
আজ ৬ এপ্রিল, বাংলাদেশের নারী রাজনীতির উজ্জ্বল নক্ষত্র এবং সমাজসেবার মূর্ত প্রতীক বেগম নিলুফার কায়সার-এর ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৯ সালের এই দিনে তিনি আমাদের ছেড়ে পরলোকে পাড়ি জমান। তাঁর মহাপ্রয়াণে আমরা এক বিদুষী ও নিবেদিতপ্রাণ মহীয়সী নারীকে হারিয়েছি।
এক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন
বেগম নিলুফার কায়সার ছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও প্রখ্যাত কূটনীতিবিদ মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সারের সহধর্মিণী। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদের স্ত্রী ছিলেন না, বরং নিজ যোগ্যতায় হয়ে উঠেছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর মহিলা আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সহ-সভাপতি এবং জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নারী জাগরণ ও সমাজসেবায় অবদান
তাঁর কর্মজীবন ছিল সমাজ ও রাষ্ট্রের কল্যাণে উৎসর্গীকৃত।
মুক্তিযুদ্ধ ও পুনর্বাসন: ১৯৭২ সালে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে বীরাঙ্গনা নারীদের পুনর্বাসনে তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এবং পুনর্বাসন কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে কাজ করেন।
শিক্ষা বিস্তার: চট্টগ্রামের আনোয়ারা এলাকায় নারী শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। খাসখামা গার্লস হাই স্কুলের মাধ্যমে তিনি এতিম ও দরিদ্র শিশুদের শিক্ষার আলো পৌঁছে দিয়েছিলেন।
সামাজিক নেতৃত্ব: ইনার হুইল ক্লাব, মা ও শিশু হাসপাতাল, বাংলাদেশ মহিলা সমিতি স্কুল এবং রেড ক্রিসেন্টসহ অসংখ্য সামাজিক ও ক্রীড়া সংগঠনের সাথে তিনি সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
ব্যক্তিগত গুণাবলি ও উত্তরাধিকার
সততা, ন্যায়নিষ্ঠা এবং পরোপকারিতা ছিল তাঁর চরিত্রের ভূষণ। একজন পরিশীলিত রুচিবোধ সম্পন্ন মানুষ এবং সুগৃহিনী হিসেবে তিনি সবার কাছে সমাদৃত ছিলেন। তাঁর সুযোগ্য তিন কন্যা—ওয়াসিকা আয়শা খান ( দেশের ইতিহাসের প্রথম নারী অর্থ প্রতিমন্ত্রী), হুমায়রা আয়শা খান ও মুনিজা আয়শা খান আজ নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে সফলতার সাথে দেশসেবা করে যাচ্ছেন।
উপসংহার:
বেগম নিলুফার কায়সার তাঁর কর্মের মাঝে চিরকাল বেঁচে থাকবেন। চট্টগ্রামের মাটি ও মানুষের সাথে তাঁর যে নিবিড় সম্পর্ক ছিল, তা আগামী প্রজন্মের নারী নেত্রীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। এই মহীয়সী নারীর মৃত্যুবার্ষিকীতে জানাই আমাদের গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র ভালোবাসা।
শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় স্মরণ
মহীয়সী নারী বেগম নিলুফার কায়সার।
শ্রদ্ধান্তে
আবু তৈয়ব মোহাম্মদ রাসেল
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সচিব, আতাউর রহমান খান কায়সার স্মৃতি সংসদ- সংযুক্ত আরব আমিরাত কেন্দ্রীয় কমিটি।