বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৬ তম রাজ্য সম্মেলন সম্পন্ন পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা রবীন্দ্র ভবনে রুরাল মেডিকেল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষপূর্তি উদযাপন র‍্যাম্প থেকে পর্দায়, নিজের মতোই সাবরিনা সাবরিন বরমা ত্রাহি মেনকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক সমাবেশ সম্পন্ন বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চন্দনাইশে প্রস্তুতি সভা সিলেট মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা মন্ত্রীর

মানুষের ভালোবাসা, দোয়া এবং নিরলস পরিশ্রমে আমাকে একদিন অনেক দূর নিয়ে যাবে: আবির আহমেদ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১৫ বার পড়া হয়েছে

মো আবদুল করিম সোহাগ -ঢাকা

আবির আহমেদ, বাবার বাড়ি কুমিল্লার মোহনপুর উপজেলায় হলেও জন্ম ঢাকায়। বাবা সিলেটে পাথরের ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্যবসার কারণে তিনি পরিবারসহ সিলেটের ছাতকে স্থায়ীভাবে চলে আসেন—তখন আবিরের বয়স মাত্র ৬ মাস। ছাতকেই আবিরের বেড়ে ওঠা।

শুরুটা ছিল খুবই সুন্দর—হাসি-খুশিতে ভরা একটি সুখের পরিবার। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই সুখের জীবন ভেঙে যায়। আবিরের
বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তার বাবা Liver cancer এ আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই মুহূর্ত থেকেই আবিরের পরিবারের জীবনে নেমে আসে এক গভীর দুঃখের ছায়া।
কিন্তু আবিরের মা হাল ছাড়েননি। তিনি ছিলেন ছাতকের একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট এবং ওই এলাকার সর্বপ্রথম দিকের মেকআপ আর্টিস্টদের একজন। হাজারো কষ্ট আর সংগ্রামের মধ্যেও তিনি একাই লড়াই করে আবিরের চার ভাইবোনকে (এক ভাই, তিন বোন) মানুষ করেছেন।
বাবা হারানোর পর আত্মীয়-স্বজন দুই পক্ষই উচ্চবিত্ত হওয়া সত্ত্বেও কেউ আবিরের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি।

সেই কঠিন সময়ে আবিরের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তার মা, ও তার বোনেরা এবং তার নানু—যিনি আজ তাহাদের মাঝে বেঁচে নেই, কিন্তু তার দোয়া ও ভালোবাসা আজও এগিয়ে যেতে সাহস দেয়।

আবির ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাজ দেখে দেখে মেকআপ আর্ট এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা তৈরি হয়। সেই ভালোবাসা থেকেই আজ আবির একজন প্রতিষ্ঠিত মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছে—আর তার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব, তার গুরু আবিরের নিজের মা।

আবির বর্তমানে দেশের জনপ্রিয় অনেক তারকার সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে, যেমন Mehazabien Chowdhury, Bidya Sinha Saha Mim, Keya Payel, Tanjin Tisha, সহ আরও অনেকে।
মেকআপের পাশাপাশি আবির ফিল্ম ও মিডিয়াতে কস্টিউম ডিজাইনিং নিয়েও কাজ করেছে, যা কাজের পরিধিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার ক্ষেত্রে কী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এমন প্রশ্নে আবির স্পষ্ট করে বলেন, টেকনিক, পণ্য সম্পর্কে জ্ঞান এবং সৃজনশীলতা—তিনটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, কৌশল ছাড়া নিখুঁত কাজ সম্ভব নয়, সঠিক পণ্য ছাড়া ভালো ফিনিশ পাওয়া যায় না, আর সৃজনশীলতা ছাড়া একজন শিল্পীর নিজস্ব পরিচয় গড়ে ওঠে না।

আবির বলেন,আমার স্বপ্ন—একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট হয়ে নিজের দেশ, নিজের পরিবার এবং সবচেয়ে বেশি আমার মায়ের নাম উজ্জ্বল করা। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসা, দোয়া এবং আমার নিরলস পরিশ্রম—এই তিনটাই আমাকে একদিন অনেক দূর নিয়ে যাবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সাফল্যের আলোয় নেপথ্যে এ আর পিয়াস মো আবদুল করিম সোহাগ একটি বিজ্ঞাপনে কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিই কখনো একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে পারে। কারও চোখের অভিব্যক্তি, কারও কথার ধরন কিংবা পর্দায় উপস্থিতির স্বাভাবিকতাই বদলে দিতে পারে পুরো বিজ্ঞাপনের আবহ। কিন্তু সেই চরিত্রের জন্য ঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করার কাজটি শুরু হয় ক্যামেরা চালুর অনেক আগেই। সেই নেপথ্যের কাজটিই করেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর। আর বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন এ আর পিয়াস। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে ফটোশুট, ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে উপযুক্ত শিল্পী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মাতা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ভাবনাকে পর্দায় বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছেন তিনি। একটি চরিত্রের জন্য কাকে নেওয়া হবে, সেটি শুধুই চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। চরিত্রটির বয়স, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক উপস্থিতি, অভিব্যক্তি, অভিনয়ের দক্ষতা, কথাবলার ধরন থেকে শুরু করে গল্পের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সামঞ্জস্য, সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়। কখনো পরিচিত একজন অভিনয়শিল্পীর বদলে একেবারে নতুন কাউকে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত। এ আর পিয়াসের কাজের দর্শনও অনেকটা সেখানেই। তার কাছে কাস্টিং মানে পরিচিত মুখের তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেওয়া নয়। বরং গল্পের প্রয়োজন বুঝে এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে চরিত্রটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। কারণ তার মতে, অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রের মধ্যে মিল তৈরি না হলে ভালো গল্প কিংবা বড় বাজেটের নির্মাণও দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে না। কাজটি তাই শুরু হয় স্ক্রিপ্ট পড়া কিংবা নির্মাতার ব্রিফ বোঝার মধ্য দিয়ে। চরিত্রটির প্রয়োজন কী, তাকে পর্দায় কেমন দেখাতে হবে, তার বয়স বা ব্যক্তিত্ব কেমন হওয়া উচিত, অভিনয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য শিল্পীদের খুঁজে বের করেন কাস্টিং ডিরেক্টর। এরপর অডিশন, স্ক্রিন টেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের যাচাই করে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট টিমের সামনে উপযুক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞাপনের জগতে এ আর পিয়াসের কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। সাম্প্রতিক সময়ে তার কাস্টিং করা উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, সেভয় আইসক্রিম, সখী স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, বিকাশ, ইনফিনিক্স মোবাইল, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, ক্লোজআপ, লাইফবয়, সার্ফ এক্সেল, রিয়েলমি ফোন, ভ্যাসলিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, অপো মোবাইল, মার্ক্স পাউডার মিল্ক ও আকিজ ড্রিংকিং ওয়াটারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাজ। তবে বিজ্ঞাপনের পরিসর এখন আর শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিক নেই। ওভিসি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কনটেন্ট, ফটোশুট, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল ও ওটিটি প্রজেক্টেও চরিত্র ও ট্যালেন্টের প্রয়োজন বাড়ছে। একই সঙ্গে বদলেছে শিল্পী খোঁজার মাধ্যমও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন অনেক নতুন মুখ সহজেই নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কাস্টিং ডিরেক্টরের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্মাতা ও নতুন ট্যালেন্টের মধ্যে এই জায়গাটিই অনেকটা সেতুর মতো কাজ করে। এ আর পিয়াস মনে করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আলাদা কোনো না কোনো সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সঠিক চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়াই একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের বড় দায়িত্ব। ফলে তার কাজের লক্ষ্য শুধু পরিচিত শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা নয়, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রতিভাকেও সামনে নিয়ে আসা। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি গল্প, আবেগ কিংবা ব্র্যান্ডের বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। সেই অল্প সময়ের মধ্যে চরিত্রটি যদি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তাহলে বিজ্ঞাপনের প্রভাবও অনেক বেড়ে যায়। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতার শুরুটা হয় সঠিক মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ কারণেই বিজ্ঞাপনের পর্দায় একজন অভিনয়শিল্পীকে যতটা দেখা যায়, তার পেছনে থাকা কাস্টিং প্রক্রিয়াটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এ আর পিয়াস সেই নেপথ্যের কাজটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংকে আরও পেশাদার ও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নতুন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের সমন্বয়ে নির্মাতা ও ব্র্যান্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ট্যালেন্ট খুঁজে দেওয়ার কাজটিকেই আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চান তিনি। কারণ একটি বিজ্ঞাপনের সাফল্যের গল্পে ক্যামেরার সামনে থাকা মুখগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই মুখগুলোকে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগরও কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সেই নেপথ্যের কারিগরদের একজন হিসেবেই নিজের জায়গা তৈরি করছেন কাস্টিং ডিরেক্টর এ আর পিয়াস

©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102