
রতন কান্তি দাশ- লোহাগড়া ( চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি
নিউজ ২১, বাংলাটিভি ও দৈনিক প্রথম এ চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার সুখছড়ী, কলাউজান এলাকার প্রায় শত,বছরের পুরোনো পরিত্যক্ত শিব মন্দির নিয়ে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর দ্রুত গতিতে এই মন্দির সংস্কারে কাজ শুরু করেছে এলাকাবাসী ও মন্দির কমিটি। ঐতিহাসিক এ মন্দিরটির স্থাপত্যশৈলী এবং মন্দিরটি সংস্কার করে একটি পুর্নাঙ্গ মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হবে এবং আগের মতো করে পূজা অর্চনা করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
জানা যায়, লোহাগাড়া উপজেলার সুখছড়ী,কলাউজান মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত তৎকালীন জমিদার হরিশ চন্দ্র চৌধুরীর প্রতিষ্ঠিত শতাধিক বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক শিবমন্দিরটি এখন বিলীনের পথে। সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ, এবং সংস্কারের অভাবে এই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনটি আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঐতিহাসিক এই শিবমন্দিরটি চরম অযত্ন ও অবহেলায় জীর্ণ দশায় পড়ে আছে। মন্দিরের দেয়ালে গজে উঠেছে শ্যাওলা ও আগাছা, চারপাশ ঢেকে গেছে পরগাছা ও লতাপাতায়। জরাজীর্ণ ভবনটির দেয়ালের পলেস্তারা ও ইট খসে খসে পড়ছে। যেকোনো সময় এটি সম্পূর্ণ ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর মতে, লোহাগাড়া উপজেলায় হাতেগোনা যে কয়েকটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে, তার মধ্যে এই শিবমন্দিরটি অন্যতম। এখনই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ না নিলে এই ইতিহাস চিরতরে হারিয়ে যাবে।
স্থানীয় সাংবাদিক রাজু চৌধুরী বলেন “শিবমন্দিরসহ উপজেলার অন্যান্য প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাসমূহ সরকারিভাবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। আমাদের এই ঐতিহ্যগুলো টিকিয়ে রাখতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।”
এই বিষয়ে গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করেন লোহাগাড়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ডাক্তার রিটন দাশ বলেন, “লোহাগাড়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত এই শত বছরের পুরোনো মন্দিরটি, অবিলম্বে এই ঐতিহাসিক দেবোত্তর সম্পত্তি দখলমুক্ত করার জোর দাবি জানাচ্ছি। একই সাথে মন্দিরটি রক্ষায় দ্রুত সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।”
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা এই প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদটি রক্ষায় এবং মন্দিরের জমি উদ্ধার করতে সরকারের প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
প্রতিবেদনটি তৈরি করার সময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় পুজারি অবর্ন্ন চক্রবর্তী,সুধীর চক্রবর্তী, সমাজসেবক তপন দত্ত, দানবীর আনন্দ দাশ,লিটন দত্ত, বিধান দাশ, প্রশান্ত দাশ মহাজন ও প্রবীর কান্তি দাশ, কুম কুম চৌধুরী ও লন্ডন প্রবাসী ব্যারিস্টার মিটন কান্তি চৌধুরী। (প্রধান সমন্বয়ক মন্দির পরিচালনা কমিটি)। নাম রতন কান্তি দাশ (চট্টগ্রাম প্রতিনিধি) মোবাইল ০১৮৩৫২৭৪৫৫১