
প্রথম ডেক্স
মেয়ের বিবাহ সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের কথা বলে ডেকে নিয়ে জামাতা জয় দে কে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ির বিরুদ্ধে।
গত ২৮ জুন রবিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা এলাকার জেমিসন মাতৃসদন হাসপাতালে এই হত্যা চেষ্টার ঘটনাটি ঘটেছে। এই ঘটনায় জামাতা জয় দে বাদি হয়ে শাশুড়ী পম্পি সেন সহ চার জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৫/৬ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম আদালতে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আসামিরা হলেন পম্পি সেন, নোবেল দে (পম্পি সেনের পরকীয়া প্রেমিক ), পটিয়া মাতৃভাণ্ডার এলাকার টিপু দে,পান্ত দে, এনাম প্রকাশ আকাশ,এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জয় দে ও শ্রাবন্তী সেনের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর আদালতের হলফনামা ও চট্টশ্বরী কালী মন্দিরে তাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকে শাশুড়ি পম্পি সেনের সাথে জয় দে-এর নানা বিষয়ে মতবিরোধ শুরু হয়। মূলতঃ শাশুড়ী পম্পি সেনের পরকীয়ার বিষয়টি জামাতা জয় দে জেনে যাওয়ার পর থেকেই তাদের মধ্যে এই মতবিরোধ শুরু হয়। শাশুড়ী পম্পি সেনের স্বামী সাধন দে প্রবাসী। এই সুযোগে পম্পি সেনের সাথে স্থানীয় যুবক নোবেল দে এর পরকীয়া সম্পর্কটি গড়ে উঠে। জামাতা শাশুড়ির পরকীয়ার বিষয়টি জেনে যাওয়ায় জামাতা জয় দে কে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন শাশুড়ি পম্পি সেন।
অভিযোগ সূত্রে আরো জানা যায়, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে শাশুড়ি পম্পি সেনের একটি অনৈতিক সম্পর্কের গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়া। পটিয়া উপজেলার মাতৃভাণ্ডার এলাকার বাসিন্দা নোবেল দে নামের এক যুবকের সাথে পম্পি সেনের গত ৫ বছর ধরে পরকীয়া ও অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল। জামাতা জয় দে এই অবৈধ সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যাওয়া এবং এর প্রতিবাদ করার কারণেই তার ওপর এই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী জয় দে জানান, তার স্ত্রী শ্রাবন্তী সেনের মা পম্পি সেন পারিবারিক সমস্যার সমাধানের কথা বলে তাকে আন্দরকিল্লার একটি নির্জন স্থানে ডেকে আনেন। এরপর পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পম্পি সেনের প্রেমিক নোবেল দে, প্রান্ত দে এবং টিপু দে-এর সহযোগিতায় ভাড়াটে গুন্ডারা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চালানো এই হামলায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়। তখন জয় দে-এর চিৎকার শুনে কয়েকজন লোক এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় জনতা ধাওয়া করে এনাম নামে এক ভাড়াটে গুন্ডাকে হাতেনাতে আটক করে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। তবে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী পম্পি সেনসহ অন্য অভিযুক্তরা কৌশলে পালিয়ে যায়। পরে জয় দে এ ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে এনাম প্রকাশ আকাশ,শাশুড়ী পম্পি সেন,পটিয়া উপজেলার মাতৃভাণ্ডার এলাকার টিপু দে, প্রান্ত দে, পম্পি সেনের প্রেমিক নোবেল দে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন এর নাম উল্লেখ করে চট্টগ্রাম আদালতে একটা হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করা করেন। পরকীয়া প্রেমের জেরে ভাড়াটে খুনি দিয়ে জয় দে তাকে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় জড়িত পম্পি সেন ও তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন জয় দে।
মামলার পর আদালত আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করেছেন। ঘটনার পর থেকেই মামলার অভিযুক্ত শাশুড়ি পম্পি সেন, টিপু দে এবং পরকীয়া প্রেমিক নোবেল দে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলার রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা নিজেদের ব্যবহৃত মোবাইল গুলো বন্ধ করে রেখেছে।
বিবাহের মত পবিত্র সম্পর্ককে কালিমালিপ্ত করে নিজের অনৈতিক সম্পর্ক আড়াল করতে একজন মায়ের এই রূপ নৃশংস হয়ে ওঠা এবং জামাতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ভাড়াটে খুনি লেলিয়ে দেওয়ার ঘটনা সবাইকে স্তম্ভিত করেছে। অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় একজন যুবকের জীবন আজ বিপন্ন। স্থানীয় সচেতন মহল ও মানবাধিকার কর্মীরা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং পলাতক আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
থানার পুলিশ জানিয়েছে, আটককৃত এনামকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার সাথে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।