
—তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা–
অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাবে উদ্ভিদের কোষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়,তা নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছেন আইআইটি মান্ডির বিজ্ঞানীরা। তাঁদের দাবি, মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্র না থাকলেও উদ্ভিদের কোষ অ্যানেস্থেশিয়ার সময় অত্যন্ত সুসংগঠিত ও সমন্বিত আচরণ প্রদর্শন করে। ২ জুলাই বুধবার এই আবিষ্কার জীবজগতের চেতনা ও অ্যানেস্থেশিয়ার কার্যপ্রণালী সম্পর্কে নতুন করে ভাবার সুযোগ তৈরি করেছে। আইআইটি মান্ডির ডিরেক্টর অধ্যাপক লক্ষ্মীধর বেহেরা এবং অধ্যাপক চয়ন কান্তি নন্দীর নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণার ফলাফল আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী Advanced Biology ২০২৫ এবং Chemical & Biomedical Imaging ২০২৬-এ প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় টমেটো ও বেগুন গাছের মূলের কোষে অত্যাধুনিক লাইভ-সেল মাইক্রোস্কোপির মাধ্যমে অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাব পর্যবেক্ষণ করা হয়। বিজ্ঞানীরা দেখেন, অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাবে কোষের বিভিন্ন অঙ্গাণু নির্দিষ্ট ক্রমে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে এবং অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাব শেষ হলে একই অঙ্গাণুগুলি উল্টো ক্রমে আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় নিউক্লিয়াস প্রধান নিয়ন্ত্রকের ভূমিকা পালন করে। গবেষণার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো, অ্যানেস্থেশিয়ার সময় বিভিন্ন কোষের নিউক্লিয়াসে থাকা ইউক্রোমাটিন একই সঙ্গে সমন্বিতভাবে অবস্থান পরিবর্তন করে। বিজ্ঞানীদের মতে,এটি এমন একটি কোষীয় প্রতিক্রিয়া,যা ভবিষ্যতে চেতনানাশক অবস্থার একটি সম্ভাব্য সার্বজনীন জৈব-চিহ্ন বায়োমার্কার হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
অধ্যাপক লক্ষ্মীধর বেহেরা বলেন, এই গবেষণার ফলাফল ভারতীয় জ্ঞান পরম্পরায় বর্ণিত চেতনা সম্পর্কিত ধারণার সঙ্গে কিছু ক্ষেত্রে সাদৃশ্যপূর্ণ হলেও, বিষয়টি নিয়ে আরও বিস্তৃত বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।
বর্তমানে গবেষক দল C. elegans নামে একটি অণুজীবের উপর একই ধরনের গবেষণা চালাচ্ছেন। সেখানে একই ধরনের কোষীয় পরিবর্তন ধরা পড়লে জীবজগতের বিভিন্ন স্তরে অ্যানেস্থেশিয়ার প্রভাব এবং চেতনার কোষীয় বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।