বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এনডিএম চেয়ারম্যান ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী র সাথে চট্টগ্রাম এনডিএম নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত আজাদ ভারত কনক্লেভ ২.০-তে উন্নত বাংলা থেকে উন্নত ভারতের লক্ষ্যে সুশাসনের বার্তা সাফল্যের আলোয় নেপথ্যে এ আর পিয়াস মো আবদুল করিম সোহাগ একটি বিজ্ঞাপনে কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিই কখনো একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে পারে। কারও চোখের অভিব্যক্তি, কারও কথার ধরন কিংবা পর্দায় উপস্থিতির স্বাভাবিকতাই বদলে দিতে পারে পুরো বিজ্ঞাপনের আবহ। কিন্তু সেই চরিত্রের জন্য ঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করার কাজটি শুরু হয় ক্যামেরা চালুর অনেক আগেই। সেই নেপথ্যের কাজটিই করেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর। আর বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন এ আর পিয়াস। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে ফটোশুট, ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে উপযুক্ত শিল্পী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মাতা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ভাবনাকে পর্দায় বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছেন তিনি। একটি চরিত্রের জন্য কাকে নেওয়া হবে, সেটি শুধুই চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। চরিত্রটির বয়স, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক উপস্থিতি, অভিব্যক্তি, অভিনয়ের দক্ষতা, কথাবলার ধরন থেকে শুরু করে গল্পের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সামঞ্জস্য, সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়। কখনো পরিচিত একজন অভিনয়শিল্পীর বদলে একেবারে নতুন কাউকে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত। এ আর পিয়াসের কাজের দর্শনও অনেকটা সেখানেই। তার কাছে কাস্টিং মানে পরিচিত মুখের তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেওয়া নয়। বরং গল্পের প্রয়োজন বুঝে এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে চরিত্রটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। কারণ তার মতে, অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রের মধ্যে মিল তৈরি না হলে ভালো গল্প কিংবা বড় বাজেটের নির্মাণও দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে না। কাজটি তাই শুরু হয় স্ক্রিপ্ট পড়া কিংবা নির্মাতার ব্রিফ বোঝার মধ্য দিয়ে। চরিত্রটির প্রয়োজন কী, তাকে পর্দায় কেমন দেখাতে হবে, তার বয়স বা ব্যক্তিত্ব কেমন হওয়া উচিত, অভিনয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য শিল্পীদের খুঁজে বের করেন কাস্টিং ডিরেক্টর। এরপর অডিশন, স্ক্রিন টেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের যাচাই করে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট টিমের সামনে উপযুক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞাপনের জগতে এ আর পিয়াসের কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। সাম্প্রতিক সময়ে তার কাস্টিং করা উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, সেভয় আইসক্রিম, সখী স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, বিকাশ, ইনফিনিক্স মোবাইল, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, ক্লোজআপ, লাইফবয়, সার্ফ এক্সেল, রিয়েলমি ফোন, ভ্যাসলিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, অপো মোবাইল, মার্ক্স পাউডার মিল্ক ও আকিজ ড্রিংকিং ওয়াটারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাজ। তবে বিজ্ঞাপনের পরিসর এখন আর শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিক নেই। ওভিসি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কনটেন্ট, ফটোশুট, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল ও ওটিটি প্রজেক্টেও চরিত্র ও ট্যালেন্টের প্রয়োজন বাড়ছে। একই সঙ্গে বদলেছে শিল্পী খোঁজার মাধ্যমও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন অনেক নতুন মুখ সহজেই নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কাস্টিং ডিরেক্টরের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্মাতা ও নতুন ট্যালেন্টের মধ্যে এই জায়গাটিই অনেকটা সেতুর মতো কাজ করে। এ আর পিয়াস মনে করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আলাদা কোনো না কোনো সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সঠিক চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়াই একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের বড় দায়িত্ব। ফলে তার কাজের লক্ষ্য শুধু পরিচিত শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা নয়, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রতিভাকেও সামনে নিয়ে আসা। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি গল্প, আবেগ কিংবা ব্র্যান্ডের বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। সেই অল্প সময়ের মধ্যে চরিত্রটি যদি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তাহলে বিজ্ঞাপনের প্রভাবও অনেক বেড়ে যায়। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতার শুরুটা হয় সঠিক মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ কারণেই বিজ্ঞাপনের পর্দায় একজন অভিনয়শিল্পীকে যতটা দেখা যায়, তার পেছনে থাকা কাস্টিং প্রক্রিয়াটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এ আর পিয়াস সেই নেপথ্যের কাজটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংকে আরও পেশাদার ও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নতুন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের সমন্বয়ে নির্মাতা ও ব্র্যান্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ট্যালেন্ট খুঁজে দেওয়ার কাজটিকেই আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চান তিনি। কারণ একটি বিজ্ঞাপনের সাফল্যের গল্পে ক্যামেরার সামনে থাকা মুখগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই মুখগুলোকে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগরও কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সেই নেপথ্যের কারিগরদের একজন হিসেবেই নিজের জায়গা তৈরি করছেন কাস্টিং ডিরেক্টর এ আর পিয়াস পুবালী ব্যাংকের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস মদিনা মার্কেট’ ক্যাম্পেইন শুরু বোয়ালখালীতে বসতঘরে চোরাই গরু-মহিষ, জব্দ মোটরসাইকেল ফের আলোচনায় অভিনেত্রী নওরিন আজাদ ভারত কনক্লেভ ২.০-তে উন্নত বাংলা থেকে উন্নত ভারতের লক্ষ্যে সুশাসনের বার্তা আনোয়ারায় বিভিন্ন ফার্মেসিতে অভিযান,৬৫ হাজার টাকা অর্থ দন্ড সুফিবাদী ঐক্য ফোরামের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারাঃ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন সমগ্র জাতির জন্য কল্যাণ ও মাহাত্ম্যপূর্ণ  অভিভাবকহীন জয় কালীহাটের প্রধান সড়কের  বেহাল অবস্থা, দুর্ভোগে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা

চট্টগ্রামে সিভিক স্পেস, ডাটা প্রটেকশন ও ডিজিটাল সিকিউরিটি বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২৬
  • ১১৫ বার পড়া হয়েছে

প্রথম ডেক্স

‎সিভিক স্পেস সুরক্ষা, তথ্য নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং দায়িত্বশীল ডিজিটাল ও স্মার্ট ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নাগরিক সমাজের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরাম এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস (CP&J)-এর যৌথ উদ্যোগে SUSHIL (Supporting the Unity and Sustainability of Civil Society Organizations to Uphold Human Rights, National Integrity and Rule of Law in Bangladesh) প্রকল্পের আওতায় ” Training workshop on Civic Space, Data Protection & Digital Security” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা মঙ্গলবার (৩০ জুন) চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়িস্থ ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রধান নির্বাহী উৎপল বড়ুয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালাটি পরিচালনা করেন সংগঠনটির ম্যানেজার রিদুয়ানুল হাকীম রিয়াদ। সমন্বয় করেন ব্রাইট বাংলাদেশ ফোরামের প্রোগ্রাম অফিসার বিষু চক্রবর্তী।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরিয়ম নেসা, লিড, উইমেন রাইটস অ্যান্ড জেন্ডার ইকুইটি, একশনইড বাংলাদেশ এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৌসুমি বিশ্বাস, প্রজেক্ট ম্যানেজার, সুশীল প্রকল্প, একশনইড বাংলাদেশ, নীলুফা সুলতানা শেতা, অপারেশনস ম্যানেজার, সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস (CP&J), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং লিটন দত্ত, ম্যানেজার, ফাইন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস (CP&J), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি।

কর্মশালার রিসোর্স পারসন ছিলেন ড. মোতাহার আখন্দ, চেয়ারপার্সন, রাইটস সেন্টার ট্রাস্ট এবং ভিজিটিং ফেলো, সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস (CP&J), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি। তিনি সিভিক স্পেস, নাগরিক অধিকার, তথ্য সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা, দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং মানবাধিকারভিত্তিক প্রশাসনিক চর্চা বিষয়ে বিভিন্ন কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন।

‎কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন; চট্টগ্রাম মহানগর জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. মোস্তাফিজুর রহমান; চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের ইনচার্জ ডা. নুরুল মোমেন; মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, চট্টগ্রামের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী; চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (ASP) মো. নুরুল ইসলাম; ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, চট্টগ্রামের ইনচার্জ সুপ্তা দত্ত; বিএমইটির সহকারী পরিচালক মহেন্দ্র চাকমা; পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বেগম শাহান ওয়াজ; মেট্রোপলিটন কৃষি কর্মকর্তা রোজিনা আক্তার; বাংলাদেশ বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় কর্মকর্তা (প্রশাসন) মোহাম্মদ আনিসুর রহমান; এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শাকাওয়াত হোসেন; উইমেন্স টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের অধ্যক্ষ ইঞ্জিনিয়ার আশরিফা তানজিম; জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস; মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আজিজ; পরিবেশ অধিদপ্তরের রোমানা আক্তার; যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল বাশার; বিটাকের নির্বাহী প্রকৌশলী ফারহানা আক্তার; সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন; চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের রাসেল মাহমুদ এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ।

বক্তারা বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে তথ্য সুরক্ষা, সাইবার নিরাপত্তা এবং নাগরিকের ডিজিটাল অধিকার নিশ্চিত করা এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। এ ক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার করা অত্যন্ত জরুরি।

‎দিনব্যাপী কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সিভিক স্পেসের সুরক্ষা, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, দায়িত্বশীল তথ্য ব্যবস্থাপনা, সাইবার ঝুঁকি মোকাবিলা এবং মানবাধিকারভিত্তিক সুশাসন প্রতিষ্ঠায় করণীয় বিষয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি কেস স্টাডি, দলীয় আলোচনা এবং অংশগ্রহণমূলক অনুশীলনের মাধ্যমে বাস্তব অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়।

আয়োজকরা জানান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজের মধ্যে কার্যকর অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, জবাবদিহিমূলক ও মানবাধিকারসম্মত ডিজিটাল পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সাফল্যের আলোয় নেপথ্যে এ আর পিয়াস মো আবদুল করিম সোহাগ একটি বিজ্ঞাপনে কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিই কখনো একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে পারে। কারও চোখের অভিব্যক্তি, কারও কথার ধরন কিংবা পর্দায় উপস্থিতির স্বাভাবিকতাই বদলে দিতে পারে পুরো বিজ্ঞাপনের আবহ। কিন্তু সেই চরিত্রের জন্য ঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করার কাজটি শুরু হয় ক্যামেরা চালুর অনেক আগেই। সেই নেপথ্যের কাজটিই করেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর। আর বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন এ আর পিয়াস। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে ফটোশুট, ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে উপযুক্ত শিল্পী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মাতা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ভাবনাকে পর্দায় বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছেন তিনি। একটি চরিত্রের জন্য কাকে নেওয়া হবে, সেটি শুধুই চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। চরিত্রটির বয়স, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক উপস্থিতি, অভিব্যক্তি, অভিনয়ের দক্ষতা, কথাবলার ধরন থেকে শুরু করে গল্পের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সামঞ্জস্য, সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়। কখনো পরিচিত একজন অভিনয়শিল্পীর বদলে একেবারে নতুন কাউকে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত। এ আর পিয়াসের কাজের দর্শনও অনেকটা সেখানেই। তার কাছে কাস্টিং মানে পরিচিত মুখের তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেওয়া নয়। বরং গল্পের প্রয়োজন বুঝে এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে চরিত্রটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। কারণ তার মতে, অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রের মধ্যে মিল তৈরি না হলে ভালো গল্প কিংবা বড় বাজেটের নির্মাণও দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে না। কাজটি তাই শুরু হয় স্ক্রিপ্ট পড়া কিংবা নির্মাতার ব্রিফ বোঝার মধ্য দিয়ে। চরিত্রটির প্রয়োজন কী, তাকে পর্দায় কেমন দেখাতে হবে, তার বয়স বা ব্যক্তিত্ব কেমন হওয়া উচিত, অভিনয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য শিল্পীদের খুঁজে বের করেন কাস্টিং ডিরেক্টর। এরপর অডিশন, স্ক্রিন টেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের যাচাই করে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট টিমের সামনে উপযুক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞাপনের জগতে এ আর পিয়াসের কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। সাম্প্রতিক সময়ে তার কাস্টিং করা উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, সেভয় আইসক্রিম, সখী স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, বিকাশ, ইনফিনিক্স মোবাইল, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, ক্লোজআপ, লাইফবয়, সার্ফ এক্সেল, রিয়েলমি ফোন, ভ্যাসলিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, অপো মোবাইল, মার্ক্স পাউডার মিল্ক ও আকিজ ড্রিংকিং ওয়াটারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাজ। তবে বিজ্ঞাপনের পরিসর এখন আর শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিক নেই। ওভিসি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কনটেন্ট, ফটোশুট, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল ও ওটিটি প্রজেক্টেও চরিত্র ও ট্যালেন্টের প্রয়োজন বাড়ছে। একই সঙ্গে বদলেছে শিল্পী খোঁজার মাধ্যমও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন অনেক নতুন মুখ সহজেই নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কাস্টিং ডিরেক্টরের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্মাতা ও নতুন ট্যালেন্টের মধ্যে এই জায়গাটিই অনেকটা সেতুর মতো কাজ করে। এ আর পিয়াস মনে করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আলাদা কোনো না কোনো সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সঠিক চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়াই একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের বড় দায়িত্ব। ফলে তার কাজের লক্ষ্য শুধু পরিচিত শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা নয়, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রতিভাকেও সামনে নিয়ে আসা। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি গল্প, আবেগ কিংবা ব্র্যান্ডের বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। সেই অল্প সময়ের মধ্যে চরিত্রটি যদি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তাহলে বিজ্ঞাপনের প্রভাবও অনেক বেড়ে যায়। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতার শুরুটা হয় সঠিক মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ কারণেই বিজ্ঞাপনের পর্দায় একজন অভিনয়শিল্পীকে যতটা দেখা যায়, তার পেছনে থাকা কাস্টিং প্রক্রিয়াটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এ আর পিয়াস সেই নেপথ্যের কাজটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংকে আরও পেশাদার ও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নতুন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের সমন্বয়ে নির্মাতা ও ব্র্যান্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ট্যালেন্ট খুঁজে দেওয়ার কাজটিকেই আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চান তিনি। কারণ একটি বিজ্ঞাপনের সাফল্যের গল্পে ক্যামেরার সামনে থাকা মুখগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই মুখগুলোকে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগরও কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সেই নেপথ্যের কারিগরদের একজন হিসেবেই নিজের জায়গা তৈরি করছেন কাস্টিং ডিরেক্টর এ আর পিয়াস

©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102