—তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা—
আন্তর্জাতিক সীমান্তের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা যেন ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে অন্তরায় না হয়। প্রত্যন্ত গ্রামের প্রান্তিক মানুষ ও যাতে নিজেদের অধিকার সম্পর্কে জানতে পারেন এবং বিনামূল্যে আইনি পরিষেবার সুযোগ পান,সেই লক্ষ্যেই সুন্দরবনের সীমান্তবর্তী শামশের নগরে পৌঁছে গেল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ। নালসা NALSA মেগা ড্রাইভের দ্বিতীয় পর্যায়ে ২ নভেম্বর সোমবার ২০২৬ এই গ্রামে অনুষ্ঠিত হল আইনি সচেতনতা শিবির। একই সঙ্গে খালিতলা গ্রাম পঞ্চায়েতে উদ্বোধন করা হল গ্রাম আইনি সহায়তা কেন্দ্র। প্রত্যন্ত জনপদে ন্যায়বিচারের সুযোগ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
উত্তর ২৪ পরগনার সুন্দরবন অঞ্চলের প্রান্তিক জনপদ শামশেরনগর। গ্রামের জিরো পয়েন্টের ওপারেই বাংলাদেশ। মাঝখানে সীমান্তের প্রাকৃতিক বিভাজন কালিন্দী নদী। ভৌগোলিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও দারিদ্র্য, অনুন্নয়ন এবং শিক্ষার সীমিত সুযোগের কারণে এখানকার বহু মানুষ নানা নাগরিক ও আইনি পরিষেবা থেকে দূরে থেকে যান। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই নালসার মেগা ড্রাইভের দ্বিতীয় পর্যায়ের কর্মসূচিতে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে এই গ্রাম। এদিন উত্তর ২৪ পরগনা জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব সরেজমিনে শামশের নগর পরিদর্শন করেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে সরাসরি মত বিনিময়ের মাধ্যমে তাঁদের সমস্যা,অভাব- অভিযোগ ও আইনি জটিলতার কথা শোনেন। পাশাপাশি নাগরিক অধিকার,বিনামূল্যে আইনি সহায়তা পাওয়ার যোগ্যতা, ন্যায়বিচার লাভের পদ্ধতি এবং আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন জনকল্যাণ মূলক প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেন। এই কর্মসূচির বিশেষ আকর্ষণ খালিতলা গ্রাম পঞ্চায়েতে গ্রাম আইনি সহায়তা কেন্দ্রের উদ্বোধন। এর ফলে শামশের নগর-সহ পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের এলাকাতেই বিনামূল্যে আইনি পরামর্শ ও সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। আইনি সমস্যার সমাধানে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে দূরবর্তী দপ্তরে বারবার যাওয়ার পরিবর্তে স্থানীয় স্তরেই সহায়তা পাওয়ার পথ সুগম হবে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা, হেমনগর কোস্টাল থানার সাব-ইনস্পেক্টর, বিদ্যালয় পরিদর্শক, শামশেরনগর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় সমাজকর্মীরা।
প্রশাসনিক পরিষেবার পাশাপাশি আইনি পরিষেবাকেও মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার এই উদ্যোগের তাৎপর্য সুদূরপ্রসারী। কারণ, আইনের অধিকার সম্পর্কে অজ্ঞতা কিংবা আর্থিক অসামর্থ্য যেন কোনও নাগরিকের ন্যায়বিচার পাওয়ার পথে বাধা না হয়,সেটাই এই কর্মসূচির মূল বার্তা। সীমান্তের শেষ প্রান্তের মানুষের কাছেও আইনের আলো পৌঁছে দেওয়ার এই প্রচেষ্টা সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।