকা রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশা পাশি লেজার আলো ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। নিয়ম অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। পুজোর ভিড় সামলানো এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে পুজো কমিটির স্বেচ্ছাসেবকদের সঙ্গে পুলিশ ও সিভিক কর্মীদের সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মণ্ডপ উদ্বোধনে ভিআইপি বা ভিভিআইপি অতিথি এলে অন্তত দু’দিন আগে থানাকে জানাতে হবে বলেও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। বিসর্জন পর্ব নিয়েও প্রশাসনের তরফে একাধিক বিধিনিষেধ জানানো হয়। ২৪ অক্টোবরের মধ্যে সমস্ত প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করতে হবে। নিরঞ্জনের কাজে কোনও ক্রেন ব্যবহার করা যাবে না। বিসর্জন ঘাটে কোনওরকম বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। পাশা পাশি কার্নিভাল আয়োজন করা যাবে না বলে জানানো হয়েছে। সরকারি অনুদান সংক্রান্ত বিষয়েও পুজো কমিটি গুলিকে প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া হয়। কোথায়, কীভাবে আবেদন করতে হবে এবং কী কী আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করতে হবে, তা বিস্তারিতভাবে জানান এসআই দিব্যেন্দু মণ্ডল। নতুন পুজো কমিটির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সমস্ত আনুষ্ঠানি কতা সম্পূর্ণ করার পর অনুমোদনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। বড় পুজো কমিটিগুলিকে সরকারি অনুদানের জন্য আবেদন না করার অনুরোধও করা হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ঘোলা এসিপি সাকিব আহমেদ,নিউ বারাকপুর থানার আইসি সুপ্রিয় কুণ্ডু, বিদ্যুৎ দপ্তরের স্টেশন ম্যানেজার কৃষ্ণচন্দ্র দাস,সোদপুর ট্রাফিকের ওসি কুমারেশ ঘোষ,দমকলের লিডিং ফায়ার অপারেটর তন্ময় দাস,আশিক উদ্দিন মণ্ডল,পুরসভার নির্বাহী আধিকারিক রজনী কান্ত ঘোষ এবং বারাসাত জিআরপির আধিকারিকরা।
প্রশাসনের তরফে পুজো কমিটিগুলিকে বার্তা দেওয়া হয়েছে উৎসবের আনন্দ ও জৌলুস বজায় রেখেই নিরাপত্তা,শৃঙ্খলা এবং সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। মানুষের নির্বিঘ্নে পুজো দেখা এবং উৎসবকে শান্তিপূর্ণ রাখাই প্রশাসনের প্রধান লক্ষ্য।