তরুণ বিশ্বাস,কলকাতা-
শিশুর অধিকার,নিরাপত্তা, সুরক্ষা ও পুনর্বাসনকে আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে উত্তর ২৪ পরগনায় অনুষ্ঠিত হল গুরুত্বপূর্ণ জেলা-স্তরের পরামর্শমূলক সভা। কিশোর বিচার শিশুদের যত্ন ও সুরক্ষা আইন,২০১৫-এর দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে বৃহস্পতি বার,২০ আগস্ট ২০২৬ জেলা শাসকের দপ্তরের সম্মেলন কক্ষে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কলকাতা হাইকোর্টের কিশোর বিচার কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী আয়োজিত এই সভায় বিচার বিভাগ,জেলা প্রশাসন পুলিশসমাজ কল্যাণ দফতর এবং শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের আধিকারিক ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত ছিলেন উত্তর ২৪ পরগনার জেলা ও দায়রা বিচারক তথা জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান,জেলা শাসক, বনগাঁ,বসিরহাট ও ব্যারাক পুরের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা বিচারক, বারাসত শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আদালতের বিচারক,বিধাননগরের সাংসদ-বিধায়ক আদালতের বিচারক, জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব, কিশোর বিচার পর্ষদের প্রধান বিচারিক আধিকারিক -সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা। সভায় কিশোর বিচার ব্যবস্থার কার্যকর বাস্তবায়নে কিশোর বিচার পর্ষদ,শিশু কল্যাণ কমিটি, পুলিশ,প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থা গুলির মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। জেলা ও দায়রা বিচারক তথা জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বলেন আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু কিংবা যত্ন ও সুরক্ষার প্রয়োজন রয়েছে এমন শিশু উভয় ক্ষেত্রেই নিরাপদ, সুরক্ষিত ও শিশুবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য সংশ্লিষ্ট প্রত্যেক পক্ষকে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষের সচিব সময়মতো হস্তক্ষেপ,ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের দ্রুত শনাক্তকরণ,পুনর্বাসন এবং সমাজের মূলস্রোতে তাদের পুনঃএকত্রীকরণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, কিশোর বিচার ব্যবস্থার প্রতিটি পর্যায়ে শিশুর সর্বোত্তম স্বার্থকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। জেলা শাসক শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা,কল্যাণ এবং সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সভায় উপস্থিত বিচারক,পুলিশ আধিকারিক এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা,পর্যবেক্ষণ ও বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন। আলোচনায় কিশোর বিচার ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করার পাশাপাশি দ্রুত হস্তক্ষেপ, আন্তঃ দফতর সমন্বয়, পুনর্বাসন এবং শিশুকে সমাজের মূলস্রোতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মতামত উঠে আসে। ফলে সভাটি হয়ে ওঠে অত্যন্ত প্রাণবন্ত, আলোচনামূলক ও ফলপ্রসূ। দশ বছরের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে আগামী দিনে কিশোর বিচার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর,সংবেদনশীল ও শিশুবান্ধব করে তোলাই ছিল সভার মূল লক্ষ্য। জেলা স্তরের এই পরামর্শ মূলক সভা থেকে উঠে আসা গুরুত্বপূর্ণ মতামত ও সুপারিশ পরবর্তী রাজ্য-স্তরের সভা এবং কিশোর বিচার আইন-২০১৫ এর দশ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত একাদশ জাতীয় পরামর্শ মূলক সভায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।