
—তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা—
প্রকৃতির ভয়াবহ তাণ্ডবে কোথাও ধ্বংসস্তূপ,কোথাও কাদামাটিতে ঢেকে থাকা জনপদ,কোথাও ভাঙাচোরা রাস্তা আর সেই ধ্বংসের মাঝেই অসহায় মানুষের বেঁচে থাকার এক কঠিন লড়াই। আজ নেপালের দুর্গত মানুষের পাশে পৌঁছে গেছে ‘জয় বাবা ভূতনাথ,পৌঁছে যাবো অমরনাথ’সংস্থার মানবিক উদ্যোগের দল।
মানবতার আহ্বানে সুদূর ভারত থেকে নেপালের দুর্গত মানুষের পাশে ছুটে এসেছে এই মানবিক দল। এই মানবিক উদ্যোগের সঙ্গে রয়েছেন জয় বাবা ভূতনাথ, পৌঁছে যাবো অমরনাথ’ কমিটির প্রাণপুরুষ প্রসেনজিৎ হালদার,কমিটির মুখপাত্র ও প্রেস সদস্য শমীক ব্যানার্জী,মুখ্য উপদেষ্টা ডা. বারীন সাহা এবং যুব সদস্য দীপ মণ্ডল। তাঁদের অদম্য মানসিকতা ও মানবিক উদ্যোগের বার্তা একটাই মানুষের বিপদে মানুষের পাশে থাকা। দুর্গত নেপালের গ্রাউন্ড জিরোতে পৌঁছে স্বজনহারা, সর্বস্বহারা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে সোলার সিস্টেম ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক সামগ্রী। একসময় যেখানে ছিল স্বাভাবিক জীবন, ঘরবাড়ি, স্বপ্ন আর ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আজ সেখানেই ছড়িয়ে রয়েছে ধ্বংসের চিহ্ন।
ভাঙা রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি
কাদায় ডুবে থাকা জনপদ
আর তার মাঝেই স্বজন হারানোর অসহনীয় বেদনা।
উন্মত্ত নদীর স্রোত মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিয়েছে বহু মানুষের ঘর,জীবিকার শেষ সম্বল,প্রিয়জনের নিরাপত্তা। কাউকে করেছে সর্বস্বহারা, কাউকে করেছে স্বজনহারা।
কারও চোখে আতঙ্ক,কারও কণ্ঠে অসহায়তার আর্তি, আবার কেউ এখনও অপেক্ষা করছেন প্রিয়জনের খবরের আশায়। এই ভয়াবহ বাস্তবতার সাক্ষী হতে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে এবং প্রয়োজনের সময়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে সরাসরি দুর্গত এলাকায় পৌঁছে গেছে ‘জয় বাবা ভূতনাথ,পৌঁছে যাবো অমরনাথ’ সংস্থার দল।
পাশে ছিলাম পাশে আছি পাশেই থাকব। এটি শুধু ত্রাণ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নয়
এটি বিপর্যস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক অঙ্গীকার। দুর্যোগের এই কঠিন সময়ে নিরাপদ আশ্রয়,খাবার,পোশাক,প্রয়োজনীয় দৈনন্দিন সামগ্রী এবং মানবিক সহায়তা আজ দুর্গত মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়া প্রতিটি দৃশ্য যেন এক একটি পরিবারের বেদনার গল্প। ধ্বংসস্তূপের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষগুলির চোখের জল বলে দেয় প্রকৃতির একটি আঘাত কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে বদলে দিতে পারে একটি সম্পূর্ণ জীবন।
কিন্তু ধ্বংসের মধ্যেও হার মানেনি মানুষ। অন্ধকারের মধ্যেও তাঁরা খুঁজছেন আলোর পথ। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও তাঁরা দেখছেন নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন। সেই স্বপ্নের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা নিয়েই এগিয়ে চলেছে ‘জয় বাবা ভূতনাথ,পৌঁছে যাবো অমরনাথ’। দুর্গত মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং তাঁদের পাশে মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
দুর্গম পথ,প্রতিকূল পরিস্থিতি কিংবা বিপদের আশঙ্কা কিছুই থামাতে পারেনি এই মানবিক যাত্রাকে পাশে ছিলাম,পাশে আছি, আগামী দিনেও পাশে থাকব।
প্রয়োজন শুধু আপনাদের শুভেচ্ছা,আশীর্বাদ, সহযোগিতা ও ভালোবাসারনেপালের এই বিপর্যয় আমাদের আবারও মনে করিয়ে দেয় মানবতার কোনও সীমা নেই।মানুষের বিপদে মানুষই মানুষের সবচেয়ে বড় আশ্রয়দুর্যোগে মানুষ মানুষের পাশে। ধ্বংসস্তূপের মাঝেও মানবতার জয় হোক।