
আনোয়ারা (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কৈনপুরা মৌজায় ৬৬ শতক খরিদা জমি একটি মহল জবর দখলের পাঁয়তারা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। জমির মালিক ঢাকায় বসবাস করার সুবাদে ওই জমিতে থাকা গাছপালা নষ্ট করে জোরপূর্বক দখলে নেয়ার চেষ্টা করে প্রতিপক্ষরা।
উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের কৈনপুরা গ্রামের রঘুপতি সেন ও তার স্ত্রী শিউলী সিংহের জমি দখলের পাঁয়তারা করছে তারা। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর ভাই তাপস সেন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারী অভিযোগ দায়ের করেছেন। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনোয়ারা থানার এসআই ও তদন্ত কর্মকর্তা জুয়েল মিয়া।
অভিযুক্তরা হলেন-একই গ্রামের রিপন কান্তি দত্ত (৪০), সুরজিৎ দত্ত (৩৬), অশোক কুমার দত্ত (৬৫), পঞ্চানন দত্ত (২৫), পংকজ দত্ত (৩৮) ও বিশ্বরুপ দত্ত (৫৮)। ইতিমধ্যে আদালত তাদের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৯ জুন ২৬০২ নম্বর রেজিস্ট্রি দলিলমূলে রিপন কান্তি দত্ত গং থেকে ৬৬ শতক বা ৩৩ গন্ডা জমি খরিদ করেন রঘুপতি সেন ও তার স্ত্রী। পরে নামজারি খতিয়ান সৃজন করে খাজনাদি আদায়ে ভোগদখলে যান তারা। কিন্তু ওই জমিতে মাটি ভরাট করতে গেলে রিপন দত্তসহ অন্যান্যরা অবৈধ লাভের আশায় ৩৫ লাখ চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে অপারগ হলে রঘুপতি সেনকে অপহরণ করে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। এরপর থেকে জমিজমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অভিযুক্তরা বারবার তার ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে শত্রুতা করে আসছে।
স্থানীয়রা জানায়, পারিবারিকভাবে জমি-জমা নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি করে রঘুপতি সেনের মালিকানাধীন জমি দখলের চেষ্টা চালাতে থাকে এবং ওই জমিতে বেআইনিভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।
এদিকে ওই ভূমিতে থাকা টিনের ঘেরাবেড়া ও পাকা পিলার ভেঙে গাছপালা নষ্ট করে তান্ডব চালায় তারা। এতে রঘুপতি সেনের প্রায় ৭০ হাজার টাকা ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া বসতবাড়িতে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয় তারা। খবর পেয়ে রঘুপতি সেন ও তার ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে বাধা দিলে তাদেরকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং হত্যার হুমকি দেয়। ৩৫ লাখ টাকা চাঁদা না দিলে তার ভোগ দখলকৃত সম্পত্তি জবর দখল এবং বসতবাড়ি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়ার হুমকি দেয়। তাদের হুমকিতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তা হীনতায় ভুগছেন।
এ বিষয়ে জমির খরিদাসূত্রে মালিক রঘুপতি সেন বলেন, ওই জমি কিনে সাফ কবলায় রেজিস্ট্রিসহ নামজারিও করা হয়েছে। মূলত টাকার লোভে পড়ে কয়েকজন আমার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করছে তারা। চাঁদা না পাওয়ায় তারা ওই জমিতে কাজ করতে দিচ্ছে না।
তবে অভিযুক্তদের কয়েকজনকে মুঠোফোনে কল করা হলে রিসিভ না করায় এসব বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অভিযোগের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা আনোয়ারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জুয়েল মিয়া বলেন, ‘ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। রঘুপতি সেন গং ওই জমিতে সাইনবোর্ড টানিয়ে ভোগদখলে আছে।’