সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আনোয়ারায় ঈদে মিলাদুন্নবী ও ফাতেহায়ে ইয়াজদাহুম উপলক্ষে সেমিনার শাহ মোহছেন আউলিয়া ডিগ্রী কলেজ ছাত্রদলের আয়োজনে একাদশ শ্রেণির নবীন বরণ অনুষ্ঠিত খিলগাঁওয়ে জমকালো আয়োজনে প্রো এক্স সিগনেচারের যাত্রা রোটারি ক্লাব অব চিটাগাং সিটির উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে নতুন স্কুল ড্রেস বিতরণ সিলেটে নানা কর্মসূচিতে বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত সিনেমা, নাটক ও বিজ্ঞাপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন সামি আনোয়ারায় কিশোরীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার সিলেটের গোলাপগঞ্জ দক্ষিণ ভাগ সাজিদ আলী ইরশাদ উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শন কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদ সিলেট এর ৯০ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উৎযাপন মেধা আছে, প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানসম্মত শিক্ষা: বাণিজ্যমন্ত্রী

মেধা আছে, প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানসম্মত শিক্ষা: বাণিজ্যমন্ত্রী

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ২৮ বার পড়া হয়েছে

 

উৎফল বড়ুয়া,ব্যুরো প্রধান,সিলেট

সিলেট বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতি নিশ্চিত করতে মানসম্মত শিক্ষার প্রচার ও প্রসারের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী ও সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেছেন, সিলেটের মানুষের মেধা ও যোগ্যতার অভাব নেই। প্রবাসে যুক্তরাজ্য বা উত্তর আমেরিকায় সিলেটের সন্তানরা নিজেদের যোগ্যতায় শীর্ষে অবস্থান করছেন।তবে জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা সূচকে পিছিয়ে থাকার বর্তমান চিত্র পরিবর্তনের জন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জালালাবাদ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত পরিসংখ্যান তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে শহরাঞ্চলের গড় সাক্ষরতার হার ৮২ শতাংশ হলেও সিলেট শহরে তা ৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে গ্রামাঞ্চলে সাক্ষরতার জাতীয় গড় ৭০.৩ শতাংশ হলেও সিলেটে তা মাত্র ৬৬ শতাংশ। সার্বিক বিবেচনায় দেশে গড় সাক্ষরতার হার ৭৪ শতাংশ হলেও সিলেট বিভাগে এই হার ৬৯.৪ শতাংশ, যা দেশের ৮টি বিভাগের মধ্যে সর্বনিম্নে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২২ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা পাঁচ বছর সিলেট বিভাগে ছেলেদের তুলনায় মেয়ে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল। তবে মূল স্কুলের সংখ্যাসহ অন্যান্য শিক্ষাগত অবকাঠামোর দিক থেকেও ৮টি বিভাগের মধ্যে সিলেট বিভাগ অষ্টম স্থানে রয়েছে।
প্রশাসনে সিলেটের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “আজ থেকে ২০ বছর আগেও প্রশাসনে সিলেট অঞ্চলের সচিব, মেজর জেনারেলসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের যে উপস্থিতি ছিল, তা এখন অনেক কমে এসেছে। ১০-১৫ জনের দলে আমাদের খুব অল্পসংখ্যক প্রতিনিধি পাওয়া যায়। সিলেটবাসীর মেধার অভাব নেই, প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা।”
প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাক্ষেত্রে বিদ্যমান দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সবলতায় রূপান্তরের তাগিদ দেন প্রধান অতিথি। সারাদেশে শিক্ষার্থীদের পঠন দক্ষতা (রিডিং এবিলিটি) ও গাণিতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সরকার প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার ডিপিপি প্রক্রিয়া বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, শুধু ইট-কাঠ-পাথরের অবকাঠামো তৈরি করলেই শিক্ষার মান বাড়ে না। শিক্ষার প্রকৃত মান অর্জনে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী, অভিভাবকদের সচেতনতা এবং দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় প্রাথমিক শিক্ষার কয়েকটি প্রধান কাঠামোগত সংকট যেমন—নারী শিক্ষকদের দূরবর্তী পদায়ন জটিলতা নিরসন, শিক্ষকদের সম্মানজনক বেতন কাঠামো নিশ্চিতকরণ এবং শ্রেণিকক্ষে শিশুদের ক্ষুধা মেটাতে ‘মিড-ডে মিল’ বা পুষ্টিকর খাবার চালুর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়।
সিলেট অঞ্চলে শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি যুবসমাজকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে কারিগরি শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি ঘোষণা দেন, বহির্বিশ্বের সহযোগিতায় সিলেটে শিগগিরই একটি সর্বাধুনিক এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ট্রেনিং সেন্টার গড়ে তোলা হবে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টার সাথে আলোচনার সূত্র ধরে তিনি জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে যৌথ সহযোগিতায় এআই ট্রেনিং সেন্টার তৈরির কাজ ত্বরান্বিত করা হবে। এতে সিলেটে একটি নতুন আইটি-বান্ধব প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং বাজার থেকে সম্মানজনক আয় নিশ্চিত করে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখবে।
কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে সামাজিক অভিশাপ দূর করার আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, কারিগরি ও আইটি খাতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হলে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার যে প্রবণতা রয়েছে, তা রোধ করা সম্ভব হবে।
অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও শিল্প সচিব আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমেদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েল ভিসি ডা. জিয়াউর রহমান, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন, জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন, সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জালালাবাদ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের কর্মকর্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা পর্ব শেষে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মেধাবী শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ ও সনদপত্র তুলে দেন অতিথিরা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102