বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০১:২৩ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
বাবার অনুপ্রেরণাতেই ছোটবেলা থেকে গানের জগতে পা রাখেন নুসরাত জাহান কৃতি তৃণমূল নেতাকর্মী ও জনগণই দলের মূল শক্তি- আনোয়ারায় লায়ন হেলাল সিলেট বিভাগে হাম-রুবেলা সংক্রমণ ও টিকাদান পরিস্থিতি নিরূপণে মাঠপর্যায়ে জরিপ মুকুন্দপুর মনিপাল হাসপাতালে স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান ‌‌ ব্লাড ক্যান্সার আক্রান্ত ঈমন ইসলামের পাশে বোয়ালখালী সম্মিলিত বৌদ্ধ পরিষদের প্রধান প্রতিষ্ঠা উদ্যোক্তা মানবিক মানুষ অধীর বড়ুয়া পলতা শান্তিনগর শিশু ভবনে শিশুদের স্বপ্নের আনন্দ ভাগে পুজোর সার্থকতা বারাসাত রবীন্দ্র ভবনে শিশু সুরক্ষায় এক মঞ্চে প্রশাসন ‌ কর্ণফুলীতে কবিরাজি চিকিৎসায় পিতার হাতে ছেলের মৃত্যুর অভিযোগ আনোয়ারায় ইউপি নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী যাচাই-বাছাই কমিটির মতবিনিময় সভায় রায়পুর ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ইসমাইল বিন মনির লংগদু প্রেসক্লাবের মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

বাবার অনুপ্রেরণাতেই ছোটবেলা থেকে গানের জগতে পা রাখেন নুসরাত জাহান কৃতি

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৩১ বার পড়া হয়েছে

 

মো আবদুল করিম সোহাগ

মাত্র চার বছর বয়সে প্রথমবার মঞ্চে উঠেছিলেন নুসরাত জাহান কৃতি। বাবার হাত ধরে সেই মঞ্চে গান গেয়ে প্রথম পরিবেশনাতেই পেয়েছিলেন তৎকালীন সময়ে এডিডাস কোম্পানির চেয়ারম্যানের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকার চেক। ছোট্ট বয়সের সেই মঞ্চ অভিজ্ঞতাই যেন কৃতির সংগীতযাত্রার প্রথম বড় প্রাপ্তি। এরপর কেটে গেছে অনেক বছর। গানের সঙ্গে পথচলাও হয়েছে আরও পরিণত। এবার ‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’ মঞ্চে নিজের প্রতিভার নতুন পরিচয় তুলে ধরে মৌলিক গান নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চান এই শিল্পী।

সংগীত কৃতির কাছে নতুন কোনো অধ্যায় নয়, বরং পারিবারিক উত্তরাধিকার। পুরো পরিবারই গানের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার বাবা বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনের তালিকাভুক্ত সংগীতশিল্পী ছিলেন, পাশাপাশি নিজের একটি সংগীতের দলও ছিল। বাবার অনুপ্রেরণাতেই ছোটবেলা থেকে গানের জগতে পা রাখেন কৃতি। বাংলা গানের পাশাপাশি সাত-আটটি ভাষায় গান গাইতে পারেন তিনি। অনেকে তাকে বাংলাদেশের ‘শাকিরা’ বলেও ডাকেন।

ঢাকার ধানমন্ডিতে নানাবাড়িতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা কৃতির। পড়াশোনাও ঢাকাতেই। ধানমন্ডি গভর্নমেন্ট গার্লস হাই স্কুল থেকে ম্যাট্রিক এবং লালমাটিয়া মহিলা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট সম্পন্ন করেন। এরপর সরকারি সঙ্গীত মহাবিদ্যালয় থেকে নজরুল ও ক্ল্যাসিক্যাল বিষয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মাস্টার্সে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া কৃতি পড়াশোনার পাশাপাশি কলকাতা ও শান্তিনিকেতনে গান করারও সুযোগ পেয়েছেন।

তবে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সংগীতে আসার গল্পটা একটু ভিন্ন। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত কমার্সের শিক্ষার্থী ছিলেন কৃতি। বাবার ইচ্ছাতেই পরে সরকারি সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। শুরুতে খুব একটা আগ্রহ না থাকলেও ধীরে ধীরে বদলে যায় সেই ভাবনা। সঙ্গীত মহাবিদ্যালয়ের পরিবেশ, বিভিন্ন ধারার গান শেখার সুযোগ এবং শিক্ষকদের নিবিড় প্রশিক্ষণ তাকে সংগীতের প্রতি আরও গভীরভাবে টেনে নেয়।

কৃতির ভাষায়, ওই সময়টা ছিল তার জীবনের অন্যতম সুন্দর অধ্যায়। একই জায়গায় নজরুল, রবীন্দ্র, লোকসংগীত ও ক্ল্যাসিক্যালের মতো বিভিন্ন ধারার সংগীত শেখার সুযোগ ছিল। শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মেঝেতে বসে ক্লাস করতেন, একসঙ্গে বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীরাও ক্লাস করার সুযোগ পেতেন। সেই পরিবেশই সংগীতকে তার জীবনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে জুড়ে দেয়।

পরিবারের সমর্থনও কৃতির পথচলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বাবা-মায়ের পাশাপাশি মামা, খালা ও কাজিনদের অনেকেই গান করেন। পারিবারিক অনুষ্ঠানেও নিয়মিত বসে গানের আসর। ছোটবেলা থেকেই এমন সংগীতময় পরিবেশে বেড়ে ওঠার কারণে গান তার কাছে শুধু পেশা নয়, জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে।

বর্তমানে কৃতির আলোচনায় আসার অন্যতম কারণ ‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’। তার কাছে এই প্ল্যাটফর্ম শুধু একটি প্রতিযোগিতা নয়, একজন শিল্পীকে আবিষ্কারের বড় সুযোগ। কৃতি মনে করেন, এমন মঞ্চে পৌঁছাতে একজন শিল্পীকে দীর্ঘদিন সাধনা করতে হয়। ‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’-এর টপ টেনে আসার পর আন্তর্জাতিক সংগীত প্রতিযোগিতার ইতিহাস নিয়েও আগ্রহী হয়ে ওঠেন তিনি।

ভাগাভাগি নয়, শাকিরার কোনো একটি গান তার সঙ্গে গাওয়ার স্বপ্নও দেখেন। স্বপ্নটা বড় হলেও সেটিকে অসম্ভব মনে করেন না কৃতি। তার বিশ্বাস, স্বপ্নের পেছনে ভালোবাসা, চেষ্টা ও লেগে থাকার মানসিকতা থাকলে একদিন তা বাস্তবে রূপ নেয়।

এতদিন কভার গানেই বেশি ব্যস্ত ছিলেন কৃতি। তবে ‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’-এর মাধ্যমে নিজের গানের প্রতি শ্রোতাদের ভালোবাসা পাওয়ার পর এবার মৌলিক গানে বেশি মনোযোগ দিতে চান তিনি। কভার গান চলবে, তবে পাশাপাশি নিজের কিছু গানও শ্রোতাদের উপহার দিতে চান।

কৃতির স্বপ্নটা আরও দীর্ঘমেয়াদি। এমন কিছু গান তৈরি করতে চান, যেগুলো শুধু তার সময়ের শ্রোতারাই নয়, পরবর্তী প্রজন্মও গাইবে। তার ভাষায়, তিনি যেমন এখন অন্য শিল্পীদের গান করছেন, তেমনি একদিন অন্যরাও যেন তার গান মঞ্চে পরিবেশন করেন। তখন সেই গানের মধ্য দিয়েই বেঁচে থাকার অনুভূতি পাবেন তিনি।

চার বছর বয়সে যে মঞ্চে উঠে গানের প্রথম স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, সেখান থেকে আজকের ‘ভয়েস অব বাংলাদেশ’—কৃতির পথচলা এখন নতুন এক অধ্যায়ের সামনে। এবার লক্ষ্য নিজের গান, নিজের পরিচয় আর একদিন সেই স্বপ্নের বিশ্বমঞ্চ।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102