বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৬ তম রাজ্য সম্মেলন সম্পন্ন পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা রবীন্দ্র ভবনে রুরাল মেডিকেল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষপূর্তি উদযাপন র‍্যাম্প থেকে পর্দায়, নিজের মতোই সাবরিনা সাবরিন বরমা ত্রাহি মেনকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক সমাবেশ সম্পন্ন বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চন্দনাইশে প্রস্তুতি সভা সিলেট মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা মন্ত্রীর

অভিনয়ে নিজের আলাদা পরিচয় গড়তে চান জাফরিন সাজ

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : রবিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৪৪ বার পড়া হয়েছে

মো আবদুল করিম সোহাগ, -ঢাকা

শোবিজের ঝলমলে অঙ্গনে প্রতিদিনই নতুন মুখের আগমন ঘটে। তবে সেই ভিড়ের মধ্যে কেউ কেউ স্বপ্ন, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের জোরে নিজের আলাদা জায়গা করে নিতে চান। তেমনই একজন উঠতি মডেল ও অভিনেত্রী জাফরিন সাজ। অভিনয়কে ভালোবেসে পথচলা শুরু করা এই তরুণীর একটাই লক্ষ্য, নিজেকে একজন ভালো ও দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
জাফরিন সাজের অভিনয়জীবনের শুরুটা হয়েছিল ২০১৬ সালে, তখন তিনি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেই সময় পরিচালক জুয়েল ফারসী পরিচালিত ‘স্বপ্ন দেখে মন’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আলাদা টান ছিল। তবে স্বপ্নের পথে হাঁটতে গিয়ে মাঝখানে থেমেও যেতে হয়েছিল। পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ দিতে তিনি প্রায় পাঁচ বছরের বিরতি নেন শোবিজ থেকে।

বিরতির পর আবারও নতুন উদ্যমে ফিরে আসেন জাফরিন সাজ। এরপর ধীরে ধীরে কাজ করতে থাকেন ইউটিউব ও টেলিভিশন মাধ্যমে। এপর্যন্ত তিনি সিঙ্গেল নাটক ও ধারাবাহিক মিলিয়ে প্রায় ৪০টি নাটকে, ১টি ওভিসি (ওয়ান ভিশন কমার্শিয়াল) এবং ৪টি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন। পাশাপাশি এককভাবে দুটি নাটকেও তাকে দেখা গেছে।
অভিনয় নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে জাফরিন সাজ বলেন, আমি চাই, আগামী পাঁচ বছর পর নিজেকে আরও অনেক উপরে দেখতে। আমি চাই, দর্শক আমাকে আমার কাজ দিয়ে চিনুক। এমন একটা অবস্থানে যেতে চাই, যেখানে মানুষ আমাকে দেখলেই বলবে, ‘ওই যে সাজ যাচ্ছে।’ শুধু পর্দায় উপস্থিত থাকলেই হবে না, আমি চাই আমার অভিনয় যেন মানুষের মনে থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমি এমন কিছু চরিত্রে কাজ করতে চাই, যেগুলো দর্শক দীর্ঘদিন মনে রাখবে। নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রস্তুত করছি। আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম করলে একদিন নিজের জায়গা ঠিকই তৈরি করা যায়।

অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিংয়েও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন জাফরিন সাজ। তিনি অংশ নিয়েছিলেন ‘মিস্টার অ্যান্ড মিস গ্লামার লুকস সিজন-৫’ প্রতিযোগিতায়। সেখানে প্রায় সাড়ে তিন’শ প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা দশে জায়গা করে নেন তিনি। এই অর্জন তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে সাজ বলেন, এটা আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ ছিল। এখান থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। বিশেষ করে কথা বলা, ক্যামেরা ফেস করা, অভিনয়, এক্সপ্রেশন আর মুভমেন্ট নিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি মনে করি, এখান থেকে যা শিখেছি, তা আমার ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই নয়, বরং সেখানে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পেরেছি। নিজের দুর্বলতা কোথায়, কীভাবে নিজেকে আরও ভালো করা যায়, সেগুলোও বুঝতে শিখেছি।

ব্যক্তিগত জীবনে কুমিল্লা তার গ্রামের বাড়ি হলেও, তার বড় হওয়া ও পড়ালেখা পুরান ঢাকায়। পুরান ঢাকার সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাপন আর বাস্তব অভিজ্ঞতা তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মনে করেন তিনি।
অভিনয়ের এই পথচলায় নতুন সুখবরও রয়েছে তার ঝুলিতে। জাফরিন সাজ জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে দুটি সিনেমায় সাইনিং করেছেন। সিনেমা দুটির নাম ‘স্বপ্ন দেখে মন’ ও ‘অন্তর মাঝি’। খুব শিগগিরই এগুলোর শুটিং শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বড় পর্দায় নতুনভাবে দর্শকের সামনে হাজির হওয়ার অপেক্ষায় আছেন এই অভিনেত্রী।
নতুনদের উদ্দেশে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সাজ বলেন, আমি নিজেও একসময় নতুন ছিলাম। অনেক স্ট্রাগল করে এখানে আসতে হয়েছে। শুরুটা সহজ ছিল না। তবে একটা বিষয় আমি বিশ্বাস করি, কাজ করতে করতেই মানুষ শিখে। কেউ একদিনে পারফেক্ট হয় না।

তিনি আরও বলেন, যারা নতুন করে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে চায়, তাদের বলবো অবশ্যই নাচ, অভিনয় আর ক্যামেরার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে। শুধু ইচ্ছে থাকলেই হবে না, নিজেকে তৈরি করাও খুব জরুরি। ধৈর্য রাখতে হবে, শিখতে হবে, আর নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
স্বপ্ন, বিরতি, সংগ্রাম আর নতুনভাবে ফিরে আসার গল্পে জাফরিন সাজ এখন এগিয়ে চলেছেন নিজের গন্তব্যের দিকে। অভিনয়ের দুনিয়ায় নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলার সেই লড়াইয়ে তিনি কতটা সফল হন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সাফল্যের আলোয় নেপথ্যে এ আর পিয়াস মো আবদুল করিম সোহাগ একটি বিজ্ঞাপনে কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিই কখনো একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে পারে। কারও চোখের অভিব্যক্তি, কারও কথার ধরন কিংবা পর্দায় উপস্থিতির স্বাভাবিকতাই বদলে দিতে পারে পুরো বিজ্ঞাপনের আবহ। কিন্তু সেই চরিত্রের জন্য ঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করার কাজটি শুরু হয় ক্যামেরা চালুর অনেক আগেই। সেই নেপথ্যের কাজটিই করেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর। আর বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন এ আর পিয়াস। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে ফটোশুট, ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে উপযুক্ত শিল্পী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মাতা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ভাবনাকে পর্দায় বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছেন তিনি। একটি চরিত্রের জন্য কাকে নেওয়া হবে, সেটি শুধুই চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। চরিত্রটির বয়স, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক উপস্থিতি, অভিব্যক্তি, অভিনয়ের দক্ষতা, কথাবলার ধরন থেকে শুরু করে গল্পের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সামঞ্জস্য, সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়। কখনো পরিচিত একজন অভিনয়শিল্পীর বদলে একেবারে নতুন কাউকে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত। এ আর পিয়াসের কাজের দর্শনও অনেকটা সেখানেই। তার কাছে কাস্টিং মানে পরিচিত মুখের তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেওয়া নয়। বরং গল্পের প্রয়োজন বুঝে এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে চরিত্রটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। কারণ তার মতে, অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রের মধ্যে মিল তৈরি না হলে ভালো গল্প কিংবা বড় বাজেটের নির্মাণও দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে না। কাজটি তাই শুরু হয় স্ক্রিপ্ট পড়া কিংবা নির্মাতার ব্রিফ বোঝার মধ্য দিয়ে। চরিত্রটির প্রয়োজন কী, তাকে পর্দায় কেমন দেখাতে হবে, তার বয়স বা ব্যক্তিত্ব কেমন হওয়া উচিত, অভিনয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য শিল্পীদের খুঁজে বের করেন কাস্টিং ডিরেক্টর। এরপর অডিশন, স্ক্রিন টেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের যাচাই করে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট টিমের সামনে উপযুক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞাপনের জগতে এ আর পিয়াসের কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। সাম্প্রতিক সময়ে তার কাস্টিং করা উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, সেভয় আইসক্রিম, সখী স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, বিকাশ, ইনফিনিক্স মোবাইল, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, ক্লোজআপ, লাইফবয়, সার্ফ এক্সেল, রিয়েলমি ফোন, ভ্যাসলিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, অপো মোবাইল, মার্ক্স পাউডার মিল্ক ও আকিজ ড্রিংকিং ওয়াটারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাজ। তবে বিজ্ঞাপনের পরিসর এখন আর শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিক নেই। ওভিসি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কনটেন্ট, ফটোশুট, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল ও ওটিটি প্রজেক্টেও চরিত্র ও ট্যালেন্টের প্রয়োজন বাড়ছে। একই সঙ্গে বদলেছে শিল্পী খোঁজার মাধ্যমও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন অনেক নতুন মুখ সহজেই নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কাস্টিং ডিরেক্টরের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্মাতা ও নতুন ট্যালেন্টের মধ্যে এই জায়গাটিই অনেকটা সেতুর মতো কাজ করে। এ আর পিয়াস মনে করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আলাদা কোনো না কোনো সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সঠিক চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়াই একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের বড় দায়িত্ব। ফলে তার কাজের লক্ষ্য শুধু পরিচিত শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা নয়, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রতিভাকেও সামনে নিয়ে আসা। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি গল্প, আবেগ কিংবা ব্র্যান্ডের বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। সেই অল্প সময়ের মধ্যে চরিত্রটি যদি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তাহলে বিজ্ঞাপনের প্রভাবও অনেক বেড়ে যায়। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতার শুরুটা হয় সঠিক মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ কারণেই বিজ্ঞাপনের পর্দায় একজন অভিনয়শিল্পীকে যতটা দেখা যায়, তার পেছনে থাকা কাস্টিং প্রক্রিয়াটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এ আর পিয়াস সেই নেপথ্যের কাজটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংকে আরও পেশাদার ও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নতুন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের সমন্বয়ে নির্মাতা ও ব্র্যান্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ট্যালেন্ট খুঁজে দেওয়ার কাজটিকেই আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চান তিনি। কারণ একটি বিজ্ঞাপনের সাফল্যের গল্পে ক্যামেরার সামনে থাকা মুখগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই মুখগুলোকে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগরও কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সেই নেপথ্যের কারিগরদের একজন হিসেবেই নিজের জায়গা তৈরি করছেন কাস্টিং ডিরেক্টর এ আর পিয়াস

©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102