শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
হিলিতে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে ২০ বিজিবি অধিনায়ক,অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস আনোয়ারায় সমাজসেবক রণধীর দত্ত এর পক্ষে  সেবা সংঘে বস্ত্র বিতরণ কলকাতায় প্রাক্তন বিধায়িকা স্মিতা বক্সী অনুপ্রেরণা দূর্গা উৎসবে বস্ত্র বিতরণ বোয়ালখালীতে দুর্গাপূজার প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শনে ডিসি-এসপি শারদীয় দুর্গোৎসবে মন্ডপগুলোতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা জোরদার চট্টগ্রাম প্রবাসী ক্লাবের যুক্তরাজ্য প্রতিনিধি হলেন সাবেক সেনা সদস্য ইব্রাহিম খলিল তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় সচেতন নাগরিক ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনের বিকল্প নেই: RTI Fair 2026-এ বক্তারা আনোয়ারায় প্রতিমা বহনকারী গাড়ীর সাথে ধাক্কার জেরে প্রতিমালয়ে হামলা  হিলিতে একজন ভারতীয় নাগরিক ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সহ আটক ২ আওয়ামীলীগ নেতার পারিবারিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন এমপি, সমালোচনার ঝড়

মানুষের ভালোবাসা, দোয়া এবং নিরলস পরিশ্রমে আমাকে একদিন অনেক দূর নিয়ে যাবে: আবির আহমেদ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩৪ বার পড়া হয়েছে

মো আবদুল করিম সোহাগ -ঢাকা

আবির আহমেদ, বাবার বাড়ি কুমিল্লার মোহনপুর উপজেলায় হলেও জন্ম ঢাকায়। বাবা সিলেটে পাথরের ব্যবসার সাথে যুক্ত ছিলেন। ব্যবসার কারণে তিনি পরিবারসহ সিলেটের ছাতকে স্থায়ীভাবে চলে আসেন—তখন আবিরের বয়স মাত্র ৬ মাস। ছাতকেই আবিরের বেড়ে ওঠা।

শুরুটা ছিল খুবই সুন্দর—হাসি-খুশিতে ভরা একটি সুখের পরিবার। কিন্তু হঠাৎ করেই সেই সুখের জীবন ভেঙে যায়। আবিরের
বয়স যখন মাত্র দুই বছর, তখন তার বাবা Liver cancer এ আক্রান্ত হয়ে মারা যান। সেই মুহূর্ত থেকেই আবিরের পরিবারের জীবনে নেমে আসে এক গভীর দুঃখের ছায়া।
কিন্তু আবিরের মা হাল ছাড়েননি। তিনি ছিলেন ছাতকের একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট এবং ওই এলাকার সর্বপ্রথম দিকের মেকআপ আর্টিস্টদের একজন। হাজারো কষ্ট আর সংগ্রামের মধ্যেও তিনি একাই লড়াই করে আবিরের চার ভাইবোনকে (এক ভাই, তিন বোন) মানুষ করেছেন।
বাবা হারানোর পর আত্মীয়-স্বজন দুই পক্ষই উচ্চবিত্ত হওয়া সত্ত্বেও কেউ আবিরের পরিবারের পাশে দাঁড়ায়নি।

সেই কঠিন সময়ে আবিরের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন তার মা, ও তার বোনেরা এবং তার নানু—যিনি আজ তাহাদের মাঝে বেঁচে নেই, কিন্তু তার দোয়া ও ভালোবাসা আজও এগিয়ে যেতে সাহস দেয়।

আবির ছোটবেলা থেকেই মায়ের কাজ দেখে দেখে মেকআপ আর্ট এবং ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের প্রতি আগ্রহ ও ভালোবাসা তৈরি হয়। সেই ভালোবাসা থেকেই আজ আবির একজন প্রতিষ্ঠিত মেকআপ আর্টিস্ট হিসেবে কাজ করছে—আর তার জীবনের সবচেয়ে বড় গর্ব, তার গুরু আবিরের নিজের মা।

আবির বর্তমানে দেশের জনপ্রিয় অনেক তারকার সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়েছে, যেমন Mehazabien Chowdhury, Bidya Sinha Saha Mim, Keya Payel, Tanjin Tisha, সহ আরও অনেকে।
মেকআপের পাশাপাশি আবির ফিল্ম ও মিডিয়াতে কস্টিউম ডিজাইনিং নিয়েও কাজ করেছে, যা কাজের পরিধিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট হওয়ার ক্ষেত্রে কী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, এমন প্রশ্নে আবির স্পষ্ট করে বলেন, টেকনিক, পণ্য সম্পর্কে জ্ঞান এবং সৃজনশীলতা—তিনটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, কৌশল ছাড়া নিখুঁত কাজ সম্ভব নয়, সঠিক পণ্য ছাড়া ভালো ফিনিশ পাওয়া যায় না, আর সৃজনশীলতা ছাড়া একজন শিল্পীর নিজস্ব পরিচয় গড়ে ওঠে না।

আবির বলেন,আমার স্বপ্ন—একদিন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একজন সফল মেকআপ আর্টিস্ট হয়ে নিজের দেশ, নিজের পরিবার এবং সবচেয়ে বেশি আমার মায়ের নাম উজ্জ্বল করা। আমি বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসা, দোয়া এবং আমার নিরলস পরিশ্রম—এই তিনটাই আমাকে একদিন অনেক দূর নিয়ে যাবে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ
©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102