মোহাম্মদ ওমর ফারুক চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
একদিকে বয়োবৃদ্ধা মা ও প্রতিবন্ধী বোন, অন্যদিকে স্ত্রী আর দুই সন্তানের অনাগত ভবিষ্যৎ—৬ সদস্যের বিশাল পরিবারের ভরপোষণ করতে গিয়ে চরম দিশেহারা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার বরমা ইউনিয়নের বাতাজুরি এলাকার সঞ্জিত দেব। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই কঠিন সময়ে দুমুঠো ভাতের সংস্থান করতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া তাঁর জন্য এক অলীক স্বপ্নে পরিণত হয়েছে। অভাবের করাল গ্রাসে ঢাকা পড়েছে পুরো পরিবারটির হাসি। কোনো উপায় না পেয়ে অবশেষে নিজের একটি আয়ের সংস্থান ও পরিবারটিকে বাঁচিয়ে রাখতে দেশ-বিদেশের বিত্তবান দাতা ও চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ- সাতকানিয়া আংশিক) আসনের স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন আহমেদের কাছে একটি অটোরিকশার আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দনাইশের বরমা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাতাজুরি গ্রামের বাসিন্দা সঞ্জিত দেবের পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৬ জন। তাঁর ঘরে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী বোন, স্ত্রী এবং দুই সন্তান। পরিবারে দিন এনে দিন খাওয়ার মতো কোনো স্থায়ী ও নিশ্চিত আয়ের উৎস নেই। জমানো কোনো সম্বল বা কৃষিজমিও নেই যেখান থেকে সামান্য আয়ের পথ বের হবে। ফলে দিন যতই যাচ্ছে, ঋণের বোঝা আর পেটের ক্ষুধা তাদের জীবনকে আরও দুর্বিষহ করে তুলছে। পরিবারের এমন টানাটানির মধ্যেও সঞ্জিত দেব তাঁর সন্তানদের শিক্ষিত করার প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁর বড় মেয়ে বরমা ডিগ্রি কলেজে ইন্টারমিডিয়েট দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। অদম্য ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কলেজের বেতন ও বই-খাতার খরচ মেটাতে না পেরে মেয়েটির শিক্ষা জীবন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। অন্যদিকে, তাঁর ছোট ছেলে এ বছর এসএসসি পরীক্ষা শেষ করলেও তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে আগামীতে কোথাও ভর্তি করানো বা পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পরিবারের চরম দারিদ্র্য এখন দুই সম্ভাবনাময় সন্তানের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিজের অসহায়ত্বের কথা জানাতে গিয়ে চোখ সজল হয়ে ওঠে সঞ্জিত দেবের। তিনি বলেন, “বয়স্ক মা আর প্রতিবন্ধী বোনের ওষুধপত্র, তার ওপর সন্তানদের পড়ালেখা—সব মিলিয়ে আমি আর পেরে উঠছি না। প্রতিদিন সকালে উঠে সন্তানদের মুখের দিকে তাকালে বুকটা ফেটে যায়। আমি কারও কাছে কোনো বড় সাহায্য বা দান চাই না, আমি শুধু খেটে খাওয়ার একটি মাধ্যম চাই। আমাকে যদি একটি সিএনজি অটোরিকশা কিনে বা ব্যবস্থা করে দেওয়া হতো, তবে চালকের আসনে বসে দিনরাত পরিশ্রম করে অন্তত পরিবারটিকে টিকিয়ে রাখতে পারতাম। ডাল-ভাত খেয়ে সন্তান দুটোকে পড়ালেখা করাতে পারতাম।” এলাকাবাসীর মতে, সঞ্জিত দেব একজন পরিশ্রমী ও সৎ মানুষ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ তিনি ও তাঁর পরিবার সম্পূর্ণ অসহায়। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী দানশীল ভাই ও মানবিক জনপ্রতিনিধিরা যদি একটু সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে একটি অটোরিকশাই পারে এই হতাশাগ্রস্ত পরিবারের জীবনে আশার আলো জ্বালতে এবং সন্তানদের ভেস্তে যেতে বসা ভবিষ্যৎকে রক্ষা করতে।