মো আবদুল করিম সোহাগ, -ঢাকা
শোবিজের ঝলমলে অঙ্গনে প্রতিদিনই নতুন মুখের আগমন ঘটে। তবে সেই ভিড়ের মধ্যে কেউ কেউ স্বপ্ন, পরিশ্রম আর অধ্যবসায়ের জোরে নিজের আলাদা জায়গা করে নিতে চান। তেমনই একজন উঠতি মডেল ও অভিনেত্রী জাফরিন সাজ। অভিনয়কে ভালোবেসে পথচলা শুরু করা এই তরুণীর একটাই লক্ষ্য, নিজেকে একজন ভালো ও দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা।
জাফরিন সাজের অভিনয়জীবনের শুরুটা হয়েছিল ২০১৬ সালে, তখন তিনি নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সেই সময় পরিচালক জুয়েল ফারসী পরিচালিত ‘স্বপ্ন দেখে মন’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান তিনি। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি তার আলাদা টান ছিল। তবে স্বপ্নের পথে হাঁটতে গিয়ে মাঝখানে থেমেও যেতে হয়েছিল। পড়ালেখার প্রতি মনোযোগ দিতে তিনি প্রায় পাঁচ বছরের বিরতি নেন শোবিজ থেকে।
বিরতির পর আবারও নতুন উদ্যমে ফিরে আসেন জাফরিন সাজ। এরপর ধীরে ধীরে কাজ করতে থাকেন ইউটিউব ও টেলিভিশন মাধ্যমে। এপর্যন্ত তিনি সিঙ্গেল নাটক ও ধারাবাহিক মিলিয়ে প্রায় ৪০টি নাটকে, ১টি ওভিসি (ওয়ান ভিশন কমার্শিয়াল) এবং ৪টি মিউজিক ভিডিওতে কাজ করেছেন। পাশাপাশি এককভাবে দুটি নাটকেও তাকে দেখা গেছে।
অভিনয় নিয়ে নিজের স্বপ্নের কথা বলতে গিয়ে জাফরিন সাজ বলেন, আমি চাই, আগামী পাঁচ বছর পর নিজেকে আরও অনেক উপরে দেখতে। আমি চাই, দর্শক আমাকে আমার কাজ দিয়ে চিনুক। এমন একটা অবস্থানে যেতে চাই, যেখানে মানুষ আমাকে দেখলেই বলবে, ‘ওই যে সাজ যাচ্ছে।’ শুধু পর্দায় উপস্থিত থাকলেই হবে না, আমি চাই আমার অভিনয় যেন মানুষের মনে থাকে।
তিনি আরও বলেন, আমি এমন কিছু চরিত্রে কাজ করতে চাই, যেগুলো দর্শক দীর্ঘদিন মনে রাখবে। নিজেকে প্রতিনিয়ত প্রস্তুত করছি। আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম করলে একদিন নিজের জায়গা ঠিকই তৈরি করা যায়।
অভিনয়ের পাশাপাশি মডেলিংয়েও নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন জাফরিন সাজ। তিনি অংশ নিয়েছিলেন ‘মিস্টার অ্যান্ড মিস গ্লামার লুকস সিজন-৫’ প্রতিযোগিতায়। সেখানে প্রায় সাড়ে তিন’শ প্রতিযোগীর মধ্যে সেরা দশে জায়গা করে নেন তিনি। এই অর্জন তার আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই প্রতিযোগিতা প্রসঙ্গে সাজ বলেন, এটা আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মঞ্চ ছিল। এখান থেকে আমি অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। বিশেষ করে কথা বলা, ক্যামেরা ফেস করা, অভিনয়, এক্সপ্রেশন আর মুভমেন্ট নিয়ে অনেক অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমি মনে করি, এখান থেকে যা শিখেছি, তা আমার ভবিষ্যৎ কাজের ক্ষেত্রে অনেক সাহায্য করবে।
তিনি আরও যোগ করেন, শুধু প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়াই নয়, বরং সেখানে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে পেরেছি। নিজের দুর্বলতা কোথায়, কীভাবে নিজেকে আরও ভালো করা যায়, সেগুলোও বুঝতে শিখেছি।
ব্যক্তিগত জীবনে কুমিল্লা তার গ্রামের বাড়ি হলেও, তার বড় হওয়া ও পড়ালেখা পুরান ঢাকায়। পুরান ঢাকার সংস্কৃতি, মানুষের জীবনযাপন আর বাস্তব অভিজ্ঞতা তার ব্যক্তিত্ব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মনে করেন তিনি।
অভিনয়ের এই পথচলায় নতুন সুখবরও রয়েছে তার ঝুলিতে। জাফরিন সাজ জানিয়েছেন, তিনি ইতোমধ্যে দুটি সিনেমায় সাইনিং করেছেন। সিনেমা দুটির নাম ‘স্বপ্ন দেখে মন’ ও ‘অন্তর মাঝি’। খুব শিগগিরই এগুলোর শুটিং শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। বড় পর্দায় নতুনভাবে দর্শকের সামনে হাজির হওয়ার অপেক্ষায় আছেন এই অভিনেত্রী।
নতুনদের উদ্দেশে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে সাজ বলেন, আমি নিজেও একসময় নতুন ছিলাম। অনেক স্ট্রাগল করে এখানে আসতে হয়েছে। শুরুটা সহজ ছিল না। তবে একটা বিষয় আমি বিশ্বাস করি, কাজ করতে করতেই মানুষ শিখে। কেউ একদিনে পারফেক্ট হয় না।
তিনি আরও বলেন, যারা নতুন করে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করতে চায়, তাদের বলবো অবশ্যই নাচ, অভিনয় আর ক্যামেরার সামনে নিজেকে উপস্থাপন করার প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হবে। শুধু ইচ্ছে থাকলেই হবে না, নিজেকে তৈরি করাও খুব জরুরি। ধৈর্য রাখতে হবে, শিখতে হবে, আর নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।
স্বপ্ন, বিরতি, সংগ্রাম আর নতুনভাবে ফিরে আসার গল্পে জাফরিন সাজ এখন এগিয়ে চলেছেন নিজের গন্তব্যের দিকে। অভিনয়ের দুনিয়ায় নিজস্ব পরিচয় গড়ে তোলার সেই লড়াইয়ে তিনি কতটা সফল হন, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষা।