
মোহাম্মদ কমরুদ্দিন ,চন্দনাইশ ( চট্টগ্রাম ) প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) এলাকার সম্মিলিত বর্ষবরণ ও বৈশাখী মেলা উদযাপন উপলক্ষে মেলা উদযাপন কমিটির আয়োজনে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আয়োজক কমিটির আহবায়ক সাবেক ছাত্রনেতা এম এ হাসেম রাজু। শনিবার ( ১১ এপ্রিল ) গাছবাড়িয়া সরকারি কলেজ মাঠে মুক্ত মঞ্চে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এসময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, দক্ষিণ জেলা বিএনপি নেতা মোজাম্মেল হক বেলাল, অশ্রু বড়ুয়া, সিরাজুল ইসলাম সওদাগর, মোরশেদুল আলম চৌধুরী মুন্না, বিশিষ্ট লেখক, গবেষক ও কবি রূপক রক্ষিত, যুবদল নেতা সিরাজুল ইসলাম, নুর মোহাম্মদ সওদাগর, এম এ কাশেম চৌধুরী প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে এম এ হাশেম রাজু বলেন, নববর্ষ শুধু নিছক একটা ক্যালেন্ডার নয়, এটি বাঙালী সংস্কৃতির একটি অংশ। বাংলা নববর্ষ ও পহেলা বৈশাখ দুটোই বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতির প্রোজ্বল অংশ। এই উৎসবটি দল, মত, গোষ্টী, সম্প্রদায় নির্বশেষে বৃহত্তর ও স্বতঃস্ফূর্ত উৎসব।
চন্দনাইশে ১ম বারের মত উপজেলা সম্মিলিত বর্ষবরণ পরিষদের আয়োজনে আগামী ১৪ এপ্রিল ২০২৬ খ্রি: থেকে চার দিনব্যাপী বর্ষবরণ ও বৈশাখীমেলা গাছবাড়িয়া কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
কৃষিপ্রধান বাংলার কৃষকদের সুবিধার জন্য মোগল সম্রাট আকবর কর্তৃক প্রবর্তিত বাংলার ফসলি সন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে বরণ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য বৈশাখী শোভাযাত্রা বরুমতি ব্রিজ থেকে ১৪ এপ্রিল সকাল ৮ টায় যাত্রা শুরু হবে। এতে চার দিনব্যাপী বৈশাখী মেলার মুক্তমঞ্চে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিল্পীরা ও বান্দরবান রাঙামাটি খাগড়াছড়ি ও ঢাকার জাতীয় শিল্পীসহ অন্যান্য পাহাড়ি এলাকার শিল্পীদের পরিবেশনা, আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশিত জারি, সারি, ভাটিয়ালি, মুর্শেদী, মারফতী, মাইজভান্ডারী, আঞ্চলিক প্রভৃতি গান ও নৃত্য পরিবেশিত হবে। পিঠাপুলি, পান্তা ইলিশের স্টল, হস্ত ও কুটির শিল্পের স্টল সম্বলিত দুই শতাধিক স্টল নিয়ে এ মেলা বসবে।
বিশেষ করে চট্টগ্রাম-১৪ চন্দনাইশ-সাতকানিয়া (আংশিক) এলাকার শিক্ষা, ধর্ম, কর্ম, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐহিত্য, ক্রীড়া, হস্তশিল্প, তাঁতশিল্প, কৃটির শিল্প, মৃৎশিল্প, বাঁশ বেত শিল্প, ভাষা, গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, মানবাধিকার, চিকিৎসা, কৃষিসহ প্রায় ৫ লক্ষ জনগণের জীবন জীবিকা তুলে নিয়ে আসার লক্ষ্যে এই বৈশাখী মেলা ও সম্মিলিত বর্ষবরণ উদযাপন করা হবে। মেলায় চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসীম উদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে এই মেলা অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে এই বৈশাখী মেলাকে স্মরনীয় ও সফল করতে ১০১ জন বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি ও বিভিন্ন উপ কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় আলহাজ্ব জসিমউদ্দিন আহমেদের পৃষ্ঠপোষকতায় মেলাকে সফল করার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন মেলা কমিটির আহবায়ক এম এ হাশেম রাজু।