
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার ৩নং রায়পুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড পূর্ব গহিরা হাড়িয়া পাড়া-সংলগ্ন এলাকায় সেতু নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শাহ মোহছেন আউলিয়া সড়ক থেকে গহিরা প্যারা বন পর্যন্ত সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ যাতায়াত করেন। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় জনজীবনে নেমে এসেছে ভোগান্তি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পূর্বের সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করে দীর্ঘদিন চলাচল করতেন। পরে সরকারি উদ্যোগে নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অব্যবস্থাপনার কারণে তা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। ফেলে রাখা নির্মাণসামগ্রী নিয়েও নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।
সম্প্রতি সেতু নির্মাণকাজ পুনরায় শুরুর কথা থাকলেও নতুন করে চাঁদাবাজির অভিযোগ সামনে আসায় প্রকল্পটি আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
সবচেয়ে ভোগান্তিকর বিষয় হলো, নতুন সেতু নির্মাণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পূর্বের কাঠের সেতুটি ভেঙে ফেলা হলেও বিকল্প কোনো যাতায়াত ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে প্রায় ৫ থেকে ৬ হাজার মানুষ প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাদা ও ভাঙা অংশ পেরিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে; অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘ পথ ঘুরে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ নাজিম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “সেতু তৈরির সরকারি কাজ শুরু হলেও এখন তা বন্ধ। শুনছি কোন দল কত টাকা ভাগ পাবে, তা নিয়ে তাদের মধ্যে গ্রুপিং চলছে। পুরোনো ব্রিজটা ভেঙে ফেলায় মানুষ চরম কষ্টে আছে।”
তিনি আরও লিখেছেন, “সাধারণ মানুষের কষ্ট, সময় ও জীবিকা নিয়ে এমন খেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি, সত্যিই যদি চাঁদাবাজির কারণে মানুষের ভোগান্তি হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিন এবং কাজ দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করুন।”
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ভাঙা অবস্থায় থাকলেও তারা এর সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হওয়ার পরও অস্বাভাবিক বিলম্ব ও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
সচেতন মহলের মতে, যদি প্রকৃতপক্ষে চাঁদাবাজি বা কোনো অবৈধ চক্রের কারণে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়ে থাকে, তবে দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থগিত থাকা সেতু নির্মাণকাজ দ্রুত পুনরায় চালু করে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি লাঘবের জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।