বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
এনডিএম চেয়ারম্যান ও প্রাথমিক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রীর সাথে চট্টগ্রাম এনডিএম নেতৃবৃন্দের মতবিনিময় আজাদ ভারত কনক্লেভ ২.০-তে উন্নত বাংলা থেকে উন্নত ভারতের লক্ষ্যে সুশাসনের বার্তা সাফল্যের আলোয় নেপথ্যে এ আর পিয়াস মো আবদুল করিম সোহাগ একটি বিজ্ঞাপনে কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিই কখনো একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে পারে। কারও চোখের অভিব্যক্তি, কারও কথার ধরন কিংবা পর্দায় উপস্থিতির স্বাভাবিকতাই বদলে দিতে পারে পুরো বিজ্ঞাপনের আবহ। কিন্তু সেই চরিত্রের জন্য ঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করার কাজটি শুরু হয় ক্যামেরা চালুর অনেক আগেই। সেই নেপথ্যের কাজটিই করেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর। আর বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন এ আর পিয়াস। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে ফটোশুট, ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে উপযুক্ত শিল্পী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মাতা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ভাবনাকে পর্দায় বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছেন তিনি। একটি চরিত্রের জন্য কাকে নেওয়া হবে, সেটি শুধুই চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। চরিত্রটির বয়স, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক উপস্থিতি, অভিব্যক্তি, অভিনয়ের দক্ষতা, কথাবলার ধরন থেকে শুরু করে গল্পের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সামঞ্জস্য, সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়। কখনো পরিচিত একজন অভিনয়শিল্পীর বদলে একেবারে নতুন কাউকে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত। এ আর পিয়াসের কাজের দর্শনও অনেকটা সেখানেই। তার কাছে কাস্টিং মানে পরিচিত মুখের তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেওয়া নয়। বরং গল্পের প্রয়োজন বুঝে এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে চরিত্রটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। কারণ তার মতে, অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রের মধ্যে মিল তৈরি না হলে ভালো গল্প কিংবা বড় বাজেটের নির্মাণও দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে না। কাজটি তাই শুরু হয় স্ক্রিপ্ট পড়া কিংবা নির্মাতার ব্রিফ বোঝার মধ্য দিয়ে। চরিত্রটির প্রয়োজন কী, তাকে পর্দায় কেমন দেখাতে হবে, তার বয়স বা ব্যক্তিত্ব কেমন হওয়া উচিত, অভিনয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য শিল্পীদের খুঁজে বের করেন কাস্টিং ডিরেক্টর। এরপর অডিশন, স্ক্রিন টেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের যাচাই করে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট টিমের সামনে উপযুক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞাপনের জগতে এ আর পিয়াসের কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। সাম্প্রতিক সময়ে তার কাস্টিং করা উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, সেভয় আইসক্রিম, সখী স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, বিকাশ, ইনফিনিক্স মোবাইল, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, ক্লোজআপ, লাইফবয়, সার্ফ এক্সেল, রিয়েলমি ফোন, ভ্যাসলিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, অপো মোবাইল, মার্ক্স পাউডার মিল্ক ও আকিজ ড্রিংকিং ওয়াটারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাজ। তবে বিজ্ঞাপনের পরিসর এখন আর শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিক নেই। ওভিসি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কনটেন্ট, ফটোশুট, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল ও ওটিটি প্রজেক্টেও চরিত্র ও ট্যালেন্টের প্রয়োজন বাড়ছে। একই সঙ্গে বদলেছে শিল্পী খোঁজার মাধ্যমও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন অনেক নতুন মুখ সহজেই নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কাস্টিং ডিরেক্টরের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্মাতা ও নতুন ট্যালেন্টের মধ্যে এই জায়গাটিই অনেকটা সেতুর মতো কাজ করে। এ আর পিয়াস মনে করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আলাদা কোনো না কোনো সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সঠিক চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়াই একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের বড় দায়িত্ব। ফলে তার কাজের লক্ষ্য শুধু পরিচিত শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা নয়, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রতিভাকেও সামনে নিয়ে আসা। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি গল্প, আবেগ কিংবা ব্র্যান্ডের বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। সেই অল্প সময়ের মধ্যে চরিত্রটি যদি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তাহলে বিজ্ঞাপনের প্রভাবও অনেক বেড়ে যায়। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতার শুরুটা হয় সঠিক মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ কারণেই বিজ্ঞাপনের পর্দায় একজন অভিনয়শিল্পীকে যতটা দেখা যায়, তার পেছনে থাকা কাস্টিং প্রক্রিয়াটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এ আর পিয়াস সেই নেপথ্যের কাজটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংকে আরও পেশাদার ও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নতুন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের সমন্বয়ে নির্মাতা ও ব্র্যান্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ট্যালেন্ট খুঁজে দেওয়ার কাজটিকেই আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চান তিনি। কারণ একটি বিজ্ঞাপনের সাফল্যের গল্পে ক্যামেরার সামনে থাকা মুখগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই মুখগুলোকে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগরও কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সেই নেপথ্যের কারিগরদের একজন হিসেবেই নিজের জায়গা তৈরি করছেন কাস্টিং ডিরেক্টর এ আর পিয়াস পুবালী ব্যাংকের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস মদিনা মার্কেট’ ক্যাম্পেইন শুরু বোয়ালখালীতে বসতঘরে চোরাই গরু-মহিষ, জব্দ মোটরসাইকেল ফের আলোচনায় অভিনেত্রী নওরিন আজাদ ভারত কনক্লেভ ২.০-তে উন্নত বাংলা থেকে উন্নত ভারতের লক্ষ্যে সুশাসনের বার্তা আনোয়ারায় বিভিন্ন ফার্মেসিতে অভিযান,৬৫ হাজার টাকা অর্থ দন্ড সুফিবাদী ঐক্য ফোরামের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারাঃ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন সমগ্র জাতির জন্য কল্যাণ ও মাহাত্ম্যপূর্ণ  অভিভাবকহীন জয় কালীহাটের প্রধান সড়কের  বেহাল অবস্থা, দুর্ভোগে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা

ইসলামে কদমবুসি-সালাম ও সম্মানী সজিদা  এর বিধান

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৬১ বার পড়া হয়েছে

লেখক-মাওঃ এস, এম রবিউল হোছাইন, সুফি ও আকিদা গবেষক  

ইসলামে সম্মানিত  মুরব্বীদের  সালাম দেওয়া, পা ছুঁয়ে সালাম করা, কদমবুসি বা  হাতে -পায়ে চুমু খাওয়া,  সজিদায়ে তাহিয়্যা করা সবগুলো আদব-শিষ্টাচার  সম্মানের অন্তর্ভুক্ত। মুরব্বি, উস্তাদ, পীর-মুর্শিদ, মাতা-পিতা, নবী (দ:)-উম্মতসহ পাঁচজনকে
অভিবাদন বা  সম্মান জানোনোর জন্য করা
হয়। কেউ আসসালামু আলাইকুম বলে, কেউ পায়ে ছুঁয়ে সালাম করে, কেউ কদমবুসি বা  হাতে-পায়ে চুমু খেয়ে, কেউ মস্তকবনত হয়ে বুজুর্গ বা সম্মানিত ব্যক্তিদের সম্মান বা সালাম করে থাকেন।

সালাম করা ও কদমবুসি করা সরাসরি হাদিস ও আছার দ্বারা প্রমাণিত সুন্নত, যা  ইমাম বুখারী (রা:) এঁর “আদাবুল মুফরাদ” ও আবু দাউদ গ্রন্থসহ বিভিন্ন ছহি হাদিস গ্রন্থে উল্লেখ আছে। অনেকে না বুঝে শিরিক বা হারাম বলে থাকেন। সিজদা দুই প্রকার:

(এক): এবাদতের সিজদা(দুই): সিজদায়ে তাহিয়্যা। এবাদতের সিজদা আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে দেওয়া কুফুরি ও শক্তভাবে হারাম৷ আর সম্মানী সিজদা নিয়ে উলামায়ে কেরামের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে, সম্মানী সজিদা পীরের কদমে বা পীরের মাজারে সালামের স্থলাভিষিক্ত হিসাবে অধিক ঝুঁকে মস্তকবনত করাকে সিজদায়ে তাহিয়্যা বলা হয়৷  আর তাযিমী সিজদা বা  সম্মানী সিজদা পবিত্র কুরআন দ্বারা প্রমাণিত।

কিন্তু  এ প্রকার সালাম, আদব বা সম্মান করা নিয়ে উলামায়ে কেরামের মাঝে এখতেলাফ বা মতানৈক্য রয়েছে। অনেক জাহেরী আলেমরা এটাকে   নাজায়েজ বলেছেন। আবার অনেক  মাশায়েখগণ  এটাকে জায়েজ বলেছেন।  আর কোন মাসআলায় মুজতাহিদগণের মতানৈক্য দেখা দিলে তাতে কোন পক্ষ ভুল বা গুনাহের হকুমে থাকেনা। উভয় পক্ষ সঠিক বলে গন্য হয়। পূর্ববর্তী সকল শরীয়তে সম্মানী সজিদা করা মুস্তাহাব হিসেবে রীতি-নীতি  ছিল, আমাদের শরীয়তে এসে এটার মুস্তাহাবের হকুম রহিত করা হয়েছে।
কিন্তু ইহার ইবাহত বা জায়েজের হকুম বলবৎ রয়েছে৷ যেমন: আশুরা ও আইয়্যামে বীজের রোজা আগের শরীয়তে ফরজ ছিল, আমাদের শরীয়তে রমজান মাসের রোজার কারণে আশুরা আইয়ামে বীজের  ফরজের হকুম মনসুখ হয়েছে কিন্তু মুস্তাহাব বা নফলের হকুম এখনো বলবৎ আছে, সম্মানী সিজদার হকুমও অনুরূপ।

পবিত্র কুরআন সুরা বাকারাহ’র ৩৪ নং আয়াত ও সুরা ইউসুফের ১০০ নং সহ মোট ১৪ টি আয়াতে ফেরেস্তাগণ কর্তৃক হযরত আদম (আঃ) কে ও হযরত ইউসুফ (আঃ) কে তার পিতামাতা ও এগারো ভাইয়ের যে সজিদার করার কথা বর্ণিত হয়েছে তা জমহুর বা অধিকাংশ মুফাচ্ছিরদের নিকট তাযিমী সিজদা বা সম্মানী সিজদা বলে পরিচিত ও আখ্যায়িত।

কিন্তু ১৪ টি আয়াত এর বিপরীতে একটা আয়াতও নাজিল হয়নি সম্মানী সিজদা করা যাবেনা এ মর্মে বা শরীয়তে মুহাম্মদীতে তা করা যাবেনা এ ধরনের কোন বর্ণনা কুরআনে আসেনি ৷

উসুলে ফিকহের কিতাব উসুলে বজদবী, নুরুল আনোয়ার কিতাবে স্পষ্ট উল্লেখ আছে- পূর্ববর্তী শরীয়তের কোন বিষয় কুরআনে বর্ণনা হলে তা দ্বীনের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়৷ যদিও কুরআন শরীফের এসব আয়াতের বিপরীতে হাদিসের কিছু বর্ণনা দ্বারা অনেক জাহেরী আলেম মনসুখ বলে দাবি করেন। হাদিসগুলো কিন্তু খবরে ওয়াহেদ খবরে ওয়াহেদ দ্বারা কুরআনের  আয়াত মনসুখ বা বাতিল হয়না৷

কিন্তু হানাফি, মালেকী, শাফেয়ী, হাম্বলী চার  মাজহাবের কোন নাসেখ-মনসুখের স্বতন্ত্র  কিতাবে তাযিমী সিজদা জায়েজের এসব আয়াত মনসুখ বা বাতেল বলে গন্য হয়নি৷

রাসুল (দঃ) এঁর বর্ণিত কিছু হাদিসে সাহাবায়ে কেরাম ইসলামের প্রাথমিক অবস্থায় সজিদা করার অনুমতি চেয়েছিল-  রাসুল (দঃ) তাঁদেরকে বিষয়টি অনুচিত বলে অনুমতি দেয়নি, বরং অনুমতি প্রার্থনায় কোন রকমের তিরস্কার  বা উচ্চবাচ্য করেননি।  তাই অনুমতি না দেওয়ায়  অনেক জাহেরী আলেমগণ তাযিমী সিজদাকে নাজায়েজ বলেছেন।

পবিত্র কুরআনে জায়েজ ও হাদিস শরীফে নাজায়েজ দ্বন্দ্বে এটা এখতেলাফী মাসআলায় বিবেচিত। আর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে,  উম্মতের এখতেলাফ হলো রহমত স্বরূপ।

পবিত্র কুরআনের আয়াতের অংশ হিসেবে অনেক সুফিয়ায়ে কেরাম সজিদায়ে তাহিয়্যাকে জায়েজ জানতেন ও মানতেন। যেমন: খাজা মঈনউদ্দীন চিশতি (রহঃ), খাজা কুতুবউদ্দিন বখতিয়ার খাকী (রহঃ), খাজা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ গঞ্জেশেখর (রহঃ) ও মাহবুবে ইলাহি নিজামুদ্দিন আউলিয়া (রহঃ)। ফাওয়ায়েদুল ফুয়াদ ওশাহ আবদুল আজিজ মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ) এর রচিত  ফতোয়ায়ে আজিজিতেও তা বর্ণিত আছে৷ মিফতাহুল আশেকিনে কিতাবেও বর্ণিত হয়েছে,  খাজা নাসির উদ্দীন মাহমুদ চেরাগ দেহলভী (রহঃ) ও হযরত বান্দা নেওয়াজ গিচু দারাজ (রহ:) কর্তৃক ইহা বৈধ বলে  স্বীকৃত। লাতায়েফে আশরাফী কিতাবে এসেছে- মখদুম আশরাফ জাহাঁগীরি সিমনানী (রহঃ)ও তা জায়েজ বলে জানতেন। মাআদানুল মাআনি কিতাবে এসেছে- মখদুম শরফুদ্দিন ইয়াহিয়া মনিয়ারী(রহঃ) ও আদদুররুল মনজুম  কিতাবে  মখদুম জাহাঁনিয়া জাহাঁগসত সৈয়দ জালালুদ্দিন বুখারী(রহঃ),তা জায়েজ জানতেন।  আনোয়ারুল  উয়ুনে কিতাবে এসেছে  শায়খ আবদুল হক রওদুলভী(রহঃ) শায়খুল আলম হযরত আবদুল কুদ্দুস গাঙ্গুহী(রহঃ)সহ অসংখ্য মুজতাহিদ পর্যায়ের উঁচু তবকার বুজুর্গ আলেমরা উপরোল্লিখিত কিতাবাদির নির্ভরযোগ্য বর্ণনায় তাযিমী সিজদা জায়েজ বলেছেন।

তাযিমী সিজদাকে মুবাহ বা বৈধ  জেনে তাদের ভক্ত মুরিদরা পীরের  সামনে ও পীরের মাজারে  মস্তকাবনত তাযিমী সিজদা বা সম্মান ভক্তি দিতেন।

এসব বুজুর্গদের কথা বিবেচনা করে উপমহাদেশের বিখ্যাত হাদিস বিশারদ শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলভী (রহঃ) মাদারেজুন নবুওয়তের ১ম খন্ড  ও মিশকাতের শরাহ  আশিআতুলুমআতে ৫ ম খন্ডে  কিছু কিছু ফকিহদের বর্ণনা মতে সজিদায়ে তাহিয়্যাকে জায়েজ বলেছেন।  এমনকি দেওবন্দী মান্যবর আশরাফ আলী থানভী সাহেবের “বাওয়াদিরুন নাওয়াদির” কিতাবে তাযিমী সিজদার বৈধতার পক্ষে কিছু কিছু মুজতাহিদ সুফির জায়েজ বলার কারণে এর উপর আমলকারীদের উপর তিরস্কার করা যাবেনা বলে মত দিয়েছেন।

তারই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশের মাইজভান্ডার দরবার, মির্জাখীল দরবার, চিশতিয়া আশরাফীয়া, আবুল উলায়ীসহ বিভিন্ন হক সিসলিসিলার অনেক দরবারে পীরমুরিদের আদবের আদলে  এ ধরনের রীতি চলমান আছে৷ তবে এটি প্রকাশ্যে খোলা মাঠে করা অনুচিত যেহেতু ফেতনা ফ্যাসাদের যুগ৷

জাহেরী অনেক ফুকাহায়ে কেরাম বাদশাহ আকবরের মতো  বিভিন্ন অত্যাচারি রাজা বাদশাহগণ জোরপূর্বক তাযিমী সিজদা নেওয়ার ফলে এটাকে হারাম, কবিরা গুনাহ লিখেছেন। অত্যাচারি রাজা বাদশাহদের জন্য  শুধু  তাযিমী সিজদা নয় হাতে চুমু দেওয়াকেও নিরুৎসাহিত করেছেন ফকিহগণ।

 

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সাফল্যের আলোয় নেপথ্যে এ আর পিয়াস মো আবদুল করিম সোহাগ একটি বিজ্ঞাপনে কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিই কখনো একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে পারে। কারও চোখের অভিব্যক্তি, কারও কথার ধরন কিংবা পর্দায় উপস্থিতির স্বাভাবিকতাই বদলে দিতে পারে পুরো বিজ্ঞাপনের আবহ। কিন্তু সেই চরিত্রের জন্য ঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করার কাজটি শুরু হয় ক্যামেরা চালুর অনেক আগেই। সেই নেপথ্যের কাজটিই করেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর। আর বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন এ আর পিয়াস। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে ফটোশুট, ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে উপযুক্ত শিল্পী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মাতা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ভাবনাকে পর্দায় বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছেন তিনি। একটি চরিত্রের জন্য কাকে নেওয়া হবে, সেটি শুধুই চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। চরিত্রটির বয়স, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক উপস্থিতি, অভিব্যক্তি, অভিনয়ের দক্ষতা, কথাবলার ধরন থেকে শুরু করে গল্পের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সামঞ্জস্য, সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়। কখনো পরিচিত একজন অভিনয়শিল্পীর বদলে একেবারে নতুন কাউকে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত। এ আর পিয়াসের কাজের দর্শনও অনেকটা সেখানেই। তার কাছে কাস্টিং মানে পরিচিত মুখের তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেওয়া নয়। বরং গল্পের প্রয়োজন বুঝে এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে চরিত্রটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। কারণ তার মতে, অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রের মধ্যে মিল তৈরি না হলে ভালো গল্প কিংবা বড় বাজেটের নির্মাণও দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে না। কাজটি তাই শুরু হয় স্ক্রিপ্ট পড়া কিংবা নির্মাতার ব্রিফ বোঝার মধ্য দিয়ে। চরিত্রটির প্রয়োজন কী, তাকে পর্দায় কেমন দেখাতে হবে, তার বয়স বা ব্যক্তিত্ব কেমন হওয়া উচিত, অভিনয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য শিল্পীদের খুঁজে বের করেন কাস্টিং ডিরেক্টর। এরপর অডিশন, স্ক্রিন টেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের যাচাই করে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট টিমের সামনে উপযুক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞাপনের জগতে এ আর পিয়াসের কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। সাম্প্রতিক সময়ে তার কাস্টিং করা উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, সেভয় আইসক্রিম, সখী স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, বিকাশ, ইনফিনিক্স মোবাইল, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, ক্লোজআপ, লাইফবয়, সার্ফ এক্সেল, রিয়েলমি ফোন, ভ্যাসলিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, অপো মোবাইল, মার্ক্স পাউডার মিল্ক ও আকিজ ড্রিংকিং ওয়াটারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাজ। তবে বিজ্ঞাপনের পরিসর এখন আর শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিক নেই। ওভিসি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কনটেন্ট, ফটোশুট, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল ও ওটিটি প্রজেক্টেও চরিত্র ও ট্যালেন্টের প্রয়োজন বাড়ছে। একই সঙ্গে বদলেছে শিল্পী খোঁজার মাধ্যমও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন অনেক নতুন মুখ সহজেই নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কাস্টিং ডিরেক্টরের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্মাতা ও নতুন ট্যালেন্টের মধ্যে এই জায়গাটিই অনেকটা সেতুর মতো কাজ করে। এ আর পিয়াস মনে করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আলাদা কোনো না কোনো সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সঠিক চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়াই একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের বড় দায়িত্ব। ফলে তার কাজের লক্ষ্য শুধু পরিচিত শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা নয়, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রতিভাকেও সামনে নিয়ে আসা। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি গল্প, আবেগ কিংবা ব্র্যান্ডের বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। সেই অল্প সময়ের মধ্যে চরিত্রটি যদি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তাহলে বিজ্ঞাপনের প্রভাবও অনেক বেড়ে যায়। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতার শুরুটা হয় সঠিক মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ কারণেই বিজ্ঞাপনের পর্দায় একজন অভিনয়শিল্পীকে যতটা দেখা যায়, তার পেছনে থাকা কাস্টিং প্রক্রিয়াটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এ আর পিয়াস সেই নেপথ্যের কাজটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংকে আরও পেশাদার ও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নতুন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের সমন্বয়ে নির্মাতা ও ব্র্যান্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ট্যালেন্ট খুঁজে দেওয়ার কাজটিকেই আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চান তিনি। কারণ একটি বিজ্ঞাপনের সাফল্যের গল্পে ক্যামেরার সামনে থাকা মুখগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই মুখগুলোকে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগরও কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সেই নেপথ্যের কারিগরদের একজন হিসেবেই নিজের জায়গা তৈরি করছেন কাস্টিং ডিরেক্টর এ আর পিয়াস

©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102