
আনোয়ারা ( চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি
পল্লী কবি জসীম উদ্দীনের বিখ্যাত আসমানি কবিতা যেন ফুটে উঠেছে এক বৃদ্ধার জীবনে। ভাঙ্গা বেড়ায় ঝুপড়ি ঘরে চলছে মানবেতর বসবাস। অভাব অনটন আর এক বুক জ্বালায় ঝেঁকে বসেছে এই বৃদ্ধার। রাতে ছেড়া কাঁথা আর শাড়ী মুড়ায়েই ঘুমাতে হয় তার। অসহায় এ বৃদ্ধা হচ্ছেন
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার বোয়াল গাঁও দক্ষিণ পাড়ার রানী বালা মিত্র, যিনি এলাকায় মধু বুড়ি নামে পরিচিত। স্বামী ও একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে পৃথিবীতে এখন তিনি একেবারেই একা। আছেন একজন কন্যা।যার বিবাহ হয়েছে বহু আগে। তিনিও প্রায় অধিক বয়সী। । বৃষ্টির পানি আর ঠান্ডা বাতাস থেকে মুক্তি পেতে শাড়ির আঁচল আর ছেড়া কাঁথাই যেন তার শান্তির পরশ। এই বর্ষায় তার মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকু নিয়ে চিন্তায়। এ যেন অন্য এক মানবেতর জীবন যাপন মধু বুড়ির।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা বেড়ার টিনের ছাপড়ার ছোট্ট একটি ঘর। ঘরের চালে অনেক ছিদ্র। পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ঘরের ছাউনি। ঝুপড়ি ঘর থেকেই দেখা যায় আকাশ। শীতের কুয়াশার শিশির আর বর্ষার বৃষ্টি পড়ে প্রতিনিয়ত । নেই কোন টয়লেট। নিজ শক্তিতে হাঁটতে না পারা মধু বুড়ি টয়লেট করতে যেতে হয় অন্যের বাড়িতে। যা তার জন্য অনেক কষ্টের।
ঘরের বারান্দায় বসে থাকতে দেখা যায় এ অসহায় বৃদ্ধাকে। পড়নে হালকা পাতলা কাপড়, সারা শরীর থরথর করে কাঁপছিলেন তিনি। অন্যের সহযোগিতা ছাড়া পারেননা হাটতে। কথা বলতে ও শুনতে পারেননা বৃদ্ধা মধু বুড়ি।
মধু বুড়ির মেয়ে জানান,অনেক আগেই তার বাবা ও একমাত্র ভাই মারা যান। তারও বয়স হয়েছে। অনেক কষ্টে মাকে দুবেলা ভাত তিনি এসে দিয়ে যান। ঘরের অবস্থাটি এতই করুণ যে, আকাশে মেঘ জমলে তার বুকটা কষ্টে ফেটে যায়। কারণ বৃষ্টি আসলেই তার মা ভিজে যায়। এই কষ্ট সয়বার মতো নই। কিন্তু তিনি নিরুপায়।
প্রতিবেশী সুমন মিত্র ও ডে কে মিত্র জানান, এই অসহায় বৃদ্ধা মধু বুড়ি মানবতর জীবন জীবনযাপন করছে।সমাজে এত বিত্তশালী মানুষ আছেন, কেই এসে তার ঘরটি একটু মেরামত করে দেইনা। তারা সমাজের বিত্তশালী, এলাকার সাংসদ, উপজেলা প্রশাসনের কাছে এই অসহায় মহিলাটির পাশে দাড়ানোর আহবান জানান।
বয়সের ভার আর একাকীত্বের মাঝেও তাঁর সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো মাথার উপর একটি নিরাপদ ছাদ নেই। যে ঘরে তিনি থাকেন, বর্ষার প্রতিটি বৃষ্টিতে সেটি হয়ে ওঠে দুর্বিষহ — চারদিক থেকে পানি ঢুকে পুরো মেঝে ভিজে যায়, আর ভারী বৃষ্টিতে ঘরের জীর্ণ চাল যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে মাথার উপর। পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই, না পরিবার, না প্রতিবেশী। এই অসহায় বৃদ্ধার একটাই শেষ চাওয়া, জীবনের বাকি দিনগুলো একটু নিরাপদ আশ্রয়ে কাটানো। আপনার একটু সাহায্য এই বৃদ্ধার শেষ জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।