
প্রথম ডেক্স
পারিবারিক অশান্তি ও স্ত্রীর সাঙ্গে মনোমালিন্য থাকায় দুই সন্তানকে হত্যার পরিকল্পনা করে বাবা। বাড়ি থেকে বের হয়ে সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে নিখোঁজ হওয়ার নাটক সাজান তিনি। দুই দিন আত্মগোপনে থেকে শিশুসন্তানদের ঘুমের ঔষধ খাইয়ে অচেতন করে পৃথক দুটি হাওরে ফেলে হত্যা করেন তিনি। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পেরুয়া মধুপুর গ্রামের সন্তানদের হত্যার দায়ে আটক কামরুল ইসলাম নিজেই এমন তথ্য দেয় পুলিশকে। নিজ সন্তানদের হত্যার এমন লোমহর্ষক ঘটনায় বাকরুদ্ধ এলাকাবাসী।
বুধবার (১২ আগস্ট) ১২ ঘন্টার ব্যবধানে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ভাসমান অবস্থায় মেয়ে শিশু ও সদর উপজেলার গোবিনপুর এলাকার দেখার হাওরে একটি ছেলে শিশুর অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরপর দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায নড়েচড়ে বসে পুলিশ।
এদিকর গত ৭ আগস্ট (শুক্রবার) দিরাই উপজেলার পেরুয়া মধুপুর গ্রামের কামরুলসহ নিখোঁজ হয় দুই শিশু। ১০ আগস্ট সোমবারে কামরুল ফিরে আসলেও সন্তানদের খোঁজ তিনি জানেন না বলে জানান স্বজনদের। ১২ তারিখ এলাকার লোকজন কামরুলকে নিয়ে বসলে তখন তিনি স্বীকার করেন দুই সন্তানকে নিজেই হত্যার উদ্দেশ্যে ভিন্ন ভিন্ন এলাকায় পানিতে ফেলে দেয়। পরে স্থানীয়রা পুলিশকে বিষয়টা জানালে নিজের সন্তানদের হাওরে ফেলে হত্যার অপরাধে গ্রেপ্তার করে তাকে।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, আটক হওয়া কামরুল একজন ক্ষুদ্র ফেরিওয়ালা। চার সন্তান, বিধবা ও বয়স্ক মা, স্ত্রীসহ ৭ জনের টানাপোড়নে সংসার। পরিবারে অশান্তি ও স্ত্রীর সাঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় গত ৭ আগস্টে দুই সন্তান মুহাদ্দিস (৭) ও তুলনা আক্তারকে (৪) নিয়ে সিলেটে যান কামরুল। যাওয়ার পথে ৪ বছরের তুলনাকে শান্তিগঞ্জ ডাবর এলাকা পরে একটি হাওরে ছুড়ে ফেলে হত্যা করে। দুই দিন সিলেট শহরে অবস্থান করে বোরবার ছেলে মুহাদ্দিসকে ঘুমের ঔষধ খাইয়ে অচেতন করে রওয়ানা করেন বাড়ির দিকে। মধ্যপথে গাড়ি থেকে নেমে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিনপুর এলাকায় ঘুমন্ত ছেলেকে হাওরে ফেলে হত্যা নিশ্চিত করে। রাতে বাড়ি ফিরলেও পরিবারের পক্ষে থেকে সন্তানদের বিষয়ে জানতে চাইলেও নিখোঁজের নাটক সাজায় কামরুল। স্বজন ও স্থানীয়দের কাছে বুধবার সকালে নিজেই সন্তানদের হত্যার উদ্দেশ্যে হাওরে ফেলে দেয়ার কথা স্বীকার করে।
দিরাই উপজেলার পেরুয়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও পঞ্চায়েত ব্যক্তিত্ব আব্দুল জলিল বলেন, ‘এমন নেক্কারজনক ঘটনা আমার ৬৫ বছরের জীবনে শুনিনি। পিতা সন্তানদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তার জায়গা। আজকে পিতা কর্তৃক এমন ঘটনা সমাজের জন্য ভয় ও উদ্বেগের। আরও অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।’
নিহত শিশুদের মা ও কামরুল স্ত্রী আফরোজা আক্তার বলেন, ‘আমি আমার সন্তানদের হত্যার বিচার চাই। আমার স্বামীর ফাঁসি চাই।’
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(মিডিয়া)সুজন সরকার বলেন, ‘ শান্তিগঞ্জ থানায় শিশুদের মা আফরোজা আক্তার বাদী হয়ে স্বামী কামরুলকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। ময়না তদন্তে শেষে নিহত শিশুদের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এবিষয়ে দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, কামরুল তার সন্তানদের খুন করেছে নিজেই স্বীকারোক্তি দিয়েছে। এরপর স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমাকে ফোন দিয়ে জানালে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।