মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আনোয়ারায় বিভিন্ন ফার্মেসিতে অভিযান,৬৫ হাজার টাকা অর্থ দন্ড সুফিবাদী ঐক্য ফোরামের গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারাঃ ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উদযাপন সমগ্র জাতির জন্য কল্যাণ ও মাহাত্ম্যপূর্ণ  অভিভাবকহীন জয় কালীহাটের প্রধান সড়কের  বেহাল অবস্থা, দুর্ভোগে পথচারী ও ব্যবসায়ীরা প্রফেসর ড. বিকিরণ প্রসাদ বড়ুয়ার তৃতীয় প্রয়াণবার্ষিকীতে স্মরণসভা হাকিমপুরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ নেতাসহ আটক ৩ দমদমে স্বস্তিম ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ৮০ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন বোয়ালখালীতে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত আদায়ের অভিযোগ, ভোগান্তিতে যাত্রীরা আনোয়ারায় কোরিয়ান ইপিজেড-কাফকো-সিএফএল-চায়না জোন, তবুও চাকরির জন্য ঘুরছেন আনোয়ারার তরুণরা আনোয়ারায় পানিতে পড়ে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার একমাত্র সন্তানের মৃত্যু শিক্ষার সাথে আপোষ চলবেনা- আনোয়ারা সরকারি কলেজে অভিভাবক সমাবেশে ইউএনও মহিন উদ্দিন

মাদকবিরোধী সংগ্রাম: পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত অঙ্গীকার

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬
  • ১০৬ বার পড়া হয়েছে

লেখক: উৎফল বড়ুয়া

প্রতি বছর ২৬ জুন বিশ্বব্যাপী পালিত হয় ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’। ১৯৮৭ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ মাদকের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক জনসচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যে দিনটি ঘোষণা করে। এই দিবস কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি মানবসভ্যতাকে মাদকের ভয়াবহ অভিশাপ থেকে রক্ষার একটি বৈশ্বিক অঙ্গীকার।

বর্তমান বিশ্বে মাদক শুধু একটি আইনশৃঙ্খলার সমস্যা নয়; এটি জনস্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য এক ভয়ংকর হুমকি। বিশেষ করে তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে মাদকের বিস্তার একটি জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বাংলাদেশেও মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক। সীমান্তবর্তী অবস্থান, আন্তর্জাতিক পাচারচক্রের তৎপরতা এবং প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে ইয়াবা, আইস (মেথামফেটামিন), হেরোইন, গাঁজা, ফেনসিডিলসহ বিভিন্ন মাদকের বিস্তার ঘটছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো; স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণদের একটি অংশ কৌতূহল, বন্ধুমহলের প্রভাব, হতাশা কিংবা সামাজিক অবক্ষয়ের কারণে মাদকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

মাদকের ভয়াল ছোবল কেবল একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না; এটি একটি পরিবারকে ভেঙে দেয়, সমাজে অপরাধ বাড়ায় এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। মাদকাসক্ত ব্যক্তি ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারায়, মানসিক ও শারীরিক রোগে আক্রান্ত হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা এমনকি হত্যার মতো অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে মাদকবিরোধী সংগ্রাম কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্ব নয়; এটি সমগ্র সমাজের দায়িত্ব।

সরকার ইতোমধ্যে মাদক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন আইন প্রণয়ন, সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। আইন প্রয়োগের পাশাপাশি পুনর্বাসন ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন, কারণ মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে কেবল অপরাধী হিসেবে নয়, অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজন রয়েছে, এমন একজন মানুষ হিসেবেও দেখতে হবে।

মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে কয়েকটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। প্রথমত, পরিবারে সন্তানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও নৈতিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী সচেতনতা কর্মসূচি নিয়মিত আয়োজন করতে হবে। তৃতীয়ত, তরুণদের খেলাধুলা, সাহিত্য, সংস্কৃতি ও স্বেচ্ছাসেবামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার সুযোগ বাড়াতে হবে। চতুর্থত, সামাজিক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে মাদকবিরোধী জনমত গঠনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি এবং মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও নিরপেক্ষ আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

মাদকবিরোধী লড়াইয়ে গণমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং সফল পুনর্বাসনের গল্প সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তরুণদের উদ্দেশ্যে দায়িত্বশীল বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া সময়ের দাবি।

আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুধু সরকারের নয়, প্রতিটি নাগরিকের। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম এবং রাষ্ট্র; সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। কারণ একটি মাদকাসক্ত প্রজন্ম কখনোই একটি সমৃদ্ধ জাতি গড়ে তুলতে পারে না।

আসুন, ২৬ জুনের এই অঙ্গীকারকে এক দিনের কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রতিদিনের সামাজিক দায়িত্বে পরিণত করি। সচেতনতা, প্রতিরোধ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং কঠোর আইন প্রয়োগের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে একটি মাদকমুক্ত, সুস্থ, নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

লেখক পরিচিতি: উৎফল বড়ুয়া, সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102