
উৎফল বড়ুয়া
সিলেটে ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে বুকে ছুরিবিদ্ধ হয়ে নিহত র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব -৯) কনস্টেবল ইমন আচার্যের (২৬) শেষকৃত্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে। রোববার (২৪ মে) বিকেলে তাঁর নিজ গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ধলই ইউনিয়নের পশ্চিম ধলই গ্রামে গার্ড অব অনার প্রদানের মাধ্যমে এই বীর সদস্যকে শেষ বিদায় জানানো হয়।
এর আগে গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে সিলেট নগরীর সুরমা নদীর ক্বিন ব্রিজ ও কোতোয়ালি থানার মধ্যবর্তী তোপখানা এলাকায় ছিনতাইকারীর ছু রি কা ঘা তে গুরুতর আহত হন তিনি। পরে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
রোববার ২৪ মে বিকেলে ইমনের মরদেহ তাঁর নিজ গ্রামে পৌঁছালে সেখানে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন। বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল তাঁকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে রাষ্ট্রীয় সম্মান জানায়। এরপর ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।
ঘটনার দিন সিলেট কোতোয়ালি থানা পুলিশ একজন ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করছিল। এ সময় সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালনরত র্যাব সদস্য ইমন আচার্য নিজের জীবনের পরোয়া না করে ছিনতাইকারীকে ঝাপটে ধরে ফেলেন। নিজেকে মুক্ত করতে ছিনতাইকারী ধারালো ছুরি দিয়ে ইমনের বুকের বাম পাশে আঘাত করে রক্তাক্ত অবস্থায় পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই সিলেটে পুলিশ ও র্যাবের যৌথ চিরুনি অভিযান শুরু হয়। তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় রক্তমাখা ছুরিসহ প্রধান অভিযুক্ত ছিনতাইকারী আসাদুল আলম বাপ্পীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এই ঘটনায় গত শনিবার সকালে নিহতের বড় ভাই সুজিত আচার্য বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
নিহত ইমন আচার্য মাত্র তিন মাস আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন। কর্মজীবনের শুরুতেই দেশের জন্য প্রাণ দেওয়া এই তরুণ সদস্যের অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও নিজ এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।