নয়ন নাথ, ফটিকছড়ি
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে শাশুড়িকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কু'পি'য়ে হ:ত্যাচে:ষ্টা:'র অভিযোগে আকলিমা আক্তার নামে এক পুত্রবধূকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টুনার গাজির বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় শাহেদা বেগম (৫৩) গুরুতর আহত হন। তাঁর মাথায় একাধিক কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত শাহেদা বেগমকে ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুন প্রবাসী মঈন উদ্দিন ফয়সালের সঙ্গে আকলিমা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তিনি শাশুড়ি শাহেদা বেগমের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে খাবার শেষে শাহেদা বেগম ও আকলিমা একই ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঘুমন্ত অবস্থায় শাহেদা বেগমের ওপর আকলিমা ধারালো ছুরি নিয়ে হামলা করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় তাঁর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। এতে মাথার বিভিন্ন স্থানে গুরুতর কাটা ও রক্তাক্ত জখম হয়।
একপর্যায়ে আত্মরক্ষার জন্য শাহেদা বেগম আকলিমার হাতে কামড় দেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করেন।
এ ঘটনায় শাহেদা বেগমের মেয়ে ফারজানা আকতার পপি বাদী হয়ে তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী আকলিমা আক্তারকে আসামি করে ফটিকছড়ি থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর ১৫ সেপ্টেম্বর আকলিমাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়।
পরিবারের সদস্যদের দাবি, অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়কে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আকলিমার বাবা। তাঁর দাবি, তাঁর মেয়ের সঙ্গে অন্য কারও কোনো সম্পর্ক নেই।
ফটিকছড়ি থানার সেকেন্ড অফিসার (এসআই) সুমন দাস বলেন, “এ ঘটনায় হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে।