মোঃ এরশাদ আলী, লংগদু প্রতিনিধি :
পার্বত্যাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও বৃহত্তম বাজার রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলার মাইনীমূখ বাজার।
যা জেলা সদর থেকে প্রায় ৭০ কিঃমিঃ উত্তরে অবস্থিত হলেও জেলার ঐতিহ্যবাহী বানিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে সারা দেশে পরিচিত।
ঐতিহ্যবাহী এই বাজারটি তার তার চিরচেনা ঐতিহ্য, রূপ-বৈচিত্র্য হারাতে বসেছে কতিপয় অসাধু ও অবৈধ প্রভাবশালী দখলবাজদের কারণে। এসব প্রভাবশালী দখলদারদের জবর দখলের কবলে পড়ে প্রতিনিয়ত দখল হচ্ছে বাজারের ফায়ার লাইন ও বাজার ফান্ডের সংরক্ষিত জায়গাগুলো। অবৈধভাবে তৈরী করছে নিজেদের অনুমোদনহীন অবৈধ স্থাপনা।
সরেজমিনে তথ্য সংগ্রহ করতে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা গেলে তাদের সাথেও বেশ কয়েকজন দখলদার উৎশৃঙ্খল ও অসৎ আচরণ করে।
এ বিষয়ে বাজার ফান্ড প্রশাসকের প্রতিনিধি বাজার চৌধুরী দেব কুমার চাকমা জানান, বাজার ফান্ডের আওতায় মোট ২৫টি ফায়ার লাইন ছিল।অনেকগুলো ফায়ার লাইন বেদখল হয়ে গেছে। বাজার ফান্ডের সাথে আলোচনা করে দ্রুত ফায়ার লাইনগুলো উদ্ধারের কথা জানান তিনি।
মাইনীমূখ বাজার কমিটির সভাপতি মোঃ আবুল কাশেম মেম্বার বলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ অবৈধ স্থাপনা গুলো উচ্ছেদ হওয়ার কথা রয়েছে।
ইতিপূর্বে বাজারটি বেশ কয়েকবার অগ্নিকাণ্ডের কবলে পড়ে কোটি কোটি টাকা ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে। এতে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী নিঃস্ব হয়ে এলাকাও ত্যাগ করেছে।
প্রতি সপ্তাহের শনিবার হাটের দিনে এই বাজারে ২৫-৩০ হাজার লোকের সমাগম ঘটে, বাজারে গরু, ছাগল, হাঁস, মুরগি, গাছ, বাঁশ, কাঠ, আদা, হলুদ, আখ, জাম্বুরা, বিভিন্ন প্রকার শাক, সবজি, মাছ, মাংস ছাড়াও এলাকার উৎপাদিত পন্যের সমারোহ ঘটে এই বাজারে। পর্যাপ্ত ফায়ার লাইন না থাকায় মালামাল উঠানামায় চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছে ক্রেতা বিক্রেতারা।
লংগদু ফায়ার সার্ভিস এন্ড সিভিল ডিফেন্স কর্মকর্তা হেলাল উদ্দীন বলেন, মাইনীমুখ বাজারে বেশ কয়েকবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। পর্যাপ্ত ফায়ার লাইন ও প্রসস্থ গলি না থাকায় দূর্যোগের মুহূর্তে ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঠিক সময়ে দুর্ঘটনা স্থলে পৌছাতে পারেনা। ফলে এসব অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয় ব্যবসায়ীদের।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের বৃহত্তর এই বাজারটির হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে, ক্রেতা-বিক্রেতার নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করতে অবৈধ দখলে থাকা ফায়ার লাইন, গলি ও অবৈধ স্থাপনাসমুহ উচ্ছেদ করতে বাজার ফান্ড প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অচিরেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবেন বলে প্রত্যাশা সাধারণ জনগন, ভুক্তভোগী , এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের।