
পলাশ সেন চট্টগ্রাম
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিতের whatsapp নাম্বার সাইবার এ্যাটাকের শিকার হয়েছে।
সময় তখন দুপুর বারোটা। প্রথমেই একটি অপরিচিত নাম্বার থেকে কল তারপর ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে পরিচয় দেওয়া হয় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এরপর বিভিন্ন কথোপকথন। ফোনেই যেন চলছে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ।
হ্যাকার ভিকটিমকে প্রশ্ন করেন আপনি পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তাদেরকে ফোন দিয়ে গালিগালাজ করছেন আমাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। আর তাই আপনার বিষয়টি তদন্ত করতে আপনাকে কল দিয়েছি। ভিকটিম তখন উত্তর দিল আমি এ ধরনের কোন কর্মকান্ডের সাথে জড়িত নই এবং প্রশ্ন ছুড়ে দিল আপনি প্রশাসনের কোন ডিপার্টমেন্টে কোন জায়গায় আছেন। হ্যাকার বিষয়টিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য এবার অডিও কল কেটে ভিডিও কল দেয়। ভিকটিম ভিডিও কলে দেখেন পুলিশের পোশাক পরা এক লোককে। যিনি নিজেকে পরিচয় দেন এসআই আরিফ নামে এবং বলেন ডিবি ঢাকা ব্রাঞ্চে রয়েছেন। এখন ভিকটিম বিশ্বাস করলো হ্যাকার প্রশাসনিক লোক। কিন্তু এই ভিডিও কলটি ছিল হ্যাকারের পাতানো একটি ফাঁদ।
যে পাতানো ফাঁদে পা দিয়েই whatsapp এর ব্যক্তিগত সকল পাসওয়ার্ড এবং ইনফরমেশন দিয়ে দিল হ্যাকারকে ট্রাস্টি দীপক কুমার পালিত (ভিকটিম) নিজেই। কিছুক্ষণ পরেই দেখে উনার whatsapp নাম্বার আর নিজের নিয়ন্ত্রণে নেই। সকল ব্যক্তিগত ইনফরমেশন দিয়ে দেওয়ার কারণে whatsapp নাম্বার এখন হ্যাকারের নিয়ন্ত্রণে।
এবার শুরু হয় হ্যাকারের মূল খেলা, ভিকটিমের হোয়াটসঅ্যাপে সেইভ থাকা বিভিন্ন নাম্বারে কল দিয়ে চাওয়া হয় টাকা। প্রায় ২-৩ ঘণ্টা পর ভিকটিম বিষয়টা বুঝতে পেরে নিজের পার্শ্ববর্তী কোতোয়ালি থানায় গিয়ে অভিযোগ ভিত্তিতে একটি জিডি করেন এবং থানার তদন্ত ওসি জনাব সেলিমের সাথে বসে ভিকটিম পুরো ঘটনার বিস্তারিত বিষয় অবগত করেন। পুরো ঘটনা শোনার পর বিষয়টিকে তদন্ত ওসি গুরুত্বের সাথে নিয়ে থানার চৌকষ এসআই মো: সাইফুলকে দায়িত্ব দেন যেন দ্রুত সমস্যাটি সমাধান করা হয়।
সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে কোতোয়ালি থানার তদন্ত ওসি মো: সেলিম বলেন বর্তমানে প্রশাসন বিষয়টি খুবই গুরুত্ব সহকারে নজরদারিতে রেখেছেন এবং সবাইকে এই ঘটনাটি নিয়ে উদ্দীগ্ন না হয়ে সতর্ক থাকার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন।