
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি:
চট্টগ্রামে বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের সবকটি কারখানা বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে কতৃপক্ষে। এই সঙ্গে কর্ণফুলীতে বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে এস আলমের সবকটি কারখানা। বৃহস্পতিবার এসব কারখানার শ্রমিকদের ছাটাই করা হয়েছে এবং শুক্রবার থেকে এসব কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়। মূলতঃ সারাদেশের এস আলমের কারখানাগুলো থেকেও শ্রমিক ছাটাই করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
কর্ণফুলীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো হল, চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ, ইস্পাতের পাত প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস ও ইনফিনিটি সি আর স্ট্রিপস ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢেউটিনসহ ইস্পাতপণ্য তৈরির কারখানা এস আলম স্টিল, এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস নফ, চেমন ইস্পাত ও গ্যালকো স্টিল এবং ব্যাগ তৈরির কারখানা এস আলম ব্যাগ লিমিটেড, এস আলম সিমেন্ট ও এস আলম ভেজিটেবল অয়েল ইত্যাদি।
কারখানা সংশ্লিষ্ট শ্রমিকেরা বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানায় শ্রমিকদের ছাটাইয়োর ঘোষণা দেওয়া হয়। আকস্মিক ছাটাইয়ের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া দেখান এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা। শুধু এস আলম সুগারই নয়; মূলতঃ সবকটি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ছাটাই করে কারখানাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
জানা গেছে, ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ায় এবং কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় কারখানাগুলো আগে থেকে বন্ধ ঘোষনা ছিল। তবে মজুদ কাঁচামাল দিয়ে কিছু দিন কারখানাগুলো চালু ছিল। এসব কারখানায় আগে থেকে কিছু শ্রমিক ছাটাই করা হলেও একেবারে কার্যক্রম বন্ধ ছিলনা। তবে এবারই সবগুলো প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ ঘোষণা করা হল।
এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের শ্রমিকেরা জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে কারখানার নোটিশ বোর্ডে ছাটাইকৃত শ্রমিকদের নামের তালিকা টাঙানো হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, ব্যবস্থাপনা কতৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসারে নিন্মলিখিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকুরী থেকে অব্যাহতি দেয়া হলো, যা ১ আগস্ট থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজ এক কর্মকর্তা জানান, কর্ণফুলীতে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১১টি কারখানার মধ্যে চিনি প্রক্রিয়াজাত কারখানা এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজে স্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন ৫০০ জন, আর অস্থায়ী শ্রমিক-কর্মচারী প্রায় ২০০। অন্যান্য কারখানা সবমিলিয়ে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী নিয়োজিত ছিল। ৫ আগস্টের পর
ব্যাংকের সহযোগিতা না পাওয়ায় এবং কাঁচামাল আমদানি করতে না পারায় একেরপর এক শ্রমিক ছাটাইয়ের ঘটনা ঘটে। এসব কারখানায় আগে থেকে কিছু শ্রমিক ছাটাই করা হলেও একেবারে কার্যক্রম বন্ধ ছিলনা। তবে এবারই শ্রমিক-কর্মচারী ছাটাইয়ের পর সবগুলো প্রতিষ্ঠান একেবারে বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
জানতে চাইলে এস আলম রিফাইন্ড সুগার ইন্ডাস্ট্রিজের ডিজিএম রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কারখানায় সব ধরনের উৎপাদন বন্ধ। তাই কতৃপক্ষ চাইছেন কর্মরতরা ফিরে যাক।’