মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু প্রতিনিধি :
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদল লংগদু উপজেলা শাখার সদস্য সচিব ছৈয়দ মোঃ ইউনুছ এর বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও নানা অনিয়মের প্রতিবাদে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে ৭টি ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক ও সদস্য সচিব এবং ওয়ার্ড পর্যায়ে যুবদল নেতৃবৃন্দের সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর) বেলা ২টায় লংগদু প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার সকল ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে এ ঘোষণা দেন।
সংবাদ সম্মেলনে ৭টি ইউনিয়ন যুবদলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হয়ে লিখিত বক্তব্যে বলেন, অত্যন্ত দুঃখের সাথে জানাতে হচ্ছে যে, লংগদু উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব সৈয়দ ইউনুছ দীর্ঘদিন ধরে দলীয় গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন করে আসছেন। তিনি দলের নেতাকর্মীদের সাথে অশালীন আচরণ, হুমকি প্রদান, প্রকাশ্যে দলের নীতি-আদর্শ পরিপন্থী বক্তব্য প্রদান এবং নানা ধরনের অপকর্ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের সাথে জড়িয়ে পড়েছেন।
নেতৃবৃন্দ বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন সমূহের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের জন্য তাগিদ দেওয়া হলেও তিনি নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন, নেতাকর্মীদের উপর চড়াও হন এবং কমিটি দেওয়ার কথা বলে অর্থ গ্রহণ করেন। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অসংখ্য আর্থিক অনিয়ম ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে গুলশাখালী ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক নুর আলম বলেন, লংগদু উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ছৈয়দ মোঃ ইউনুছ গুলশাখালী কমিটি অনুমোদনের নামে আমার নিকট আশি হাজার টাকা দাবী করে ইতিমধ্যে ত্রিশ হাজার টাকা নিয়েও কমিটি দিচ্ছে না, আরও পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবী করে আসছে। উক্ত টাকা দিতে না পারার কমিটি অনুমোদন দিচ্ছে না। গতকাল রাতে এবিষয়ে কথা বলার এক পর্যায়ে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাকে মারধর করে, আমি বিষয়টি উপজেলা বিএনপি ও জেলা কমিটির সিনিয়রদের জানিয়েছি এবং এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।
সংবাদ সম্মেলনে লংগদু সদর যুবদলের সদস্য সচিব ফয়েজ আহম্মেদ মিজি অভিযোগ করেন, ছৈয়দ ইউনুস দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দিয়ে প্রশাসনিক ভাবে আমাকে চরম হয়রানি করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ সৈয়দ ইউনুছের দখল বাণিজ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান এবং তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। একইসাথে তাকে লংগদু উপজেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে অবিলম্বে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রাঙামাটি জেলা যুবদলের উর্ধ্বতন নেতৃত্বের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানান।
সংবাদ সম্মেলন উপজেলার ৭টি ইউনিয়নের আহ্বায়ক, সদস্য সচিব এবং ৬৩টি ওয়ার্ড যুবদলের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।