
আনোয়ারা প্রতিনিধি
আনোয়ারা উপজেলার পড়ৈকোড়া গ্রামের সদ্য প্রয়াত সুভাষ চৌধুরীর মৃত্যুতে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন আগামী ৭ মে চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট ( টি আই সি) এর গ্যালারী হলে শোক ও স্মৃতিচারণ সভা করতে যাচ্ছে। তাতে কোন অসুবিধা হতে পারেনা। যে কারো মৃত্যুতে যেকোন সংগঠন প্রয়াত ব্যক্তির জন্য শোক ও স্মৃতিচারণ সভা করতে পারে। তবে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করা একজনকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে আনোয়ারা ফাউন্ডেশন যে শোক ও স্মৃতিচারণ সভা করছে সেটা আনোয়ারার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছেনা। আনোয়ারা ফাউন্ডেশন নামে যে সংগঠনটি প্রয়াত সুভাষ চৌধুরীকে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে আসলেই প্রয়াত সুভাষ চৌধুরী কোন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। স্বঘোষিত কমান্ডার মাহাতার ইদ্রিসের সৃষ্টি এই ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ চৌধুরী। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকার) নির্দেশে আনোয়ারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ বিগত ২০১৪ সালে লিখিত অভিযোগ জানালে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ চৌধুরীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয় উপজেলা প্রশাসন। চলতি বছর (২০২৬) এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে সুভাষ চৌধুরী মৃত্যুবরণ করলে ভূয়া প্রমাণিত হওয়ায় এবং মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় তার নাম না থাকায় আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন সুভাষ চৌধুরীকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা গার্ড অব অনার দেয়নি।
মূলতঃ প্রয়াত সুভাষ চৌধুরী আসল মুক্তিযোদ্ধা নন বলেই মুক্তিযোদ্ধা গেজেট হতে তার নাম বাদ পড়েছিল অনেক আগেই। তাহলে নিশ্চয়ই প্রশ্ন জাগে তিনি মুক্তিযোদ্ধা না হয়েও কিভাবে তিনি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় স্থান পেলেেন। আসলে আনোয়ারা উপজেলার পড়ৈকোড়া ইউনিয়ন এর মাহাতা গ্রামের স্বঘোষিত কমান্ডার মুহাম্মদ ইদ্রিস টাকার বিনিময়ে প্রয়াত সুভাষ চৌধুরীকে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছেন। মুহাম্মদ ইদ্রিসের মুক্তিবার্তা নম্বর ছিলো দুটি। একটি মুক্তিবার্তা নম্বর ০২০২০২০০০৩ তার আরেকটি মুক্তিবার্তা নাম্বার ছিলো ০২০২০২০২৩৬।এই মুহাম্মদ ইদ্রিস, পিতা, নুর আহমদ, গ্রাম- মাহাতা, থানা- আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রাম। ইদ্রিস অর্থের লোভে দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে কোনো তালিকায় নাম নেই এমন একজন ব্যক্তির নাম সুভাষ চৌধুরী, পিতা- দূর্গা কুমার চৌধুরী, গ্রাম- পরৈকোড়া, থানা- আনোয়ারা, জেলা- চট্টগ্রামকে মুক্তিযোদ্ধা সাজিয়ে মুহাম্মদ ইদ্রিসের মুক্তিবার্তা ০২০২০২০২৩৬ টি সুভাষ চৌধুরীর নামে ব্যবহার করে ২০১৪ হতে সন্মানী ভাতা উত্তোলন করে আসছিল সুভাষ চৌধুরী। সুভাষ চৌধুরীর ভাতার বই নম্বর ছিলো ২৪০, সোনালী ব্যাংক আনোয়ারা শাখার হিসাব নম্বর ছিলো ০০২৩০২৪৬। আনোয়ারা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ সুভাষ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অভিযোগে দিলে এবং সেটি সত্য প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা প্রশাসন ও সোনালী ব্যাংক কতৃপক্ষ তার সন্মানি ভাতা স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়।
ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ চৌধুরীর বিষয়ে শিলাইগড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পরৈকোড়া ইউনিয়নে সুভাষ চৌধুরী নামের কোনো মুক্তিযোদ্ধা নাই। তিনি বলেন, ইদ্রিস নামের এক ব্যক্তি জালজালিয়াতি করে সুভাষ চৌধুরীকে মুক্তিযোদ্ধা খাতায় তালিকাভুক্ত করেছে। এসব নিয়ে ৭১-এ মুক্তিযুদ্ধকালীন আনোয়ারা থানা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার শামসুল আলম বলেন, মাহাতা গ্রামের ইদ্রিস হলো ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা বানানোর প্রধান কারিগর। তিনি বলেন, বারখাইন গ্রামের আবু তাহের মাহমুদ, পরৈকোড়া গ্রামের সুভাষ চৌধুরী, বারখাইন গ্রামের কুখ্যাত রাজাকার শামসুল করিম চৌধুরীসহ অনেককে ইদ্রিস টাকার বিনিময়ে মুক্তিযোদ্ধা বানিয়েছে। বীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার শামসুল আলম বলেন, ইদ্রিস এসব অপকর্ম করে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে।
আগামী ৭ মে ২০২৬ চট্টগ্রাম নগরীর একটি হলরুমে ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ চৌধুরীর শোকসভার আয়োজন করেছে ‘আনোয়ারা ফাউন্ডেশন’ নামের প্রতিষ্টানটি। আয়োজকরা এতে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রচার করছে, চট্টগ্রাম- ১৩ আনোয়ারা কর্ণফুলির সাংসদ আলহাজ্ব সরওয়ার জামাল নিজাম-এর নাম।
সুভাষ চৌধুরীর শোকসভার বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক সিকদার বলেন, মাননীয় সাংসদ আলহাজ্ব সরওয়ার জামাল একজন প্রকৃত স্বাধীনতাসংগ্রামী এবং ৪ বারের নির্বাচিত সফল এমপি। তিনি বলেন, একজন ভূয়া মুক্তিযোদ্ধার শোকসভায় তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, এটা আমি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারিনা। আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আশাকরি মাননীয় সাংসদ ৭ তারিখের ভূয়া মুক্তিযোদ্ধা সুভাষ চৌধুরীর শোকসভায় উপস্থিতির সিদ্ধান্তÍ পরিবর্তন করবেন।