বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:১৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কলকাতায় ওয়েস্ট বেঙ্গল বেকার্স অ্যাসোসিয়েশনের ২৬ তম রাজ্য সম্মেলন সম্পন্ন পরিকল্পিত, সমন্বিত, টেকসই ও আধুনিক পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যাত্রা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা সিলেটে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীমের মতবিনিময় সভা রবীন্দ্র ভবনে রুরাল মেডিকেল ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের বর্ষপূর্তি উদযাপন র‍্যাম্প থেকে পর্দায়, নিজের মতোই সাবরিনা সাবরিন বরমা ত্রাহি মেনকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবক সমাবেশ সম্পন্ন বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চন্দনাইশে প্রস্তুতি সভা সিলেট মহানগরীর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিরাপদ রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা মন্ত্রীর

অভিনয় থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা বাড়াচ্ছেন ক্যামেলিয়া রাঙা

সংবাদ দাতার নাম
  • প্রকাশের সময় : শনিবার, ৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১১০ বার পড়া হয়েছে

মো আবদুল করিম সোহাগ -ঢাকা

বর্তমান প্রজন্মের আলোচিত অভিনেত্রী ক্যামেলিয়া রাঙা ধীরে ধীরে নিজেকে গড়ে তুলছেন বহুমাত্রিক এক পরিচয়ে। অভিনয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন, ব্যবসায়িক উদ্যোগ, ব্যক্তিগত জীবনবোধ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সব মিলিয়ে তিনি এখন কেবল একজন অভিনেত্রী নন, বরং নিজের মতো করে পথ তৈরি করে চলা এক আত্মবিশ্বাসী নারী।
সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় ক্যামেলিয়া রাঙা তার অভিনয়জীবনের শুরু থেকে বর্তমান অবস্থান পর্যন্ত নানা অজানা গল্প তুলে ধরেছেন। সেই কথোপকথনে উঠে এসেছে তার শিল্পী হয়ে ওঠার গল্প, শোবিজে আসার পেছনের প্রেরণা, বড় পর্দায় কাজের অভিজ্ঞতা, ব্যক্তিগত বিশ্বাস এবং আগামী দিনের লক্ষ্য।
ক্যামেলিয়ার ভাষায়, অভিনয়ের প্রতি তার ভালোবাসা নতুন করে তৈরি হয়নি, বরং এটি অনেকটা তার বেড়ে ওঠার সঙ্গেই মিশে আছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি বড় হয়েছেন একটি সাংস্কৃতিক আবহের মধ্যে। তার দাদী, চাচাসহ পরিবারের অনেকেই একসময় মঞ্চ নাটক, গান ও কবিতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেই পারিবারিক শিল্পচর্চাই অজান্তেই তাকে টেনে এনেছে অভিনয়ের জগতে।
শৈশবের কথা বলতে গিয়ে ক্যামেলিয়া জানান, ছোটবেলায় তিনি ছিলেন খুবই চঞ্চল স্বভাবের। নাচ, দৌড়ঝাঁপ, হৈচৈ, সবকিছুতেই ছিল তার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তবে তখনও তিনি ভাবেননি, একসময় ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোই হয়ে উঠবে তার পরিচয়ের কেন্দ্রবিন্দু।
তার অভিনয়জীবনের বড় মোড় আসে পরিচালক মিজানুর রহমান লাবু-র হাত ধরে। একটি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য তাকে দুটি গল্পের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। একটি ছিল গ্ল্যামারনির্ভর, অন্যটি বাস্তবধর্মী। ক্যামেলিয়া বেছে নেন বাস্তবতার গল্পটি। তার সেই সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলোর একটি। সেখান থেকেই শুরু হয় তার চলচ্চিত্র যাত্রা, প্রথম সিনেমা ‘নূরু মিয়া ও তার বিউটি ড্রাইভার’ দিয়ে।
অনেক শিল্পী যেখানে ছোট পর্দা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বড় পর্দায় নিজেদের জায়গা করে নেন, ক্যামেলিয়ার ক্ষেত্রে সেই যাত্রাপথ ছিল একটু আলাদা। ২০১৬ সালে এনটিভিতে তার প্রথম নাটক ‘তপস্বিনী’ প্রচারের পর সেটি দেখেই তাকে চলচ্চিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই নাটকে তিনি কাজ করেন সজল, তারেক আনাম ও ড. ইনামুল হক-এর মতো গুণী শিল্পীদের সঙ্গে। ক্যারিয়ারের শুরুতেই এমন শিল্পীদের পাশে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাকে অভিনয়ের জায়গায় আরও দৃঢ় করে তোলে।
পরে চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেন ফজলুর রহমান বাবু-র মতো শক্তিমান অভিনেতার বিপরীতে। তার অভিনয়ের পছন্দেও রয়েছে আলাদা এক পরিমিতি। গ্ল্যামারের মোড়কে আবদ্ধ চরিত্রের চেয়ে তিনি বরাবরই বেশি আগ্রহী গল্পনির্ভর, বাস্তবধর্মী ও চরিত্রকেন্দ্রিক কাজের প্রতি। তার বিশ্বাস, একজন শিল্পীর সত্যিকারের পরিচয় তৈরি হয় চরিত্রের গভীরতা ও অভিনয়ের সততায়।
২০১৬ সালে শোবিজে যাত্রা শুরু করা ক্যামেলিয়া রাঙা এখন পর্যন্ত চারটি সিনেমায় কাজ করেছেন। সংখ্যায় খুব বেশি না হলেও, তার প্রতিটি কাজেই রয়েছে নিজেকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা। ধীরে ধীরে তিনি নিজের জন্য তৈরি করেছেন আলাদা একটি অবস্থান, যেখানে তিনি শুধু উপস্থিতির জন্য নন, বরং কাজের নির্বাচনের কারণেও আলোচনায় থাকেন।
দেশীয় অঙ্গনের বাইরে আন্তর্জাতিক পরিসরেও পৌঁছে গেছে তার কাজ। তার অভিনীত সিনেমা ভারতের বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে এবং সেখান থেকে তিনি পেয়েছেন সম্মাননা। শুধু অভিনয় নয়, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ফ্যাশন জগতেও যুক্ত হয়েছেন তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক একটি বিশ্বখ্যাত ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মডেল হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ক্যামেলিয়া। ভিসা ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে খুব শিগগিরই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
ভবিষ্যৎ নিয়ে ক্যামেলিয়ার ভাবনা যেমন স্পষ্ট, তেমনি দৃঢ়ও। তিনি মনে করেন, একজন শিল্পীর জীবনে অভিনয়ের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। কাজের মাধ্যমেই একজন শিল্পী বেঁচে থাকেন দর্শকের হৃদয়ে।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে তিনি বলেন,
“অভিনয় আমার আত্মার সাথে না, রক্তের সাথে মিশে গেছে, আর আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অভিনয়টা করে যেতে চাই।”
এই একটি বাক্যই যেন তার পুরো শিল্পীসত্তার সারাংশ। অভিনয় তার কাছে কেবল একটি পেশা নয়, বরং অস্তিত্বের অংশ।
বাণিজ্যিক সিনেমাতেও নিজেকে আরও শক্ত অবস্থানে দেখতে চান ক্যামেলিয়া। সেই স্বপ্নের তালিকায় রয়েছে ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান-এর সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করার ইচ্ছাও। তিনি মনে করেন, বড় পরিসরে কাজ করতে হলে নিজের প্রস্তুতি, ধৈর্য এবং সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মানসিকতা খুবই জরুরি।
অভিনয়ের পাশাপাশি শিক্ষাজীবনেও তিনি এগিয়ে যেতে চান সমান গুরুত্ব দিয়ে। সমাজবিজ্ঞান বিষয়ে অনার্স সম্পন্ন করলেও করোনাকালীন পরিস্থিতির কারণে তার মাস্টার্স কিছুটা থেমে যায়। ভবিষ্যতে দেশের বাইরে গিয়ে সেই পড়াশোনা শেষ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
শুধু অভিনয়জগতে নয়, বাস্তব জীবনেও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সচেষ্ট ক্যামেলিয়া। ২০২১ সাল থেকে তিনি ট্রেডিং ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছেন। বর্তমানে তিনি কাজ করছেন সোলার এনার্জি প্রজেক্ট নিয়েও। তার মতে, মিডিয়ার গ্ল্যামার ধরে রাখতে যেমন ব্যয় আছে, তেমনি একজন শিল্পীর নিজের জন্য আর্থিক নিরাপত্তাও জরুরি। তাই অভিনয়ের পাশাপাশি একটি স্থায়ী আয়ের উৎস তৈরি করাকে তিনি প্রয়োজনীয় বলেই মনে করেন।
ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী। বিয়ে নিয়ে এখনই কোনো তাড়াহুড়ো নেই তার। তিনি মনে করেন, জীবনসঙ্গী এমন একজন হওয়া উচিত, যিনি বন্ধুর মতো খোলা মনের, যত্নশীল, দায়িত্বশীল এবং পরিবারকে গুরুত্ব দেন। বিদেশি নয়, বরং একজন দেশি, আন্তরিক ও মনখোলা মানুষকেই তিনি জীবনসঙ্গী হিসেবে প্রাধান্য দেবেন বলে জানান।
সম্প্রতি মালয়েশিয়া সফরে গিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনসংগ্রাম কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে ক্যামেলিয়ার। সেখানকার অভিজ্ঞতা তাকে আবেগাপ্লুত করেছে। পরিবার-পরিজন ছেড়ে বিদেশের মাটিতে যারা নিরন্তর সংগ্রাম করছেন, তাদের প্রতি তিনি জানিয়েছেন গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা।
অভিনয়, আন্তর্জাতিক স্বপ্ন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা, শিক্ষা এবং ব্যক্তিগত দৃঢ়তায় ক্যামেলিয়া রাঙা এখন নিজেকে গড়ে তুলছেন নতুন এক উচ্চতার জন্য। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া তার শোবিজ যাত্রা আজ ধীরে ধীরে পৌঁছে যাচ্ছে আরও বড় পরিসরে, আর সেই পথচলায় তিনি যেন আরও বেশি করে বিশ্বাস করতে শিখেছেন নিজের স্বপ্ন, নিজের পরিশ্রম এবং নিজের শিল্পীসত্তাকে।

এ বিভাগের আরো সংবাদ

সাফল্যের আলোয় নেপথ্যে এ আর পিয়াস মো আবদুল করিম সোহাগ একটি বিজ্ঞাপনে কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিই কখনো একটি চরিত্রকে দর্শকের মনে গেঁথে দিতে পারে। কারও চোখের অভিব্যক্তি, কারও কথার ধরন কিংবা পর্দায় উপস্থিতির স্বাভাবিকতাই বদলে দিতে পারে পুরো বিজ্ঞাপনের আবহ। কিন্তু সেই চরিত্রের জন্য ঠিক মানুষটিকে খুঁজে বের করার কাজটি শুরু হয় ক্যামেরা চালুর অনেক আগেই। সেই নেপথ্যের কাজটিই করেন একজন কাস্টিং ডিরেক্টর। আর বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে এই দায়িত্ব পালন করে আসছেন এ আর পিয়াস। টেলিভিশন বিজ্ঞাপন থেকে শুরু করে ফটোশুট, ডিজিটাল কনটেন্ট ও বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রজেক্টে উপযুক্ত শিল্পী নির্বাচনের মাধ্যমে নির্মাতা, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ডের ভাবনাকে পর্দায় বাস্তব রূপ দিতে কাজ করছেন তিনি। একটি চরিত্রের জন্য কাকে নেওয়া হবে, সেটি শুধুই চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয় নয়। চরিত্রটির বয়স, ব্যক্তিত্ব, শারীরিক উপস্থিতি, অভিব্যক্তি, অভিনয়ের দক্ষতা, কথাবলার ধরন থেকে শুরু করে গল্পের সঙ্গে তার স্বাভাবিক সামঞ্জস্য, সবকিছুই বিবেচনায় রাখতে হয়। কখনো পরিচিত একজন অভিনয়শিল্পীর বদলে একেবারে নতুন কাউকে বেছে নেওয়াই হয়ে উঠতে পারে সঠিক সিদ্ধান্ত। এ আর পিয়াসের কাজের দর্শনও অনেকটা সেখানেই। তার কাছে কাস্টিং মানে পরিচিত মুখের তালিকা থেকে একজনকে বেছে নেওয়া নয়। বরং গল্পের প্রয়োজন বুঝে এমন একজনকে খুঁজে বের করা, যাকে চরিত্রটির মধ্যে স্বাভাবিকভাবে দেখা যায়। কারণ তার মতে, অভিনয়শিল্পী ও চরিত্রের মধ্যে মিল তৈরি না হলে ভালো গল্প কিংবা বড় বাজেটের নির্মাণও দর্শকের কাছে প্রত্যাশিত প্রভাব ফেলতে পারে না। কাজটি তাই শুরু হয় স্ক্রিপ্ট পড়া কিংবা নির্মাতার ব্রিফ বোঝার মধ্য দিয়ে। চরিত্রটির প্রয়োজন কী, তাকে পর্দায় কেমন দেখাতে হবে, তার বয়স বা ব্যক্তিত্ব কেমন হওয়া উচিত, অভিনয়ের ক্ষেত্রে কী ধরনের সক্ষমতা প্রয়োজন, এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য শিল্পীদের খুঁজে বের করেন কাস্টিং ডিরেক্টর। এরপর অডিশন, স্ক্রিন টেস্ট কিংবা অন্যান্য প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাদের যাচাই করে নির্মাতা ও সংশ্লিষ্ট টিমের সামনে উপযুক্ত প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞাপনের জগতে এ আর পিয়াসের কাজের পরিধিও বেশ বিস্তৃত। সাম্প্রতিক সময়ে তার কাস্টিং করা উল্লেখযোগ্য টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের মধ্যে রয়েছে গ্রামীণফোন, সেভয় আইসক্রিম, সখী স্যানিটারি ন্যাপকিন, ওয়ালটন রেফ্রিজারেটর, বিকাশ, ইনফিনিক্স মোবাইল, কুমারিকা হেয়ার অয়েল, ক্লোজআপ, লাইফবয়, সার্ফ এক্সেল, রিয়েলমি ফোন, ভ্যাসলিন, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, অপো মোবাইল, মার্ক্স পাউডার মিল্ক ও আকিজ ড্রিংকিং ওয়াটারসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের কাজ। তবে বিজ্ঞাপনের পরিসর এখন আর শুধু টেলিভিশনকেন্দ্রিক নেই। ওভিসি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন, ব্র্যান্ড কনটেন্ট, ফটোশুট, মিউজিক ভিডিও থেকে শুরু করে বিভিন্ন অডিও-ভিজ্যুয়াল ও ওটিটি প্রজেক্টেও চরিত্র ও ট্যালেন্টের প্রয়োজন বাড়ছে। একই সঙ্গে বদলেছে শিল্পী খোঁজার মাধ্যমও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের কারণে এখন অনেক নতুন মুখ সহজেই নিজের প্রতিভা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন। তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট চরিত্রের জন্য উপযুক্ত শিল্পী খুঁজে বের করার ক্ষেত্রে কাস্টিং ডিরেক্টরের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নির্মাতা ও নতুন ট্যালেন্টের মধ্যে এই জায়গাটিই অনেকটা সেতুর মতো কাজ করে। এ আর পিয়াস মনে করেন, প্রতিটি মানুষের মধ্যেই আলাদা কোনো না কোনো সম্ভাবনা থাকে। সেই সম্ভাবনাকে চিহ্নিত করে সঠিক চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়াই একজন কাস্টিং ডিরেক্টরের বড় দায়িত্ব। ফলে তার কাজের লক্ষ্য শুধু পরিচিত শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা নয়, চরিত্রের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন প্রতিভাকেও সামনে নিয়ে আসা। বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে সময়ের সীমাবদ্ধতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই একটি গল্প, আবেগ কিংবা ব্র্যান্ডের বার্তা দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে হয়। সেই অল্প সময়ের মধ্যে চরিত্রটি যদি বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠতে পারে, তাহলে বিজ্ঞাপনের প্রভাবও অনেক বেড়ে যায়। আর সেই বিশ্বাসযোগ্যতার শুরুটা হয় সঠিক মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। এ কারণেই বিজ্ঞাপনের পর্দায় একজন অভিনয়শিল্পীকে যতটা দেখা যায়, তার পেছনে থাকা কাস্টিং প্রক্রিয়াটিও ততটাই গুরুত্বপূর্ণ। এ আর পিয়াস সেই নেপথ্যের কাজটিকেই পেশা হিসেবে বেছে নিয়ে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছেন। আগামী দিনে বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন ও মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রিতে কাস্টিংকে আরও পেশাদার ও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য রয়েছে তার। নতুন ও অভিজ্ঞ শিল্পীদের সমন্বয়ে নির্মাতা ও ব্র্যান্ডের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ট্যালেন্ট খুঁজে দেওয়ার কাজটিকেই আরও বড় পরিসরে এগিয়ে নিতে চান তিনি। কারণ একটি বিজ্ঞাপনের সাফল্যের গল্পে ক্যামেরার সামনে থাকা মুখগুলো যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সেই মুখগুলোকে গল্পের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়ার নেপথ্যের কারিগরও কম গুরুত্বপূর্ণ নন। সেই নেপথ্যের কারিগরদের একজন হিসেবেই নিজের জায়গা তৈরি করছেন কাস্টিং ডিরেক্টর এ আর পিয়াস

©2020 All rights reserved
Design by: POPULAR HOST BD
themesba-lates1749691102