
প্রথম ডেক্স
মানবাধিকার সংগঠনের নামে কার্ড ব্যবহার করে অবাধে চলছে অপরাধ। বিচারের নামে টাকা দাবি করে আসছে কিছু ব্যাক্তি। অনেকে আবার নিজেকে বড় মানবাধিকার নেতা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন শালিসে অংশগ্রহণ করে।পাশাপাশি প্রশাসনকে হুমকিও দেই। নিজেদেরকে মানবাধিকার সংগঠনের বড় নেতা পরিচয়ে গলায় কার্ড ঝুলিয়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক দপ্তরে দপ্তরে নিজেদের ক্ষমতা জাহির করে। আসলেই কি মানবাধিকার এসব সংগঠনের কেন সরকারি রেজিষ্ট্রেশন আছে। তারা আবার এসব মানবাধিকার সংগঠনের পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে আছে। গত ৫ আগস্ট পটিয়া এলাকায় চট্টগ্রামের র্যাব-৭-এর অভিযানে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে একজনের কাছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের একটি পরিচয়পত্র পাওয়া যাওয়ার ঘটনা উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনের নামে কার্ড বানিজ্য নেশায় মরিয়া অনেকই। এমন ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিচয়পত্রটি কীভাবে ইস্যু হলো এবং এর বৈধতা কী—তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত হওয়া জরুরি। মানবাধিকার, সাংবাদিকতা কিংবা সামাজিক সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন অপরাধ আড়াল করতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। যাচাই-বাছাই ছাড়া পরিচয়পত্র ইস্যুর সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে এবং অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ, কিছু অসাধু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডে পুরো পেশা ও প্রতিষ্ঠানের সম্মান প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া উচিত নয়।
বাংলাদেশে একের পর এক মানবাধিকার সংগঠন, এখন আবার ‘আন্তর্জাতিক’ মানবাধিকার সংগঠনের ছড়াছড়ি—কিন্তু মানুষের অধিকার রক্ষায় তাদের বাস্তব ভূমিকা কোথায়?
অনেকের অভিযোগ, এসব সংগঠন মানবাধিকার রক্ষার চেয়ে আড্ডাবাজি, ছবি তোলা, কার্ড বানানো ও কার্ডের বাণিজ্যেই বেশি ব্যস্ত।
পটিয়ায় মানবাধিকার পরিচয়পত্র ও বাইকে স্টিকার ব্যবহার করে ইয়াবা পরিবহনের অভিযোগে ১ লাখ পিস ইয়াবাসহ ৬ জন গ্রেপ্তারের ঘটনা সত্যিই গভীর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
মানবাধিকারের কার্ড যদি মাদক কারবারিদের ঢাল হয়ে ওঠে, তাহলে এর চেয়ে ভয়ংকর অপব্যবহারের উদাহরণ আর কী হতে পারে?
এখন সময় এসেছে—এসব সংগঠনের নিবন্ধন, কার্ডের বৈধতা ও কার্যক্রম প্রশাসনের কঠোর নজরদারিতে আনার। মানবাধিকারের নামে কার্ড-বাণিজ্য নয়, চাই মানুষের অধিকার রক্ষার বাস্তব প্রমাণ।
এ প্রসঙ্গে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের (এইচআরপিবি) প্রেসিডেন্ট ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বলেন, কিছু অনিবন্ধিত বা ভুয়া সংগঠনের নেতাদের চাঁদাবাজি ও সালিশের নাম করে বিভিন্ন কার্যকলাপের কারণে সম্মানহানি হচ্ছে। সরকারের সংশ্লিষ্টদের উচিত নিয়মিত মনিটর করা এবং অবৈধদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, দেশে ১৯৭৯ সালের দিকে হাতেগোনা কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের কার্যক্রম ছিল। পর্যায়ক্রমে এর পরিধি বাড়তে থাকে। এক সময় কিছু টাকা দিয়ে যে কেউ মানবাধিকার সংগঠনের রেজিস্ট্রেশন বের করে নিত। ২০১১ সালে আইন পাসের পর গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ছাড়া রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয় না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০৯ সালের আগে যেসব মানবাধিকার সংগঠনের গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন ছাড়া নিবন্ধিত হয়েছে, সেগুলো নবায়ন করার ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন নেওয়ার নিয়ম বাধ্যতামূলক করা উচিত। তা না হলে প্রতারণা বন্ধ করা যাবে না।
এদিকে, জনস্বার্থে করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২০ সালের ২১ জুন হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সংগঠন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ছাড়া কোনো বেসরকারি সংস্থা তাদের নামের শেষে ‘কমিশন’ শব্দ ব্যবহার করতে পারবে না। উচ্চ আদালতের এই রায়ের পরও ‘কমিশন’ শব্দ ব্যবহার থামছে না।
এ প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, প্রত্যেক জেলা প্রশাসকের কাছে হাইকোর্টের রায়ের কপি পাঠানো হয়েছে। কোনো এনজিও বা ব্যাক্তি যদি এমন পরিচয় দেয়, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে যেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে বৈঠক হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠনের শীর্ষ ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে বৈঠকে বলা হয়, যারা মানবাধিকার নিয়ে কাজ করতে চায়, তাদের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন থেকে ছাড়পত্র (এনওসি) নেওয়ার বিধান করা উচিত।