
আব্দুস সালাম (জয়), ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:
জাতীয় ভূমি সেবা মেলা উদযাপন উপলক্ষে ঝিনাইদহে অবহিতকরণ সভা ও প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১৭ই মে রবিবার দুপুর ১২ টায় ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই প্রেস কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার এর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ রায়। সভায় জেলার ৬টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আগামী ১৯-২১ মে
তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভূমি সেবা মেলা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় ডিজিটাল ভূমি সেবা প্রাপ্তি, নাগরিক সেবা নিশ্চিতে সরকারের নানা উদ্যোগ ও সেবা মেলা উদযাপনের কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করা হয়।
সভায় প্রধান অতিথি বলেন, জমির খতিয়ান তোলা, নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করা কিংবা ভূমি উন্নয়ন কর (খাজনা) পরিশোধ করা সাধারণ মানুষের জন্য একসময় সময়সাপেক্ষ, জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া ছিল।
কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে ইউনিয়ন ভূমি অফিস, উপজেলা ভূমি অফিস বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দিনের পর দিন ঘুরতে হতো। দীর্ঘসূত্রতা, তথ্যের অস্বচ্ছতা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য মানুষের ভোগান্তিকে বহুগুণে বাড়িয়ে দিত। তবে ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে সে চিত্র বদলে যাচ্ছে।
বর্তমানে মুঠোফোনে পাওয়া যাচ্ছে অধিকাংশ ভূমিসেবা। ফলে দুর্নীতি কমছে, বাড়ছে স্বচ্ছতা; নাগরিক জীবনে ফিরে এসেছে স্বস্তি।
এ বিষয়ে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন বলেছেন, অটোমেশনের ফলে জনগণকে ভূমিসেবা পেতে এখন আর সরাসরি ভূমি অফিসে যেতে হয় না। ঘরে বসে বা অনলাইনে এ সেবা পাওয়া যাচ্ছে। এতে দুর্নীতি যেমন কমেছে, সেবা প্রাপ্তিও সহজতর হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তবে এক্ষেত্রে মানুষজনকেও আরও সচেতন হতে হবে। নয়তো মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমানো কঠিন হবে।
সরকারের ভূমি মন্ত্রণালয় এবং ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তর (ডিএলআরএস) কয়েক বছরে ভূমি ব্যবস্থাপনাকে ধাপে ধাপে ডিজিটাল কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে। ফলে অনলাইনে নামজারি আবেদন, ই-নামজারি নিষ্পত্তি, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ, অভিযোগ দাখিল এবং ভূমি সংক্রান্ত তথ্য যাচাই, সবকিছুই এখন মোবাইল ফোনের মাধ্যমে করা যাচ্ছে।
ডিজিটাল ভূমি সেবা চালুর ফলে শুধু সময় ও খরচই কমেনি, বরং সেবার প্রতিটি ধাপে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে। ফলে দুর্নীতির সুযোগ কমেছে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তিও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।
আগে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করতে সরাসরি ভূমি অফিসে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হত। অনেক ক্ষেত্রে একাধিকবার যাতায়াত করতে হত। এতে সময় ও অর্থ, উভয়ের অপচয় হত। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং এবং অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই কর পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ই-পর্চা ও ই-খাজনা কার্যক্রম চালুর পর প্রতিবছর অনলাইনে কর পরিশোধকারীর সংখ্যা বাড়ছে। বর্তমানে বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ নাগরিক অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করছেন।
এসব করদাতার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশিও রয়েছেন। তারা বিদেশে বসে নিজেদের জমির খাজনা পরিশোধ করছেন। ফলে ভূমি অফিসে সরাসরি উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা অনেকটাই কমে গেছে।
জমি কেনাবেচার পর মালিকানার প্রমাণপত্র পুনর্নির্ধারণ করতে যেতে হয় নামজারি বা মিউটেশন প্রক্রিয়ায়। এটি আগে ছিল সবচেয়ে জটিল ধাপগুলোর একটি। আবেদন করতে গিয়ে অনেকে দালালের শরণাপন্ন হতেন এবং বাধ্য হয়ে সরকারি ফি এর চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টাকা খরচ করতেন।
বর্তমানে অনলাইনে নামজারি আবেদন চালুর ফলে সে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আবেদনকারী নিজেই অনলাইনে আবেদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আপলোড এবং আবেদনের অগ্রগতি মোবাইল ফোনে পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন। প্রতিটি ধাপে এসএমএস নোটিফিকেশন চালু থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটিরও বেশি ই-নামজারি আবেদন নিষ্পত্তি করা হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৫ লাখের বেশি আবেদন বিভিন্ন পর্যায়ে প্রক্রিয়াধীন।
তিনি বলেন, অটোমেশনের ফলে মানুষজন ভূমির যে সেবা পাচ্ছে, তার ডাটাবেজ সংরক্ষণ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে জিআইএস প্রযুক্তির মাধ্যমে মানচিত্রভিত্তিক জমির তথ্য দেখার সুবিধা চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ কমে আসবে, পাশাপাশি জমি নিয়ে মামলাও কম হবে।