
আনোয়ারা ( চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি
ভালোবেসে ধর্মীয় রীতি ও আদালতের হলফনামার মাধ্যমে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন রঞ্জন ও টুম্পা। কিন্তু বিয়ের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় নববধূর নিখোঁজ হওয়া এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে তাকে ‘গুম’ করে রাখার অভিযোগে আনোয়ারা থানায় অভিযোগ করেছেন স্বামী রঞ্জন দত্ত। ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা উপজেলার সিংহরা গ্রামের প্রকাশ দত্তের ছেলে রঞ্জন দত্ত (৩০) এবং একই গ্রামের বাবুল নাথের মেয়ে টুম্পা দেবীর (২০) মধ্যে প্রায় ৬ বছর প্রেমের সম্পর্কের পর গত ১০ ম চট্টগ্রাম আদালতে নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে বিবাহের হলফনামা সম্পন্ন করেন। সনাতন ধর্মাবলম্বী এই যুগল ধর্মীয় রীতি মেনেও বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের পর টুম্পা দেবী তার বাবার বাড়ি থেকে বইপত্র আনার জন্য
তার বাবার বাড়িতে যান। এরপর টুম্পা দেবী তার স্বামীকে মোবাইল ফোনে জানান,তাকে তার বাবা মা মিলে একপ্রকার জোড় করে অন্যত্র নিয়ে যাচ্ছেন। এরপর ফোন কেটে দেই। এরপর স্বামী রঞ্জন তার সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে উদ্ধার করতে তার শ্বশুর বাড়িতে গিয়ে দেখেন তাদের বাড়ি তালাবদ্ধ। পাশের বাড়ির লোকজন জানান তারা শহরে চলে গেছে। তারপর রঞ্জন তার শ্বশুর বাবুল নাথকে মোবাইলে ফোন দিলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে ফোন কেটে দেন। এরপর থেকে রঞ্জনকে বিভিন্ন জনের মাধ্যমে ফোন করে হুমকি দিতে থাকেন। এদিকে স্ত্রীর কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সহায়তা নেন। শেষ পর্যন্ত নিরুপায় হয়ে রঞ্জন দত্ত তার শ্বশুর বাবুল নাথ (৫০) এবং শাশুড়ি ঝুমকা দেবী (৪০)-এর বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে রঞ্জন দত্ত উল্লেখ করেন, বিবাদীগণ পরিকল্পিতভাবে তার স্ত্রীকে লুকিয়ে রেখেছেন। তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট করতে টুম্পাকে শারীরিক বা মানসিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আইনগতভাবে তারা প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া সত্ত্বেও বিবাদীগণ তাদের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করছেন।
১০ মে তারিখের হলফনামায় দেখা যায়, রঞ্জন ও টুম্পা উভয়েই নিজেদের প্রাপ্তবয়স্ক দাবি করে স্বেচ্ছায় ও সজ্ঞানে বিবাহের অঙ্গীকার করেছিলেন।
নিখোঁজ গৃহবধূ টুম্পা দেবীর ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে রঞ্জনের পরিবার চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এই বিষয়ে আনোয়ারা থানার এসআই শিমুল দাশ জানান, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।