
—তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা—
সনাতনী হিন্দু বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ,যজ্ঞের পবিত্র অগ্নি শিখা এবং ভক্তির আবহে কলকাতায় অনুষ্ঠিত হল প্রথম বারের মতো“শ্রী মহালক্ষ্মী বৈদিক মন্ত্র হোমযোগ্য পূজাপাঠ । Arth Foundation এর উদ্যোগে ১৯ ও ২০ সেপ্টেম্বর দু’দিনের এই বিশেষ আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়,বিধান গার্ডেন ১,উল্টো ডাঙা সংলগ্ন এলাকায়। বারাণসী থেকে আগত ৫১ জন বিশিষ্ট বৈদিক পণ্ডিতের উপস্থিতিতে সম্পূর্ণ বৈদিক রীতি ও মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র হোমযোগ্য ও পূজা পাঠ। সকাল ৯টা থেকে শুরু হওয়া এই যজ্ঞে অগ্নিহোত্র,বৈদিক মন্ত্রপাঠ ও বিশেষ প্রার্থনার মাধ্যমে মা মহালক্ষ্মীর আশীর্বাদ কামনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারত সরকারের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী শ্রী সুকান্ত মজুমদার। উপস্থিত ছিলেন জোড়াসাঁকোর বিধায়ক শ্রী বিজয় ওঝা-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। তাঁদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানের আধ্যাত্মিক ও সামাজিক গুরুত্ব আরও বৃদ্ধি পায়।
অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিধান গার্ডেন চত্বরে সকাল থেকেই ভক্ত ও ধর্মপ্রাণ মানুষের সমাগম দেখা যায়। বৈদিক মন্ত্রের পবিত্র ধ্বনি ও যজ্ঞের আবহে তৈরি হয় এক বিশেষ আধ্যাত্মিক পরিবেশ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়,ভারতীয় সনাতন বৈদিক সংস্কৃতি, প্রাচীন আচার অনুষ্ঠান এবং আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য। পাশাপাশি ভক্তি, আধ্যাত্মিকতা,শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও মানুষের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে এই উদ্যোগের। Arth Foundation এর ভূমিকা এই বিশেষ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত ফাউন্ডার ট্রাস্টিরা হলেন ড.মাতা শঙ্কর পাণ্ডে,সিদ্ধার্থ মানোট এবং বিশাল চৌধুরী। অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতায় ছিলেন রূপাল আগরওয়াল ও সুনীল আগরওয়াল বিধান গার্ডেন এবং অঙ্কিত শ’। দুই দিনের এই আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে,২০ সেপ্টেম্বর বিকেল থেকে আয়োজিত হয়েছে বিশেষ‘ভজন সন্ধ্যা’। অনুষ্ঠানে ভক্তিমূলক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন সম্বল পুরের রেশমি শর্মা, বিকানেরের প্রবেশ শর্মা এবং কলকাতার অরবিন্দ সাহু। অনুষ্ঠানে বৈদিক মন্ত্রোচ্চারণ,হোমযোগ্য এবং ভক্তদের অংশগ্রহণে কলকাতার বুকে ফুটে ওঠে এক অনন্য আধ্যাত্মিক আবহ। আয়োজকদের মতে,এই ধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতীয় বৈদিক ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক সংস্কৃতির সঙ্গে সাধারণ মানুষের সংযোগ আরও দৃঢ় হবে। মন্ত্রের পবিত্র ধ্বনি, যজ্ঞের অগ্নিশিখা আর ভক্তির আবেশ সব মিলিয়ে কলকাতায় সাক্ষী থাকল এক বিশেষ বৈদিক আধ্যাত্মিক আয়োজনের।