বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ০১:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত শিক্ষা পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সিসিক প্রশাসক: পরিবেশ বিপর্যয় রোধে বেশি বেশি গাছ লাগাতে হবে একদিন জলদস্যুদেরও ডাঙায় ফিরে আসতে হবে- আনোয়ারায় পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ফটিকছড়িতে আগামীকাল সকাল সন্ধ্যা হরতাল বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ করলো আইপিএসপিজে বাংলাদেশ ( IPSPJ BANGLADESH ) মাদকনির্মূলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ব্যতিক্রমী উদ্যোগে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অব্যাহত সিসিকের উদ্যোগে শিক্ষাসামগ্রী বিতরণ: হতদরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে সিটিকর্পোরেশন মডেল থেকে অভিনেত্রী হওয়ার পথে হাবিবার যাত্রা আনোয়ারায় ডেইরি খামারে ডাকাতি: ডাকাত দলের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার গাছবাড়ীয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

আনোয়ারার এক অসহায় পরিবারের আর্তনাদের গল্প

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ১১১ বার পড়া হয়েছে

আনোয়ারা , চট্টগ্রাম

‎চট্রগ্রামের আনোয়ারায় নদীর পাড়ে পলিথিন এর ছাউনিতে বাস করে নিতাই জলদাসের পরিবার। চার ছেলের মধ্যে দুই ছেলে ছিল একমাত্র উপার্জনক্ষম আর বেচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু দেড় বছরের ব্যবধানে এই দুই ছেলের রহস্যময় মৃত্যুর কারণে এই পরিবারটি এখন একেবারে নিঃস্ব। আসলে তাদের দুই ছেলে ঠিক কি কারণে মৃত্যু  হয়েছে তা তদন্ত কিংবা মামলা করার মতো কেউ ছিলনা। এখনো নেই। পরিবারের দারিদ্র্যতা এখন এই পরিবারটিকে একেবারে ঘিরে ধরেছে। এখন এই পরিবারটির সম্বল একমাত্র কান্না।

এই কান্না কোন নাটকের ঘটনা নই।এটা এক মায়ের বুকফাটা কান্নার আর্তনাদ। মাত্র দেড় বছরের ব্যবধানে তিনি হারিয়েছেন তার দুই কর্মক্ষম দুই সন্তানকে।

চট্রগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার পড়ৈকোড়া ইউনিয়নের কালিগন্জ এলাকার নিতাই চন্দ্র দাসের পরিবার। চার ছেলের তিন মেয়ের এই সংসারে দুই ছেলেই ছিল মূল উপার্জনক্ষম ব্যাক্তি।তাদের আয়েই কোনভাবে চলতো নয় জনের এই সংসারটি।আর আজ এই দুই সন্তানই নেই এই পৃথিবীতে।

‎নদীর পাড়ে কোনভাবে পলিথিন দিয়ে ঘেরা ছোট্ট খুপরি ঘর। অনেক সময় জুটে না তাদের কোন খাবার।ছেলে হারানোর শোক আর দারিদ্র্যতার সাথে প্রতিদিন লড়াই করতে হচ্ছে তাদের। পরিবারের অভিযোগ ২০২৪ সালে তাদের দ্বিতীয় সন্তান সুকান্ত জলদাসকে দুর্গা পূজার অনুষ্ঠানে ডেকে নিয়ে যায় তার কয়েকজন বন্ধু। সেখানে তাকে খাওয়ানো হয় মদ। একদিন সেই বন্ধুরা সেখানেই রেখে দেন সুকান্তকে। পরে সে অসুস্থ হয়ে গেলে খবর দেওয়া হয় সুকান্তের পরিবারকে। অসুস্থ অবস্থায় তাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। আর কখনো সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেনি সুকান্ত। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।ঐসময় তারা টাকার অভাবে থানায় মামলাও করতে পারেনি।

মায়ের চোখের পানি যেন আর সরছেনা।প্রথম সন্তানের মৃত্যু শোক কাঠিয়ে উঠার আগেই ঘটে যায় আর একটি ভয়াবহ ট্যাজেটি।চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বড় ছেলে জনি দাশকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায় কয়েকজন লোক।পরে পটিয়া এলাকায় তাকে মারধর করা হয়।আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করালেও পরে জনি মারা যান। দুই ভায়ের শোককে বুকে নিয়ে বড় হচ্ছে অন্য ভাই বোনেরা।

স্থানীয়রা জানায়,  অর্থের অভাবে ঠিকমতো জুটে না ভাত। অনেক সময় অনাহারে কাটাতে হয় তাদের। নদীর পাশে একটু খানি জায়গায় কয়েকটা বাঁশের খুঁটি ও তেরপাল দিয়ে ঝুপড়ি ঘর বানিয়ে দিন কাটাচ্ছে তারা।

এখন অসহায় মা বাবার প্রশ্ন, গরীব বলে তারা কী তাদের সন্তান হত্যার বিচার কী পাবে, না ধামাচাপা পড়ে থাকবে?  এ আর্তনাদ পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় এমপি ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে কী পৌছাবে। না দুই সন্তান হত্যার বিচারের আশায় দিন কাটাবে নিতাই জলদাশের পরিবার।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102