
তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা
বিশ্বশান্তি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ২০২৬ ভগবান মহাবীর জয়ন্তীর পবিত্র উপলক্ষে আজ সমগ্রো মানবজাতিকে অহিংসার মহামন্ত্র প্রদানকারী ভগবান মহাবীর-এর পবিত্র জন্ম জয়ন্তীর এই শুভক্ষণে, আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও গৌরবের সঙ্গে তাঁর স্মৃতিকে প্রণাম জানাই।এই মহৎ দিনে, আমরা গর্বের সঙ্গে “বিশ্বশান্তি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ২০২৬” প্রদান করছি শ্রী নাগতিহল্লি রমেশ-যিনি একজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কন্নড় কবি,প্রজ্ঞাবান চিন্তক,চলচ্চিত্র নির্মাতা, কৃষক এবং সমাজ- রাজনৈতিক কর্মী।
তাঁর জীবনদর্শন, আদর্শচিন্তা এবং সমগ্র সমাজের প্রতি মাতৃ স্নেহসম মমতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ এই সম্মান প্রদান করা হচ্ছে।কোনও দেশের সাধারণ মানুষ কখনও যুদ্ধ চায় না।যুদ্ধ জন্ম নেয় শুধুমাত্র সেই ভূমিতে , যেখানে মানবিকতা নিঃশেষ হয়ে যায়।সেটি ঘৃণার মাটিতে বেড়ে ওঠে,এবং আধি পত্যের বাসনায় অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। যেখানে মানবিকতা বেঁচে থাকে, সেখানে যুদ্ধের বিরুদ্ধে নতুন নতুন মহাত্মার আবির্ভাব ঘটে। তাঁরা মানব জাতিকে নতুন ডানা দেন নতুন নীতি ও আদর্শের মাধ্যমে,যা পরবর্তীতে ধর্ম নামে পরিচিত হয়।প্রায় ২৬০০ বছর আগে,রাজা ও সাম্রাজ্য গুলির অন্তহীন যুদ্ধের ক্লান্তিতে জর্জরিত পৃথিবীতে জৈন ধর্মের ২৪তম তীর্থঙ্কর ভগবান মহাবীর জন্মগ্রহণ করেন। অহিংসায় জীবন যাপন,সত্যে অবিচল থাকা, পরের সম্পত্তির প্রতি লোভ না করা,সংযম ও ব্রহ্মচর্যের শান্তিতে থাকা,সঞ্চয়বৃত্তি ত্যাগ করা—এই সবের মধ্য দিয়েতিনি প্রমাণ করেছিলেন যে নিজেকে জয় করা যুদ্ধ জয়ের থেকেও অনেক বড়।আজ সেই মহান আত্মার জন্ম জয়ন্তী।কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়,আজও বিশ্ব নানা সংঘাত ও যুদ্ধে জর্জরিত। এই সংকটময় সময়ে ভগবান মহাবীরের অহিংসার বাণী স্মরণ করা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।এই উপলক্ষেই আয়োজিত হচ্ছে“বিশ্বশান্তি আন্তর্জাতিক পুরস্কার ৩১ মার্চ ২০২৬”প্রজ্ঞা ভবনে অনুষ্ঠান হয়। শ্রী নাগতিহল্লি রমেশ এক মানবিক প্রতিমূর্তি মানবতার আদর্শে বিশ্বাসী,দুঃখী ও বঞ্চিত মানুষের পাশে সদা অবস্থানৎকারী শ্রী রমেশকে মানুষ স্নেহভরে “অব্বান্না” নামে ডাকে যা তাঁর অন্তর্নিহিত মাতৃত্ব সুলভ মমতার প্রতীক।করুণার জীবন্ত প্রতিমা, সমাজমনস্ক চিন্তাবিদ,আদর্শ রাজনীতির সহযাত্রী,এবং এমন এক মানুষ,যিনি বিশ্বাস করেন—আমি যদি ভালো করতে না পারি, অন্তত কারও ক্ষতি যেন না করি।” কাব্যিক শ্রদ্ধার্ঘ্য ফিনিক্স রবি অভিজ্ঞতার সুতো ধরে, নাগমঙ্গল্যের নাগতিহল্লি থেকে বেরিয়ে পড়া এক শিশু যে আবার নিজেকে খুঁজে পায় বেথলেহেমের সেই বিনম্র গোশালায়,যেখানে খ্রিস্টের জন্ম,তাঁর চলার পথে,
ক্রুশবিদ্ধতার স্থানে,
এবং নীরব সমাধিক্ষেত্র
ভ্যাটিকান সিটির পবিত্রতায়,নবী মুহাম্মদের পদচিহ্নধারী পর্বতে,গুরু নানকের গুরুদ্বারে,বুদ্ধের করুণার সুবাসে—লাওস, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়ার পথে পথে,হিমালয়ের গুহায়—প্রতিটি মোড়ে,প্রতিটি গাছে,প্রতিটি সংকেতে এক নিরন্তর অনুসন্ধান—করুণা,প্রেম ও মমতার শিকড় খুঁজে মানবতাকে পুনরায় যুক্ত করার প্রয়াসে হাতে ধারণ করে সেই মন্ত্র—এসো,এক হই,গড়ে তুলি, বাঁচি এবং আলোকিত হই।”সংক্ষিপ্ত পরিচিতি – ১৯৬৭ সালের ১লা জুন, কর্ণাটকের মাণ্ড্য জেলার নাগতিহল্লি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শ্রী রমেশ। অত্যন্ত সাধারণ জীবন থেকে উঠে এসে তিনি অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন।তিনি বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র এবং আইন স্নাতক, পাশাপাশি একজন কৃতী বক্তা—যিনি ১৫০টিরও বেশি বিতর্ক প্রতি যোগিতায় বিজয়ী।সাহিত্য,প্রকাশনা, চলচ্চিত্র,সঙ্গীত,পরিবেশ,কৃষি ও সামাজিক চিন্তাধারায় তাঁর অবদান উল্লেখ যোগ্য।তাঁর কাব্যগ্রন্থ “সমুদ্র এবং বৃষ্টি” The Sea and The Rain কন্নড় সাহিত্যে এক নতুন সংবেদন সৃষ্টি করেছে এবং বহু ভাষায় অনূদিত হয়েছে।তাঁর নির্মিত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র “বেরুগলাত্তা The Roots ১৬টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে।
সম্মাননা ও অর্জন রমেশ বহু রাজ্য,জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন সাহিত্য ,সংস্কৃতি,সমাজসেবা, পরিবেশচিন্তা এবং মানবিক মূল্যবোধের ক্ষেত্রে তাঁর অবদান অসামান্য।তিনি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমন্ত্রিত হয়ে সম্মানিত হয়েছেন,যার মধ্যে ২০২৫ সালে কলম্বোতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব মানবাধিকার দিবস।